Pages

Categories

Search

আজ- শুক্রবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

মান্দায় কালবৈশাখীর তান্ডব, বাড়িঘর লন্ডভন্ড

মে ৩, ২০১৭
নওগাঁ, প্রযুক্তি
No Comment


মোঃ হাবিবুর রহমান, মান্দা (নওগাঁ) সংবাদদাতাঃ নওগাঁর মান্দায় কালবৈশাখীর তান্ডবে বাড়িঘর লন্ডভন্ডসহ মওসুমী ফসলের ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়েছে। অসংখ্য গাছপালা ভেঙ্গে ও উপড়ে গেছে। বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে ও খুঁটি ভেঙ্গে পড়ায় ৩ দিন ধরে অন্ধকারে রয়েছে পুরো উপজেলা। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বোরো ধানের ক্ষেত। গত মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ২০ মিনিট থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত একটানা কালবৈশাখীর এ তান্ডব চলে। মঙ্গলবার সন্ধ্যার আগ মুহুর্তে পশ্চিম আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায়। এর কিছু পরেই দক্ষিণ-পশ্চিম কোণ থেকে ধেয়ে আসে কালবৈশাখী ঝড়। সঙ্গে শুরু হয় শিলাবৃষ্টি। তান্ডবে বহু পাকাবাড়িসহ দোকানপাটের টিনের ছাউনি উড়ে যায়। ভেঙ্গে পড়ে কাঁচা ঘরবাড়ি। উপড়ে ও ভেঙ্গে গেছে অসংখ্য গাছপালা। এতে উপজেলার বিভিন্ন রাস্তায় যানবাহন বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয়দের কয়েক ঘন্টার চেষ্টায় রাস্তা থেকে এসব গাছপালা সরিয়ে নেওয়ার পর রাস্তায় যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়। ঝড়ের তান্ডবে বোরো ধান ও পাটের ক্ষেত, কলাবাগানসহ মওসুমী ফসল পটল, বেগুন, বরবটি, মিষ্টি কুমড়া ও লাউয়ের ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়েছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে আম, কাঁঠাল ও লিচু বাগান। বাগান মালিক টিটিহারী গ্রামের আরফান হোসেন, বড়বেলালদহ গ্রামের সাদেকুল ইসলাম, লিচু বাগান মালিক আলমগীর হোসেন, সাবাই গ্রামের আব্দুর রশিদ, শিংগা গ্রামের সামসুল আলমসহ আরো অনেকে জানান, ঝড়ে তাদের বাগানের অধিকাংশ আম ও লিচু ঝরে গেছে। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে এ বছর আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবেন তারা। ঝড়ে বিধ্বস্ত হয়েছে ইনডেকস বিএম এন্ড জেনারেল কলেজসহ বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। অন্যদিকে ঝড়ে গাইহানা কৃষ্ণপুর গ্রামের মোজাহার হোসেন, আফসার আলী, আজিজুল হক ও আজাহার আলী, বড়বেলালদহ গ্রামের ছালেহা বেওয়া, ছোটবেলালদহ গ্রামের আক্কাস আলী, পীরপালি গ্রামের শাহজাহান আলী, পশ্চিম নুরুল্ল্যাবাদ গ্রামের মিজানুর রহমান, পুঁজাঘাটি গ্রামের অমল চন্দ্রসহ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে অন্তত কয়েক হাজার ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে বলে প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে। এদিকে সোমবার রাত পৌণে ৮টার দিকে কালবৈশাখীর তান্ডবে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে ও খুঁটি ভেঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। মঙ্গলবার দিনভর বিদ্যুতের সংস্কার কাজ চলা অবস্থায় আবারো আঘাত হানে কালবৈশাখীর ছোবল। এতে উপজেলার শতাধিক বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙ্গে ও উপড়ে যায়। অসংখ্যস্থানে ছিঁড়ে গেছে তার। মান্দা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মিলন কুমার কুন্ডু বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ মুহুর্তে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান নিরুপন করা সম্ভব হয়নি। বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক করতে অন্তত ১০ দিন সময় লাগতে পারে বলে দাবি করেন তিনি। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান, ইতোমধ্যে নুরুল্ল্যাবাদ, তেঁতুলিয়া, পরানপুর, মান্দা ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা তার দপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে। অন্য ইউনিয়নগুলো তালিকা এখন পর্যন্ত হাতে পাননি। এ জন্য ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিসংখ্যান দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে তিনি জানান। উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুরুজ্জামান জানান, জরুরী তালিকা তৈরির জন্য প্রত্যেক ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তালিকা হাতে পেলে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারে সহায়তা প্রদান করা হবে।