Pages

Categories

Search

আজ- বৃহস্পতিবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮

মান্দার মেধাবী ছাত্রী শারমিনের উচ্চ শিক্ষা কি বন্ধ হয়ে যাবে ?

মে ১০, ২০১৭
নওগাঁ, মেধাবী মুখ
No Comment

মোঃ হাবিবুর রহমান, মান্দা (নওগাঁ) সংবাদদাতাঃ ইচ্ছে, আন্তরিকতা এবং নিরলস পরিশ্রম থাকলে যে কোনো কঠিন কাজেই যে সাফল্য লাভ করা যায় আরেকবার তারই প্রমাণ দিল সাহাপুকুরিয়া গ্রামের স্বামী পরিত্যাক্তা মোছাঃ মালা খাতুনের মেয়ে মোছাঃ শারমিন পারভীন। নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার সাহাপুকুরিয়া গ্রামের এই শারমিন পারভীন দারিদ্রকে জয় করে সব পেছনের কথাকে হার মানিয়ে সাহাপুর ডিএ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৭ সালের এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ পাওয়ায় খুশি তার বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও গ্রামবাসী।
সে জেএসসি পরীক্ষায় একই বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছিল। তাছাড়া সাহাপুর ঢোলপুকুরিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শিক্ষা সমাপনী ২০১১ এর পরীক্ষাতেও সে প্রতিটি বিষয়ে এ প্লাস পেয়েছে। ভবিষ্যতে সে উচ্চ শিক্ষা অর্জন করে ভাল একটি সরকারী চাকুরি করতে চায় বলে জানায়। কিন্তু এ সময় সবচেয়ে কাছে থাকার কথা ছিল যে পিতাকে, সে যখন শারমিনের বয়স মাত্র তিন মাস তখনই একমাত্র আদরের কন্যা সন্তান ও তার মাকে ফেলে রেখে চলে গেছে। ফলে শারমিনের আশ্রয় হয় নানা ইনু মোল্লার বাড়িতেই। গত বছর ২৭ জানুয়ারী নানা মারা যান। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস পরের দিন নানী পদ্ম বিবি ও মারা যান। ফলে বর্তমানে মা ও মেয়েকে দেখার মতো এ দুনিয়ায় আর কেউ বেঁচে নেই। তাহলে কি এসএসসি’তে এ প্লাস পাওয়া মেধাবী ছাত্রী শারমিনের উচ্চ শিক্ষা কি বন্ধ হয়ে যাবে ? সেই চিন্তায় অসহায় পরিবারটি এখন দু’চোখে অন্ধকার দেখছে।

তাই পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে সবার মুখে মুখে হাসি থাকলেও শারমিনের মা মালা খাতুনের মুখে নেই কোনো সুখের হাসি, কারণ তার শঙ্কা অর্থাভাবে মেয়ের উচ্চ শিক্ষার দরজা হয়তো এবার চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে। কারণ নুন আনতে যাদের পানতা ফুর্য়া, তাদের পক্ষে কি আবার উচ্চ শিক্ষা অর্জনের জন্য এতো টাকা জোগাড় করার সাধ্য হবে? কে নেবে এ অসহায় মেয়ের উচ্চ শিক্ষার দায়-দায়িত্ব সেই চিন্তায় এখন তাদের পেয়ে বসেছে।
অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে ও বিভিন্ন জায়গায় নিরলস ভাবে খেটে পরিবারের দু’মুঠো ভাত জোগাতে যার দেখার কেউ নেই সে কি মেধাবী মেয়েকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করতে পারবে? এমনটিই বললেন মালা খাতুন। তিনি জানান, দিনের পর দিন অক্লান্ত পরিশ্রম করে অনেক কষ্টে মেয়েকে লেখাপড়া করিয়েছি যার ফলে সে আজ জিপিএ গোল্ডন-৫ পেয়েছে। কিন্তু অক্লান্ত পরিশ্রম করেও পড়াশোনার এতো খরচ বহন করা আমার পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাড়িয়েছে। এ-প্লাস পেয়ে পাশ করলে সবাই খুশি হয়,মিষ্টি খাওয়ায়। কিন্তু আমার মনে কোন খুশি নেই। কারণ এখন অর্থাভাবে মেয়েকে এইচ এসসি শ্রেণীতে ভর্তি করাতে পারবেন কিনা তাই নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। যদিও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিক গোলাম সরোয়ার স্বপন শারমিনের ৬ ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে ১০ শ্রেণী পর্যন্ত নানা সহযোগিতা করেছেন। ভর্তির ব্যাপারে কিছু সহযোগিতার আস্বাসও দিয়েছেন। তার ভর্তির শেষ সময় ২৬ মে পর্যন্ত। একটু সহযোগিতা পেলেই সে একদিন অনেক বড় কিছু করতে পারবে বলে সকলের বিশ্বাস।

একই গ্রামের বাসিন্দা মামা সর্ম্পকে মো. শহিদুল ইসলাম মাস্টার জানায়, অনেক সময় দেখা গেছে এসএসসি তে জিপিএ-৫ পাওয়া মেধাবী শিক্ষার্থী শারমিন না খেয়েই বিদ্যালয়ে ছুটে গেছে। তার মাকে দেখা গেছে দিনমুজুরী সহ ছোট খাট যেকোনো কাজ করতে।

কিন্তু অর্থাভাবে শারমিনের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাবে না তো ? তাই সকলে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে শারমিনের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে আর কোন বাঁধা থাকবেনা। তার সাথে যোগাযোগের ঠিকানা-মোছা: শারমিন পারভীন, সাহাপুর ডিএ উচ্চ বিদ্যালয়, এসএসসি রোল: ১২৮৮২৪, রেজি: ১৪১২৬৯২৪৩৪, মাতা: মোছা: মালা খাতুন, গ্রাম: সাহাপুকুরিয়া, ডাকঘর: প্রসাদপুর, উপজেলা: মান্দা, জেলা: নওগাঁ। মোবাইল নম্বর: ০১৭৩৬৫৩০৬৬৮ (অনুরোধে)।