Pages

Categories

Search

আজ- বুধবার ১৪ নভেম্বর ২০১৮

মান্দায় ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্ছিত প্রায় ৫০ হাজার বন্যার্ত মানুষ

সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৭
নওগাঁ
No Comment

মোঃ হাবিবুর রহমান, মান্দা (নওগাঁ) সংবাদদাতাঃ ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে খুশি। কিন্তু ঈদের আনন্দ নেই নওগাঁর মান্দার বন্যা কবলিত এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ প্রায় ৫০ হাজার মানুষের মধ্যে। বন্যায় কবলিত শত শত পরিবার এখনও তাদের বসত বাড়িতে ফিরতে পারেনি। ঈদের আমেজও নেই তাদের মধ্যে।  বুধাবার সরেজমিনে বিভিন্নস্থানে গিয়ে দেখা যায় বানভাসী মানুষ অত্যন্ত মানবেতর জীবন যাপন করছেন। তারা কোনমতে বেঁচে আছেন। এবার মান্দা উপজেলার গোসাইপুর, বনিহারী, জোতবাজার, চকশল্যা, নুরুল্যাবাদ, কালিকাপুর, নলতৈর, পুকুরিয়া, বুড়িদহ, শামুকখোল, জোকাহাট সহ বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েন কমপক্ষে ৩ লাখ মানুষ। সহ¯্রাধিক বাড়িঘর চলে গেছে নদীগর্ভে। সহায় সম্বল হারানো মানুষের জীবন অতিবাহিত করতেই নাভীশ্বাস। সেখানে এবারের ঈদে তাদের নেই কোন অনুভূতি। লাগেনি ঈদের আনন্দের ছোঁয়া। ক্ষোভ প্রকাশ করে আশ্রয় নেয়া বানভাসী অনেকেই জানান, খোলা আকাশের নিচে ঝুপড়ি তুলে মানবেতর জীবন যাপন করছি। কোন জনদরদী-জনপ্রতিনিধি বা সরকারি কোন লোকজন ঈদ সামগ্রী নিয়ে আসেনি। সন্তানদের নিয়ে কোন রকমে এই খোলা আকাশের নিচে বেঁচে আছি। বারিল্যা গ্রামের হোসেন আলী জানান, এবার বন্যায় আমাদের ঈদগাহ ডুবে যাওয়ার কারনে আমরা ঈদের নামাজ পড়তে পারিনি। বুড়িদহ গ্রামের মনিক হোসেন জানান, বাড়ি থেকে পানি নেমে গেলেও এখনও বসবাসের উপযুক্ত হয়নি। বাধ্য হয়েই তাই রাস্তায় খোলা আকাশের নিচে খুব কষ্টে বসবাস করছি। সন্তানদের নিয়ে কোন রকমে দিন কাটাচ্ছি। ঈদের কথা বললে তিনি জানান, গরীবের আবার ঈদ। বন্যায় সব ভাইসা নিয়ে গেছে। শুকনা খাবার খেয়ে ঈদ পার করেছি। মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুজ্জামান বলেন বন্যা কবলিতদের যথাসাধ্য সাহায্য করা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্থদের আরো সাহায্য করা হবে। প্রকৃতির নিয়ম মেনেই সুখে-দুখে আমাদের জীবন কাটাতে হবে। ঈদে কিছুটা কষ্ট হলেও আশা করছি বন্যার্তরা পরিবেশের সাথে নিজেদেরকে মানিয়ে নিবে।