Pages

Categories

Search

আজ- সোমবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

মান্দার প্রসাদপুর ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সদস্যদের অনাস্থা

অগাষ্ট ৮, ২০১৭
জনপ্রতিনিধি, নওগাঁ
No Comment


আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর মান্দার ৭নং প্রসাদপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন খানের বিরুদ্ধে ইউপি সদস্যরা অনাস্থা প্রস্তাব এনে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত অভিযোগপত্র দিয়েছে। নির্বাচিত ১২জন সদস্য-সদস্যাদের মধ্যে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ৯জন সদস্য-সদস্যাদের আনীত অনাস্থা প্রস্তাব ১৯৮৪ সালের ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এবং সদস্যদের পদত্যাগ, অপসারণ এবং পদ শূণ্য বিধি মোতাবেক যথাযথভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং ২০০৯ সালের ইউনিয়ন পরিষদ আইনের বিধান অনুসারে জনস্বার্থে এ অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অবশেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: নুরুজ্জামান এক সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। এতে তিনি নিজেই তদন্ত করছেন।

অভিযোগে পত্রে বলা হয়েছে, এ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন খানের বিরুদ্ধে নির্বাচিত হবার পর থেকে রাষ্ট্রবিরোধী, দূর্নীতি, অসৎ আচরণ এবং অর্থ আত্মসাতের কারণে ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়ন ও জনস্বার্থে এ অনাস্থা আনা হয়েছে। অনাস্থা প্রস্তাবে বলা হয়েছে , উপজেলা এডিপি, রাজস্ব (বিশেষ) খাতের ৪ লাখ টাকার সেলাই মেশিন ক্রয় প্রকল্প সর্ম্পকে সদস্য-সদস্যাদের কোন কিছু জানিয়ে অত্যন্ত গোপনে সভা ছাড়াই চেয়ারম্যান ভূয়া সভা দেখিয়ে প্রকল্পের কোন কাজ না করেই সমুদয় অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। এভাবে প্রসাদপুর ও বুড়িদহ খেয়াঘাটের ইজারার প্রায় ৫০ হাজার টাকা, থোক বরাদ্দ দক্ষতা ও কর্মতৎপরতা (পুরস্কার) প্রকল্পের সভাপতি সেজে ভূয়া সভা দেখিয়ে প্রায় ৮৭ হাজার টাকা, উপজেলা বন বিভাগ হতে প্রাপ্ত ৪৫,৪৬৭.৫০ টাকা ব্যাংক থেকে গোপনে উত্তোলনপূর্বক আত্মসাৎ। গোটগাড়ী হাটের ডাকের শতকরা ৪৬ ভাগ অর্থ দুই কিস্তিতে ৪৮,০৩০টাকা নিজ নামে চেক লিখে গোপনে উত্তোলনপূর্বক আত্মসাৎ। জন্ম নিবন্ধন ফি বাবদ ২০হাজার টাকা জনসাধারণেকে ভুল বুঝিয়ে ভুয়া স্লিপ দিয়ে আদায় করে আত্মসাৎ। ক,খ ও গ শ্রেণীর ভূমিহীন ব্যক্তিদের নিকট থেকে আদায়কৃত প্রায় ২০হাজার টাকা আত্মসাৎ, ইউরেটের আদায়কৃত অর্থ আত্মসাতের জন্য তার নিজস্ব তহবিলে রাখা, গোটগাড়ী অনুন্নত হাট উন্নয়ন রাজস্ব তহবিল থেকে প্রাপ্ত ৪ লাখ টাকার মধ্যে গোটগাড়ী ধান হাটিতে সিসি ঢালাই ২ লাখ টাকা ও গোটগাড়ী হাটের পারি নিষ্কাশনের নালা (ড্রেন) নির্মাণ ২লাখ টাকার প্রকল্পের কাজ অর্থ বছর শেষ হলেও কোন কাজ না করেই আত্মসাৎ।

গোটগাড়ী হাটের শতকরা ১৫ ভাগ অর্থের ভূয়া প্রকল্প দেখিয়ে আত্মসাৎ। বিধি অনুযায়ী কোন সদস্য একের অধিক প্রকল্পের সভাপতি হতে পারবেন না, কিন্তু শতকরা ১ ভাগ খাতের ৩লাখ টাকা যার তিনটি প্রকল্পের চেয়ারম্যান নিজেই সভাপতি সেজে আত্মসাৎ করেছেন। ইউপি’র নিজস্ব তহবিল খাত ৫০হাজার টাকার ভুয়া প্রকল্প ইনাতপুর, মীরপাড়া,ইনাতপুর মঞ্জিলতলা বাজারে ও প্রসাদপুর দরগাতলা (বিশ্ববাধ মোড়ে) বালু ও ব্যাটসের মাধ্যমে ভরাট প্রকল্পের কোন কাজ করা ছাড়াই চেয়ারম্যান নিজেই সভাপতি সেজে আত্মসাৎ করেছেন। টিআর-কাবিখা প্রকল্পের সভাপতি ছাড়াই চেয়ারম্যান কর্তৃক উক্ত প্রকল্পের টাকা উত্তোলনপূর্বক আত্মসাৎ, প্রসাদপুর ইউপি’র সাবেক সদস্য/সদস্যাদের ইউপি’র সম্মানী ভাতার ৫০,৪০০টাকা বর্তমান চেয়ারম্যান ভুয়া সভা দেখিয়ে উত্তোলনপূর্বক আত্মসাৎ করা হয়েছে।

