Pages

Categories

Search

আজ- শুক্রবার ১৬ নভেম্বর ২০১৮

মাওনা ফ্লাইওভারে রাতে অপরাধীদের অভয়ারণ্য

অক্টোবর ১১, ২০১৭
শ্রীপুর
No Comment

শিহাব খান, শ্রীপুর : যানজট নিরসন, রাজধানী ঢাকার সাথে বৃহত্তর ময়মনসিংহ বিভাগের সহজতর যোগাযোগ স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভ’মিক পালন করছে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উপর স্থাপিত “মাওনা ফ্লাইওভার”। প্রায় আড়াই বছর আগে উদ্ভোধন করা হয় মাওনা ফ্লাইওভারটি।

ফ্লাইওভারের উপরে লাগানো লাইট পোস্টের অধিকাংশ লাইট না জ্বালানোর ফলে রাতে এক ভুতুরে পরিবেশের মধ্যে মাদকাসক্তদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ হত্যা করে এর উপর লাশ ফেলে রাখার মতো ঘটনাও ঘটছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ি মো. শিহাব খান বলেন, ফ্লাইওভারের দুই লেনের মাঝে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে লাইট পোস্টগুলো। লাইট পোস্টে বাতি লাগানো আছে। কিন্তু প্রায় এক কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে ফ্লাইওভারটিতে রাতে বাতি বন্ধ থাকে। তাই ব্যস্ততম ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উপর নির্মিত মাওনা ফ্লাইওভারে সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে নেমে আসে এক ভুতুড়ে পরিবেশ। হাঁটতে গেলেও ভয়ে গা ছমছম করে উঠে। আর এ পরিবেশের মধ্যে উপরে উঠলে প্রায় সময়ই ছিনতাইয়ের শিকারও হওয়ার ঘটনা ঘটছে অহরহ। রাত বাড়ার সাথে সাথে ব্রীজের উপর বসে মাদকসেবীদের আড্ডাও। অন্ধকারাচ্ছন্ন, ভীতিকর পরিবেশে শুনসান নিরবতায় উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মাদকসেবীদের মাদক সেবনের নির্ভরযোগ্য জায়গা তথা অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে ব্রীজটি। এছাড়া দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে খুন করে সেখানে লাশও ফেলে রাখার মতো ঘটনাও ঘটেছে। মাওনা ফ্লাইওভার যেন অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। আর নিচের অংশ জুড়ে রয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের শুভেচ্ছা সম্বলিত ব্যানার ফেস্টুন, আর এই ব্যানার ফেস্টুন সাঁটানোর ফলে ফ্লাইওভার তার নিজস্ব সৌন্দর্য হারানোর পাশাপাশি মহাসড়কে দূর্ঘটনাও বাড়ছে। প্রতিনিয়ত প্রাণহানির মতো ঘটনা বেড়েই চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দেখেও যেন না দেখার ভান করছেন।

বৈদ্যুতিক লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে দুদিন আগে তীব্র গরমে হাওয়া খেতে অন্ধকার ফ্লাইওভারের উপর উঠতে সাহস পাচ্ছিলেন স্থানীয় সাংবাদিক ফয়সাল আহমেদ। তিনি বলেন, ফ্লাইওভার নির্মাণের পর বাতি গুলো একসাথে জ্বললে ফ্লাইওভারের আশপাশ রাতের বেলা জ্বলজ্বল করতো। তা দেখতেও বেশ দারুণ দেখাতো। কিন্তু হঠাৎই লাইট গুলো জ্বলা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন ফ্লাইওভারের উপরে রাতের বেলা সৃষ্টি হয় এক ভীতিকর পরিবেশের।

২০১৬সালে ২৫মে ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর মহা-ব্যবস্থাপক (জিএম) জাহাঙ্গীর আলমের ব্যবহৃত প্রাডো জিপ গাড়ি লক্ষ্য করে দুর্বৃত্তরা গুলি চালায়। এ ঘটনায় চালক আকরাম হোসেন বাদী হয়ে পরদিন শ্রীপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

একই বছরের ১২আগষ্ট পৌর এলাকার মাওনা চৌরাস্তায় একটি স্বর্ণের দোকানে বোমা ফাঁটিয়ে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এসময় ফ্লাইওভারের উপর থেকে দোকান লক্ষ্য করে বোমার নিক্ষেপ করা হয়।

অপরদিকে, ২০১৬সালের ২১নভেম্বর সোমবার দিবাগত রাতে মাওনা হাইওয়ে পুলিশ ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের মাওনা ফ্লাইওভারের ওপর থেকে অজ্ঞাত যুবক (৩০) এর মৃতদেহ উদ্ধার করেছে। লাশের ওপর দিয়ে একের পর এক যানবাহন চলাচল করায় লাশটি ছিন্ন ভিন্ন হয়ে রাস্তার সাথে মিশে যায়। পরে পুলিশ রাতে গিয়ে মৃতদেহের খন্ডাংশ উদ্ধার করে। তবে পুলিশের ধারনা ছিল, অন্য কোথাও থেকে লাশ গাড়ীতে করে এনে রাতের অন্ধকারাচ্ছন্ন ফ্লাইওভারের ওপর ফেলে চলে গেছে।

চলতি বছর ১৯আগস্ট ফ্লাইওভারের উপর থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের অপর একটি লাশ উদ্ধার করে মাওনা হাইওয়ে থানা পুলিশ।

মাওনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেলোয়ার হোসেন বলেন, ফ্লাইওভারটির অর্ধেক বাতি জ্বলে অর্ধেক জ্বলে না। বিষয়টি গাজীপুরের সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং উপজেলা আইনশৃঙ্খলা সভায়ও একাধিকবার অবহিত করেছি কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন কাজ হয়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেহেনা আক্তার জানান, বিষয়টি আগে কেউ আমাকে অবগত করেননি।

গাজীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাহিন রেজা বলেন, বিষয়টি আমার ধারনায় নেই। খোঁজ নিয়ে দেখছি। লাইট না জ্বলে থাকলে লাইট জ্বালানোর ব্যবস্থা করব। ’