Pages

Categories

Search

আজ- শনিবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

মান্দায় ক্লিনিকে নবজাতক ফেলে নিরুদ্দেশ মা

সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৭
নওগাঁ
No Comment


মোঃ হাবিবুর রহমান , মান্দা (নওগাঁ) সংবাদদাতাঃ নওগাঁর মান্দায় নবজাতক এক শিশু সন্তানকে ক্লিনিকে ফেলে তার মা নিরুদ্দেশ হয়েছেন। শিশুটি গত পাঁচ দিন ধরে উপজেলার দেলুয়াবাড়ি বাজারের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় রোগমুক্তি ক্লিনিকে মালিকের তত্বাবধানে রয়েছে। খবর ছড়িয়ে পড়ায় শিশুটিকে দত্তক নিতে অন্তত ২০ জন দম্পতি ক্লিনিক মালিকের কাছে ধর্ণা দিয়ে যাচ্ছেন। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ শিশুটিকে বিক্রি করছে এমন সংবাদ সোমবার দুপুরে ছড়িয়ে পড়লে এলাকাজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। ক্লিনিকে রোগি ভর্তির রেজিস্টার সুত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে বিথি (২০) নামে অন্তসত্তা এক নারী ভর্তি হন। রেজিস্টারে বাবার নাম শহিদুল, গ্রাম পারশিমলা, উপজেলা মান্দা, জেলা নওগাঁ লেখা রয়েছে। রাত ৩টার দিকে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ওই নারী একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। জানা গেছে শুক্রবার বেলা ১০ টার দিকে নবজাতককে ক্লিনিকে ফেলে ওই নারী ও তার বাবা পরিচয়দানকারী ব্যক্তি সটকে পড়েন। এ সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে শনিবার সকাল থেকে শিশুটিকে এক নজর দেখার জন্য এলাকার শতশত নারী-পুরুষ ক্লিনিকে ভীড় জমান। শিশুটিকে দত্তক নিতে অন্তত ২০ জন দম্পত্তি ধর্ণা দিয়ে যাচ্ছেন ক্লিনিক মালিকের কাছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন দম্পত্তি জানান, তাদের কোনো সন্তান নেই। শিশুটিকে দত্তক নিয়ে নিজের সন্তানের মত মানুষ করার ইচ্ছে রয়েছে তাদের। দেলুয়াবাড়ি বাজারের এক দোকান কর্মচারী শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার ইচ্ছাপোষণ করেছেন। কিন্তু ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তার নিকট শিশুটির দাম চেয়েছে ৫০ হাজার টাকা। তিনি ২০ হাজার টাকায় শিশুটিকে কিনে নেওয়ার কথা জানালেও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তাতে রাজি হননি। সোমবার দুপুরে ওই ক্লিনিকে গিয়ে দেখা গেছে নার্স পরিচয়দানকারী আছিয়া বেগম নামে এক নারী শিশুটির পরিচর্যা করছেন। স্থানীয়দের দাবি, শুক্রবার সকালে ক্লিনিকে শিশুটিকে ফেলে নিরুদ্দেশ হয়েছেন তার মা। ক্লিনিকের পরিচালক আমিনুল ইসলাম শিশুটির মা ও অভিভাবকের স্বাক্ষর সম্বলিত ১০০ টাকা মুল্যের নন জুডিশিয়াল ফাঁকা যে স্ট্যাম্প উপস্থাপন করছেন তাতে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। তবে শিশুটিকে বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রোগমুক্তি ক্লিনিকের পরিচালক আমিনুল ইসলাম। তিনি দাবি করেন, শুক্রবার বেলা ১০টার দিকে ওই নারী ও তার বাবা না দাবি লিখে দিয়ে চলে যান। এরপর থেকে শিশুটি তার তত্বাবধানে রয়েছে। এ বিষয়ে গত রোববার মান্দা থানায় একটি সাধারণ ডাইরি করা হয়েছে। মান্দা থানার কর্মকর্তা ইনচার্জ (ওসি) আনিসুর রহমান এ সংক্রান্তে থানায় সাধারণ ডাইরির বিষয়টি নিশ্চিত করেন।