Pages

Categories

Search

আজ- বুধবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮

মানুষ পেটানো, লুটপাট ও অনিয়মের অপর নাম মান্দার ইউএনও!

মোঃ হাবিবুর রহমান, (মান্নদা)ওগাঁ প্রতিনিধিঃ নওগাঁর মান্দা উপজেলার মানুষ পেটানো নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নুরুজ্জামান দুর্নীতিতেও সর্বকালের রেকর্ড , গড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। জামায়াত দলীয় উপজেলা চেয়ারম্যানকে ব্যবহার এবং বিএনপি দলীয় দুই ভাইস চেয়ারম্যানকে কোনঠাসা করে বিভিন্ন হাট ও ইটভাটা থেকে চাঁদা উত্তোলন, বিনা টেন্ডারে সরকারী গাছ কর্তন, প্রকল্প বাছাই কমিটি না করেই প্রকল্প তৈরী, উপজেলা পরিষদের উন্নয়ন কাজে উপজেলা প্রকৌশলীকে বাদ দিয়ে নিজের পছন্দের বিএমডিএ, শিক্ষা এবং জনস্বাস্থ্য বিভাগের প্রকৌশলীদের দিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে লুটপাট, হাইকোর্টে বিচারাধীন পুকুর অবৈধ ভাবে লিজ প্রদান এবং সেখান থেকে জোর পুর্বক লক্ষ-লক্ষ টাকার মাছ ধরে বিক্রয় করার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নুরুজ্জামান গত ১জানু/১৭ মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। তার কার্যালয় উপজেলা পরিষদে হলেও হাজির থাকেন না নিয়মিত। সময়মত ও নিয়মিত অফিসে না এসে উপজেলার বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজ করেন বাস ভবনে বসে। অনেক সময় সকাল ১০টার মিটিংয়ে আসেন বিকেল ৪টায়, ফলে নানা কাজে আসা লোকজন তার দেখা পান না। তবে বাইরে রাস্তাঘাটে বেরুলে ঘোরেন লাঠি শোঠা, মুগুর সাথে নিয়ে। মাঝে মধ্যে গভীর রাত পর্যন্ত উপজেলার বাইরে অবস্থানকরা ইউএনও কারণে-অকারণে ধরে ধরে নিজেই মানুষজনকে পেটান। ফলে উপজেলা প্রশাসনের সর্বোচ্চ পদে আসীন এই কর্মকর্তা এখন মান্দা উপজেলার সাধারণ মানুষের কাছে মূর্তমান আতঙ্কের নাম।

সরেজমিন জানা যায়, উপজেলার ফেরীঘাটের ট্রাক ড্রাইভার আব্দুল আলিম, ট্রাকটর চালক জীবন মন্ডল, প্রসাদপুর বাজার চৌরাস্তার ফল ব্যবসায়ী রতন মহন্ত ও প্রদীপ দাস, দেলুয়াবাড়ী বাজারের সামসুদ্দিন মাস্টার, সতীহাটের গরু ব্যবসায়ী রেজাউল মন্ডল, খুদ্র চাল ব্যবসায়ী ইউনুস আলী, সাদ্দাম হোসেন এবং কুশুম্বা ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক আতাউল গনি সহ বিভিন্ন এলাকার প্রায় ২০জন লোককে পিটিয়ে আলোচনায় আসেন।

উপজেলার কুশুম্বা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক আতাউল গণি বলেন, গত ০৩ অক্টোবর বিকেল ৫টার দিকে উপজেলা অফিসের সার্ভেয়ার এমদাদুল হক, সহকারী কমিশনার(ভূমি)এর বরাত দিয়ে আমাকে নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে ডেকে নেয়া হয়। এসময় স্যার আমাকে তার অফিসে ডিউটি করতে বলেন। আমি ডিউটি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি আমায় কিল ঘুষি মারেন এবং মুখে অশ্ল¬ীল কথাবার্তা বলেন। এছাড়া ‘তোরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হয়েছিস তো কি হয়েছে? তোদেরকে কে চাকুরী দিয়েছে? তোরা চাকুরী পাওয়ার অযোগ্য। গোটাদেশ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের কারনে শেষ হয়ে গেলো। এই কোটা পদ্ধতি বাতিল করা উচিত’ বলে আমার উপর চড়াও হন তিনি। এ বিষয়ে গত ৪ অক্টোবর বাংলাদেশ ৪র্থ শ্রেনী সরকারি কর্মচারী সমিতি মান্দা উপজেলা শাখা সভাপতি বরাবর সুচিবারের আশায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি।

