Pages

Categories

Search

আজ- মঙ্গলবার ২০ নভেম্বর ২০১৮

মাকে অপহরণের ঘটনায় অবশেষে আদালতে ছেলের মামলা দায়ের

Safikul_Pic.[1]
শাহ জালাল, রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি: বৃহস্পতিবার অবশেষে মাকে অপহরনের ২২দিন পরে খুঁজে না পাওয়ায় ছেলে তারেক (১৮) বাদী হয়ে ৪জনকে আসামী করে জয়পুরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইবুনাল-১ আদালতে মামলা দায়ের করেছে। যার মামলা নং ৬৪।
আলোচিত এই অপহরণের ঘটনাটি ঘটেছে নওগাঁর পাশে জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলার মারমা পশ্চিমপাড়া গ্রামে।
এই ঘটনায় ছেলে তারেক ওই গ্রামের মৃত-আলতাফ হোসেনের ছেলে অপহরনের মূল হোতা শফিকুল (৩৮) ও তার ছোট ভাই সোহেল (২৫), বোন এলেরা বিবি (২৬) ও তার মা জহুরা বিবির (৫৫) নামে গত ২১ মে থানায় অভিযোগ প্রদান করে। কিন্তু পুলিশ প্রতিপক্ষের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে তা আমলে নেয় না । অবশেষে ছেলে তারেক নিরুপায় হয়ে বৃহস্পতিবার আদালতে এ মামলা দায়ের করে ।
মামলা সূত্রে জানা, নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার বেতগাড়ি গ্রামের ভ্যানগাড়ী চালক আব্দুল খালেকের মেয়ে খালেদা বেগমের প্রায় ২০ বছর পূর্বে জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলার মারমা (পশ্চিমপাড়া) গ্রামের রহমানের ছেলে মো: দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে বিয়ে হয়। জীবিকার তাগিদে প্রায় ৮ বছর আগে স্বামী দেলোয়ার হোসেন বিদেশে যান। খালেদার সংসারে তারেক (১৮), রজনী (১২) ও বিনা (১০) নামের তিন সন্তানের জন্ম হয়। দেলোয়ার হোসেন বিদেশ থেকে খালেদার নামে টাকা-পয়সা, স্বর্ণালংকার পাঠান। সেই টাকা-পয়সা স্বর্ণালংকার নিজ হেফাজতে নিয়ে নিজের নামে কিছু জায়গা জমিও ক্রয় করে।
এ অবস্থায় খালেদার নামে থাকা জমি ও সম্পদের ওপর নজর পড়ে প্রতিবেশী আলতাব হোসেনের ছেলে বখাটে ও নারী লিপ্সু মো: শফিকুল ইসলামের (৩৮)। খালেদার স্বামী বিদেশ থাকার সুযোগে দীর্ঘদিন শফিকুল খালেদাকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসতো। ফলে খালেদা তাতে রাজি না হওয়ায় গত ১৮ মে গভীর রাতে শফিকুল তার সঙ্গিদের নিয়ে খালেদার ঘরে প্রবেশ করে এবং ঘরের আলমারীতে রাখা প্রায় ১১ লাখ টাকা মূল্যের জমির দলিল, প্রায় ৪লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার ও নগদ প্রায় ৩-৪ লাখ সহ খালেদাকে অপহরণ করে। বিভিন্ন স্থানে অনেক খোঁজখুঁজি করেও আজ পর্যন্ত খালেদার কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি।
বখাটে শফিকুল বিভিন্ন প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের জন্য এ পর্যন্ত ৫টি বিয়ে করার ঘটনা ঘটিয়েছে। গত ২৫ মে শফিকুলের ৫ম স্ত্রী মোছা: রোকেয়া বিবি (২৯) কে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা এবং দুই সন্তানকে ভরণ-পোষন না দেওয়ায় অন্য একটি মেয়েকে অপহরণ করে নিয়ে হারিয়ে যাওয়ায় আক্কেলপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে কিন্তু পুলিশ প্রশাসন অভিযোগ পেয়েও নীরব ভূমিকা পালন করছেন।
খালেদার ছেলে তারেক হোসেন বলেন, আমরা কোন কিছু চাই না, আমরা তিন ভাই বোন আমাদের মাকে কাছে পেতে চাই। তাই মাকে খুঁজে বের করার জন্য থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরেও পুলিশ আজ পর্যন্ত আমার মাকে উদ্ধার করতে পারেনি। তাই কোন উপায় না পেয়ে আমার মাকে পাওয়ার কারণে অবশেষে আদালতের আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়েছি।
খালেদার বাবা আব্দুল খালেক জানান, বর্তমানে আমার মেয়ে কি অবস্থায় আছে এবং সে কি জীবিত না মৃত তা নিয়ে উদ্বেগ ও উৎকন্ঠার মধ্যে রয়েছেন দুটি পরিবারের লোকেরা। আর মা-বাবা দু’জনকেই হারিয়ে চরম হতাশার মধ্যে দিনানিপাত করছে খালেদার তিন সন্তান। অপহরণকারী শফিকুল ও তার পরিবারের লোকজন এই সন্তানদের হত্যা করে লাশ গুম করা সহ নানা রকম ভয়ভীতি দিয়ে আসছে। যার কারণে তিন সন্তান ও স্বামীর পরিবারের লোকজন বর্তমানে ব্যাপক নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছেন।
তিনি অভিযোগ করে আরো বলেন, আমি গরীব মানুষ। বিভিন্ন রকমের হুমকি-ধামকির ভয়ে তিন নাতীকে আমার কাছে রেখেছি। পুলিশ প্রশাসন অপহরনকারী বখাটে শফিকুলের সাথে আতাত করেছে। পুলিশ প্রশাসন আজোও আমার মেয়েকে উদ্ধার করতে পারেননি। তাই সঠিক বিচারের জন্য আমরা বাধ্য হয়ে আদালতের আশ্রয়ে গিয়েছি।