Pages

Categories

Search

আজ- বৃহস্পতিবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮

মহিমাগঞ্জে জেলা পরিষদের সরকারী কোটি টাকার জায়গা দখলের অভিযোগ

অক্টোবর ২৫, ২০১৭
অনিয়ম, গাইবান্ধা
No Comment


গোবিন্দগঞ্জ(গাইবান্ধা) থেকে শাহ আলম সরকার সাজু : গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের মহিমাগঞ্জে বঙ্গবন্ধুর খুনি ফ্রিডম পার্টির নেতার ছেলে ও আলোচিত বুরুঙ্গী রেলে নাশকতা মামলার অন্যমত আসামী মিলনের বিরুদ্ধে জেলা পরিষদের ডাক বাংলোর ১৪ শতাংশ সরকারী জায়গা সীমানা প্রাচীর করে দখলের প্রতিবাদে অবিলম্বে সীমানা প্রাচীর অপসারন ও অভিযুক্তদের বিচারের দাবীতে ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মহিমাগঞ্জ বন্দরের জেলা পরিষদের ডাক বাংলোটির উন্নয়ন কাজে সম্প্রতি ২৯ লক্ষ ৫০হাজার টাকা বরাদ্দ হলে মহিমাগঞ্জ বন্দরের প্রভাবশালী বিগত দিনে ফ্রিডম পার্টির থেকে কুড়াল মার্কায় এমপি ভোটে অংশ গ্রহনকারী ও জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধুর খুনি কর্ণেল রশিদ,ফারুকের পলাতক বন্ধু শাহ মোখলেছুর রহমানের ছেলে বুরুঙ্গী রেলে নাশকতা মামলার অন্যমত আসামী শাহ মিলন প্রভাব খাটিয়ে জেলা পরিষদের জনৈক কর্মকর্তার সহায়তায় পশ্চিম পার্শ্বের প্রস্থে ১৮ফিট দৈর্ঘ্যে ২৫০ফিট ৮ শতাংশ ও পূর্ব পার্শ্বে প্রস্থে ১০ফিট দৈর্ঘ্যে ২৫০ফিট ৬ শতাংশ মোট ১৪ শতাংশ জায়গা যাহার বাজার মূল্য কোটি টাকার উপরে এই জায়গাটি সীমানা প্রাচীর দিয়ে দখল করে নেয়।
এ নিয়ে এলাকাবাসী প্রতিবাদ জানিয়ে জেলা প্রশাসক ও জেলা পরিষদের বরাররে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে এলাবাসীর তোপের মুখে এ নির্মান কাজ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় জেলা পরিষদ।এ বিষয়ে জেলা পরিষদ থেকে সার্ভেয়ার দিয়ে সীমানা নির্ধারন করা হলেও অবৈধ ভাবে বেÑদখল দেয়া সীমানা প্রাচীর অপসারন না করে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে জায়গাটি তার দখলে রাখার পায়তারা করায় ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী। এ বিষয়ে মহিমাগঞ্জ ডিগ্রী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মতিউর রহমান জানান,এ দেশের একজন নাগরিক হিসাবে রাষ্ট্রের সরকারী সম্পদ রক্ষা করা নৈতিক দায়িত্ব তাই মহিমাগঞ্জ ডাক বাংলোর কোটি টাকা মূল্যের এ সম্পদ কতিপয় ব্যক্তির স্বার্থের জন্য বে-দখল হতে দেয়া যায় না।
তাই এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে আমরা অভিযোগ করেছি।কিন্ত দখল হওয়া জায়গার উপর সীমানা প্রাচীর নির্মান কাজ স্থগিত করা হলেও নির্মানধীন প্রাচীর অপসারন করা হয়নি।আমরা অবিলম্বে দখল হয়ে যাওয়া জায়গার উপর দাঁড়িয়ে থাকা সীমানা প্রাচীর অপসারন ও ভূমি দস্যূ মিলনের বিচার চাই।এ বিষয়ে মহিমাগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মুন্সি রেজোয়ানুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন,কতিপয় অনুপ্রবেশকারীর সহযোগীতায় ফ্রিডম পার্টির কুড়াল মার্কায় এমপি ভোটে অংশ গ্রহনকারী ও হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধুর খুনি কর্ণেল রশিদ,ফারুকের পলাতক বন্ধু শাহ মোখলেছুর রহমানের ছেলে বুরুঙ্গী রেলে নাশকতা মামলার অন্যমত আসামী তাদের বাড়ীতে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের অবাধ যাতায়াত ছিল।