এছাড়া প্রসাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের অ্যাম্বুলেন্স গাড়ীর ভাড়ার টাকা, ট্রেড লাইসেন্স ফি’র টাকা, পুরাতন ইউপি ভবনের ভাড়ার টাকা ও ইউপি চত্ত্বর দোকানঘর ভাড়ার টাকা চেয়ারম্যান আত্মসাৎ করে আসছেন। এ ইউপি’র ১০০জন মৃত বয়স্ক ভাতা, বিধবাভাতা ও প্রতিবন্ধি ভাতাভোগী নমিনীদেরকে প্রাপ্ত ভাতার টাকা না দিয়ে অর্থ আত্মসাতের চেষ্টাও করে যাচ্ছেন। যেন দেখার কেউ নেই। তার খুঁিটর জোর কোথায়? এ বিষয়গুলি ছাড়াও ২০০৮-২০০৯ অর্থ বছরের এলজিএসপি খাতের ৮,৫৭,৯১০টাকা আত্মস্যাতের দায়ে সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান ফয়েজ উদ্দিন সরদার নওগাঁ সিনিয়র বিশেষ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন। যার নং ০১পি/২০১৫। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি দূর্নীতি দমন কমিশনে (দূদক) প্রেরণ করেছেন। যা বিচারাধীন রয়েছে।

এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে ২০১০-২০১১ অর্থ বছরের এলজিএসপি খাতের ৪,৪৫,৪৫৮টাকা আত্মসাতের দায়ে জেনারেল সার্টিফিকেট কর্মকর্তার দায়ের করা একটি মামলা। বর্তমানে নওগাঁ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন জিআর-১১/২০১২(মান্দা) ও জিআর-১৩/২০১২ (মান্দা) মামলা, তাছাড়াও নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা ২৩৫/২০১৬, এবং আরো দুটি ফৌজদারী মামলা বিজ্ঞ আদালতে চলমান ও বিচারাধীন রয়েছে। উক্ত বিষয়গুলি ছাড়াও এলজিএসপি খাতে ৭৮,৫০০টাকা, অডিটের নাম করে ৭৫ হাজার টাকা, অতিদরিদ্রদের জন্য কমসর্ংস্থান কর্মসূচী (ইজিপিপি) প্রকল্প থেকে প্রথমে ৩৬,২৫০ টাকা এবং পরে ৪৭,২৫০ টাকা সদস্য/ প্রকল্প সভাপতির নিকট থেকে জোরর্পূবকভাবে আদায় করেন। ইউপি’র অসহায় হতদরিদ্র গরীব শ্রেণীর মানুষদেরকে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা বয়স্কভাতা, বিধবাভাতা,প্রতিবন্ধিভাতাও দরিদ্র মা’র জন্য মাতৃত্বকালীন ভাতাভোগিদের তালিকা পরিষদের সভার সিদ্ধান্ত ছাড়াই ভুয়া তালিকা উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের নিকট দাখিলের চেষ্টা করলে ২৫/০৭/২০১৭ খ্রি: তারিখে লিখিত অভিযোগ দিলে সদস্যদের উপর চরম ক্ষিপ্ত হন। তাছাড়া চেয়ারম্যান বেলাল খান প্রসাদপুর ইউপি’র নির্বাচিত সদস্য/সদস্যাদের সাথে অবজ্ঞা ও হেয়প্রতিপন্ন পূর্বক অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ, কটুক্তি পূর্ণ কথাবার্তাসহ সর্বদায় ভয়-ভীতি দেখান।

অনাস্থার অভিযোগ বিষয়ে প্রসাদপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন খান জানান, কার স্বার্থের প্রতিকুলে গেলে অনেক কথাই তো শোনা যায়। তার বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবের এসব অভিযোগ বিষয়েরও কোন ভিত্তি নেই বলে তিনি দাবী করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: নুরুজ্জামান অনাস্থা প্রস্তাব পাওয়ার কথা স্বীকার করে জানান, ৯জন সদস্য-সদস্যা স্বাক্ষরিত একটি অনাস্থার অভিযোগপত্র তিনি পেয়েছেন। তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি নিজেই তদন্ত করছেন। এ পর্যন্ত তদন্তে কোন অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি বলেও তিনি জানান। থোক বরাদ্দ দক্ষতা ও কর্মতৎপরতা (পুরস্কার) প্রকল্পের প্রায় ৮৭ হাজার টাকা প্রসাদপুর খেয়াঘাট সংলগ্ন পুরাতন অর্ধ ভগ্ন দালানটি ব্যবহারের একেবারে অনুপযোগি হওয়ায় বর্তমানে তা মেরামতের জন্য কাজ শুরু করা হয়েছে। একতলার ছাদ নির্মাণ করে ও আনুসঙ্গিক অন্যান্য মেরামত করার পর জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য উন্মূক্ত করার লক্ষ্যে সেখানে একটি গেস্ট হাউস নির্মাণ করা হচ্ছে। এ প্রকল্পে চেয়ারম্যান সাহেব টাকা প্রদান করেছেন। যা একটি ভালো উদ্যোগ। তবে গাছ কাটা বিষয়ের তদন্ত এখনও চলছে। তাছাড়া তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়্ াহবে।