Pages

Categories

Search

আজ- শুক্রবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

মান্দায় আত্রাই নদীর বন্যার পানিতে বাড়িঘর নিমজ্জিত

অগাষ্ট ১৪, ২০১৭
জনদুর্ভোগ, নওগাঁ, প্রকৃতি
No Comment


আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ প্রতিনিধি: উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে ও প্রবল বর্ষণে নওগাঁর মান্দা উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত আত্রাই নদীর পানি  রোববার বিপদ সীমার ২০০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে পানি উন্নয়ন র্বোড সুত্রে জানা গেছে। ৫টি স্থানের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়ি বাঁধে ভাঙ্গন দেখা দেয়ায় বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। বন্যার পানি বৃদ্ধি অব্যহত থাকায় নদীপাড়ের মানুষেরা নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন।
গত বৃহস্পতিবার থেকে আত্রাই নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছিল। শুক্রবার ও শনিবার থেকে তা আরো বেড়ে বিকেলের মধ্যেই বিপদ সীমা অতিক্রম করে। বর্তমানে আত্রাই নদীর আয়াপুর থেকে জোতবাজার, নুরুল্যাবাদ থেকে খোর্দ্দবান্দাইখাড়া পর্যন্ত পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধ এবং বানডুবি থেকে মিঠাপুর পর্যন্ত ২৬ কিলোমিটার বিশ্ববাঁধ রাস্তা, রাণী নদীর (ফক্কিনী) নুরুল্যাবাদ থেকে ফতেপুর পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার বাঁধের রাস্তার প্রায় অর্ধশত পয়েন্ট বিপদ সীমার মধ্যে রয়েছে। যেকোন সময় এসব পয়েন্ট ভেঙ্গে বির্স্তীণ এলাকা প্লাবিত হতে পারে বলে এসব এলাকার বাসিন্দারা আশংকা প্রকাশ করেছেন। অনেক পয়েন্টে নাম মাত্র কিছু বস্তা সরবারহ করেছেন স্থানীয় চেয়ারম্যানরা। তবে এখন পর্যন্ত কোন সরকারী সাহায্য বা ত্রাণ তাদের কাছে না পৌঁছায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন বন্যা কবলিত এলাকার এসব অসহায় মানুষ।

রোববার আত্রাই নদীর উপজেলার কশব ইউনিয়নের পাজরভাঙ্গা সমির শাহর বাড়ির নিকট বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়ি বাঁধ ভেঙ্গে ২৭৫টি পরিবার পানির নিচে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। এছাড়া দক্ষিণ চকবালু হিন্দুপাড়া নামক স্থানে সকাল ৯টায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে গেলে ৫০-৬০টি বাড়ি পানির নিচে তলিয়ে যায়। নুরুল্যাবাদ উত্তরপাড়া বেড়ি বাঁধ , বিকেল সোয়া ৩টায় চকরামপুর গোয়ান মৃধার মোড়ে কয়লা বাড়ি সংলগ্ন বেড়িবাঁধ এবং ৪টায় বাইবুল্লা বেড়ি বাঁধ ভেঙ্গে যায়। এতে প্রায় সহ¯্রাধিক বিঘা জমির আমন ধানসহ অন্যান্য ফসল পানিতে তলিয়ে গেলে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। বর্তমানে অসহায় পরিবারগুলো বাঁধ ও তদসংলগ্ন রাস্তা,বিশ্ববাঁধসহ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন।
খবর পেয়ে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুর রশিদ,উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: নুরুজ্জামান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রেজাউল করিম, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী, চেয়ারম্যান নওফেল আলী মন্ডল, বেলাল হোসেন খান, নুর মোহাম্মদ, ইব্রাহিম হোসেন মন্ডল বাবু, জাহাঙ্গীর আলম সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তারা অসহায় বর্ন্যাতদের সাম্ভাব্য সব রকমের সাহায্যের আশ্বাস দেন।

অপর দিকে ১৪ নং বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের চকরামপুর উত্তরপাড়ায় বন্যার কবলে পড়েছে। রাত থেকে সেখানে ১৫-২০জন সেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে গর্ত ও ছোট ছোট ভাঙ্গা স্থান মাটি দিয়ে মেরামতের কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। এছাড়া পার নুরুল্যাবাদ সরদারপাড়া বাঁধের পুরাতন ইংলেটে যাতে বন্যার কবল থেকে তারা রেহাই পান। তাছাড়া ঘোষপাড়া তালপাতিলা ও বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের চকশৈল্যা, ফতেপুর, ভালাইন ইউপি’র আয়াপুর,পাঠাকাঠা,বানডুবি, মান্দা ইউপি’র দোসতিনা, কালিকাপুর, দোসতি, কামারকুড়ি, কয়াপাড়া, গনেশপুর ইউপি’র দক্ষিণ পারইল, প্রসাদপুর ইউপি’র প্রসাদপুর বাজার খেয়াঘাট, খুদিয়াডাঙ্গা, দ্বারিয়াপুর, কুশুম্বা ইউপি’র ছোটবেলালদহ, শামুকখোল (বুড়িদহ) গ্রাম বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এসব গ্রামের অসহায় প্রায় সহ¯্রাধিক বর্ন্যাত পরিবারগুলো স্থানীয় বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজন, বিশ্ববাঁধসহ রাস্তায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। বন্যা কবলিত এসব গ্রামের মানুষের এখন খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির চরম সংকট দেখা দিয়েছে। তারা মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।