এবং বঙ্গবন্ধু খুন হওয়ার পর পরই শাহ মোখলেছুর রহমান একটি মামলায় ২বৎসরের কারাদন্ড হয়।এবং পরবর্তীতে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার চেষ্টা করলেও তা সফল না হওয়ায় ও আওয়ামীলীগ সরকার গঠনের সাথে সাথে শাহ মোখলেছুর রহমান কিছুদিন আত্মগোপনে থাকার পর আমেরিকায় পালিয়ে যান।
কিন্ত তার ছেলে শাহ মিলন স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীর সাথে আতাত করে বুরুঙ্গী রেলে নাশকতা,সরকারী ভূমি দখলসহ সরকার ও রাষ্ট্র বিরোধী কর্মকান্ডে লিপ্ত থাকায় তাদের এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে আজ বিচারের দাবীতে এলাকাবাসী ফুঁসে উঠেছে।এ বিষয়ে মহিমাগঞ্জ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মুনছুরুর রহমান বলেন,ঐতিহ্যবাহী ডাক বাংলোর এই সরকারী সম্পদ জনগনের সম্পাদ তাই এটি রক্ষায় আমরা সোচ্চার রয়েছি।
এ বিষয়ে মহিমাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ জিয়াউল হক জিয়া ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন,অবিলম্বে বাংলোর বে-দখল যাওয়া জায়গাটি দখলমুক্ত ও দখলকারীদের উপযুক্ত বিচার করতে হবে।সরেজমিনে দেখা গেছে,মহিমাগঞ্জ বন্দরের শাহ মোখলেছুর রহমানের ছেলে ২০১৩ ইং সালের ৩ ডিসেম্বর বুরুঙ্গী রেলে নাশকতা মামলার আসামী মিলন সেই মামলার কপি, তার পিতা ফ্রিডম পার্টির সদস্য ও বঙ্গবন্ধুর খুনি কর্নেল রশিদ ও ফারুকের বন্ধু সেই লিখিত অভিযোগ ও নির্বাচনী লিফলেট।এবং নাশকতা মামলার আসামী মিলন তার তেলের মিল ও কাঠ ফাড়াই ছÑমিল সংলগ্ন জেলা পরিষদের ৬ শতাংশ জায়গাটি দখল করে সীমানা প্রাচীর করেছে।এবং পুরো জায়গাটি দখলে রাখতে তার ছÑমিলের মোটা মোটা কাঠের গুড়ি ছড়িয়ে ছিঁটিয়ে রেখেছে।এ বিষয়ে অভিযুক্ত মিলনের বক্তব্য জানতে ফোন করলে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা দেশের বাইরে থাকায় (ভারপ্রাপ্ত)চেয়ারম্যান খন্দকার জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগের বিষয়টি স্বী¦কার করে বলেন,এখন সীমানা প্রাচীর নির্মান বন্ধ আছে। তবে এই জায়গাটি দখলে জেলা পরিষদের কর্মকর্তার সহযোগীতার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।গাইবান্ধা জেলা পরিষদ এ বিষয়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছে বলে জানান।
উল্লেখ্য মহিমাগঞ্জ বন্দরের প্রায় ৫কোটি টাকা মূল্যের ৩ একর পরিমান জায়গার ঐতিহ্যবাহী ডাক বাংলো রক্ষায় দখলকৃত জমির সীমানা প্রাচীর অপসারন করে জায়গা উদ্ধার,উন্নয়নের বরাদ্দকৃত টাকা দিয়ে পূরো বাংলোর বাউন্ডারী স্থাপনও ভূমিদস্যূদের বিচার চেয়ে এলাকাবাসী জেলা প্রশাসক,জেলা পরিষদ ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অতি জরুরী ভিত্তিতে দখলকৃত জায়গার সীমানা প্রাচীর অপসারন ও জায়গাটি দখলমুক্ত করে ভূমিদস্যূদের বিচারের আওতায় আনতে জেলা প্রশাসকের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।