চককানু গ্রামের আহসান উল্লাহ (হাছান) বলেন, আমি ইউএনও স্যারের অন্যায় দাবীকৃত ৫লক্ষ টাকা না দেয়ায় আমার চেরাগপুর মৌজার ১.৭৭শতক আয়তনের কটবিলা পুকুর ও ৭.৭১শতক ধুকরদিঘী এবং কালীগ্রাম মৌজার ৬.২৭শতক নলপুকুর থেকে অভিনব কায়দায় তিনি জোড়পুর্বক প্রায় ৫ট্রাক মাছ তুলে নিয়ে বিভিন্ন হাটে বিক্রয় করেছেন। মহামান্য হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা থাকার পরেও তিনি ইচ্ছেমত বছরের বিভিন্ন সময় তার পছন্দের বিভিন্ন ব্যক্তিকে পুকুর গুলি লিজ প্রদান করছেন। আমার পাহারাদারের থাকার ঘড় ভেঙ্গে দিয়ে আমার মাছধরার জাল তিনি তার সরকারী বাসভবনে এনে রেখে দিয়েছেন। তার হুমকির কারনে আমি এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছি।

উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান বলেন, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে বিভিন্নজনের গায়ে হাত তোলার পাশাপাশি আমরা জনপ্রতিনিধি হয়েও দলীয় বিবেচনায় আমাদের সাথে মাঝে মধ্যে অসৌজন্য মূলক আচরন করেন। তিনি বলেন, আপনি জনপ্রতিনিধি হলেও সরকার দলীয় না, আপনার যে চেয়ার আছে সেটাই অনেক ইউএনও মাঝে মধ্যে বলেন

উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান আহসান হাবিব বলেন, ইউএনওর মারপিটের জন্য অন্যকেউ আমার কাছে বিচার চাইতে আসেনি তবে, জামদই মাদ্রাসায় একটি মিটিং চলাকালে ওই মাদ্রাসার একজন শিক্ষকে মিটিংয়ের ছবি তোলার অপরাধে ইএনও জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে তার অফিসে নিয়ে এসে দোতলার একটি রুমে আটকে রাখে। পুরো ঘটনাটি আমার সামনে ঘটায় আমি তাকে ছেড়ে দেয়ার জন্য বিশেষ ভাবে অনুরোধ করি, ফলে তিনি তাকে কোন প্রকার মারপিট ব্যতিত ছেড়ে দেন।

বঙ্গবন্ধু শেখমুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে সাবেক অধ্যাপক এবং সিপিবি’র কেন্দ্রীয় কমটির সদস্য ডাঃ এসএম ফজলুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, মান্দা উপজেলা শাখা গত ৮ এপ্রিল এক সমাবেশের মাধ্যমে ইউএনও জনাব নুরুজ্জামানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করে এবং তাঁর তাৎক্ষণিক বদলি ও তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য গত ১৬ এপ্রিল যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন জানায়। গত ০৬ আগষ্ট তরিখে তদন্ত অনুষ্ঠিত হয়। ওই তদন্তে নিয়ম বহির্ভূতভাবে তাঁর অনুগত কতিপয় অবৈধ সুবিধাভুগীদের এনে তদন্ত কাজে বিশৃঙ্খলা তৈরী করেন। এমনকি তদন্ত শেষে তাঁর অনুগতদের দিয়ে গরীব ও সৎ মানুষের মুখপাত্র জনাব আবদুস সোবহানকে লাঞ্চিত করেন(এবিষয়ে থানায় জিডি করা আছে)। প্রহসনের এই তদন্তে নারাজি দেয়া হয়েছে। আমার জানামতে এত বাজে প্রশাসনিক কর্মকর্তা মান্দায় কখনও নিযুক্তি পাননি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নুরুজ্জামান এ বিষয়ে কোন প্রকার কথা বলতে তিনি অস্বীকৃতি জানান। তার মুঠোফোনেও (০১৭৩০-৪৬০০১৪) একাধিক বার কল দিয়েও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুর রশিদ সেলফোনে কথা বলবেন না এবং অফিসে গিয়ে সরাসরি কথা বলতে বলেন।

এ বিষয়ে নওগাঁ জেলা প্রশাসক ড. আমিনুর রহমান ইউএনও মান্দার মানুষ পেটানো, ঠিক মতো অফিস না করা, বিভিন্ন অনিয়ম দূর্নীতির প্রশ্নের উত্তরে এ প্রতিবেদককে বলেন, তার কয়েকটি নেগেটিভ দিক আছে সেটা আমি ভালো করে জানি । আমাদের উপর থেকেই তদন্ত আছে। তিনি অফিস কম করে এটা সত্য। রাফ বিহ্যাব করে এটাও সত্য। ইউএনও মান্দার ব্যাপারে আমি অনেক কিছুই শুনেছি এবং জানি। তিনি অবশ্যই বদলী হয়ে যাবেন শুধু আপনাদের লেখালেখির কারনে বদলী হচ্ছেন না। তবে আমি রিলিজ করে দিয়েছি আগামী ২০ তারিখের মধ্যে যে কোনো সময় তিনি চলে যাবেন।