Pages

Categories

Search

আজ- মঙ্গলবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

মহাদেবপুরে জিয়া শিশু পার্ক অযত্ম আর অবহেলায় বিনোদন বঞ্চিত শিশুরা


আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ প্রতিনিধি : নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলা সদরে শিশু-কিশোরদের আনন্দ-বিনোদনের জন্য নির্মাণ করা হয়েছিল জিয়া শিশু পার্ক। দীর্ঘ দিন ধরে অযন্ত-অবহেলায় নষ্ট হয়ে গেছে বিভিন্ন রাইড। অনেক জায়গায় পার্কের সীমানা প্রাচীরের অস্তিত্ব নেই।

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলা শহরের প্রান কেন্দ্র অবস্থিত উপজেলার একমাত্র শিশুদের বিনোদনের মাধ্যম জিয়া শিশু পার্ক অযতœ আর অবহেলায় হারিয়ে যেতে বসেছে। দীর্ঘ দিনেও সংস্কার করে চালু করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। ফলে খেলাধুলা ও বিনোদন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিশুরা। ইতিমধ্যে হারিয়ে গেছে বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন কেন্দ্রের মহাদেবপুর উপজেলা ওয়েবসাইটে এই পার্কটির অস্তিত্য। খুজে পাওয়া যায় না পার্কটির কোন তথ্য ও ছবি।

জানা গেছে, ১৯৯৪ সালের ২২ ডিসেম্বর তৎকালীন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননিয় প্রধান মন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ডাকবাংলো চত্বরের পাশে অবস্থিত এই শিশু পার্কটির উদ্বোধন করেন। সেই থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত পার্কটির কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকলেও বর্তমান সরকারের আমলে এসে পার্কটির সংস্কার ও তত্ত্বাবধানের অভাবে আসতে আসতে খেলা-ধুলার অন-উপযোগী হয়ে, নষ্ট হয়ে পরেছে পার্কের খেলাধুলার সরঞ্জাম। সেই সাথে খেলাধুলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়ে পরেছে শিশুরা। বর্তমানে পার্কটিতে চারটি দোলনা, চারটি রাইড ও একটি ওঠানামার সিঁড়ি ছাড়া তেমন কোনো রাইড নেই। সেগুলোও ভেঙ্গে পরে রয়েছে আবার কিছু কিছু সরঞ্জামের অর্ধেক আছে অর্ধেক হারিয়ে গেছে। পার্কটির সংল্গন উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ৩টি কিন্ডার গার্টেন স্কুল থাকায় প্রতিদিন হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রীর সমগোম ঘটে এই পার্ক চত্ত্বরে।
প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী শিশির পারভেজ, সোয়ায়িব আল সাদিক, নাজনিন নাহার, মৌমিতা সেনসহ একাধীক ছাত্র-ছাত্রীর সঙ্গে কথা বললে তারা বলেন, ‘আমাদের বিদ্যালয়ের পাশেই শিশু পার্কটির অবস্থান। বিদ্যালয়ের ছুটির পর আমরা পার্কটিতে খেলার সরঞ্জাম পাই না। খুব খারাপ লাগে আমাদের বিনোদনের জন্য তৈরি করা এই পার্কের অবস্থা দেখে। খেলা-ধুলার সরঞ্জাম না থাকায় নিরলস ভাবে সময় পার করতে হয় আমাদের। এ সময় উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অতি-সত্তর পার্কটি সংস্কারসহ বিনোদনের ব্যবস্থা করার পদক্ষেপ গ্রহণ করার কথাও বলেন তারা।
এবিষয়ে সর্বমঙ্গলা (পাইলট) বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মোশারফ হোসেনের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, শিশু পার্ক থেকে মাত্র একশ গজ দূরে আমার বিদ্যালয়ের অবস্থান। শিশু পার্কটিতে সরঞ্জাম না থাকায় শিশুদের খেলাধুলার সুযোগ কমে গেছে। নতুন রাইড স্থাপন করে পার্কটি ঢেলে সাজানোর ব্যবস্থা করা আশু প্রয়োজন এতে শিশুদের বিনোদনের পাশাপাশি জ্ঞান-বিকাশের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে। এব্যপারে উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তার নান্নু’র সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, পার্কটি নওগাঁ জেলা পরিষদের দ্বায়িতে রয়েছে। পার্কটির সংস্কার করে পূনরায় চালু করার জন্য একাধীক বার জানানো হয়েছে। তবে পার্কটি খাঁস সম্পত্তির উপর হওয়ায় সরকারি কোন বরাদ্দ জেলা পরিষদ থেকে প্রদান করা হয় না।
তবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গত ২০১৫ সালের মে মাসে ৩ (তিন) লক্ষ টাকা সংস্কার বাবদ বরাদ্ধ প্রদান করা হয়। তা দিয়ে সামান্য কিছু খেলাধুলার সরঞ্জাম সংস্কার করার ব্যবস্থা করা হয়। তবে এত অল্প বরাদ্দে পার্কটি সম্পূর্ণ সংস্কার করা সম্বব হয়নি। যার ফলে কিছু দিনে মধ্যেই আবার সে অবস্থায় রুপান্তরিত হয়ে পড়েছে।
জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাড. ফাজলে রাব্বী বকু এর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, পার্কটির ব্যাপারে জেলা পরিষদে কোন তথ্য নেই, পার্কটি বিগত সরকারের ডেপুটি স্পীকার আখতার হামিদ সিদ্দিকী নান্নু এটি কি ভাবে করেছেন তা আমাদের জানা নেই।
তবে এব্যাপারে মহাদেবপুর উপজেলা পরিষদের সাথে কথা হয়েছে তারা যদি পার্কটি উপজেলা পরিষদের আওতায় আনার ব্যবস্থা করতে পারেন তবে পার্কটি সংস্কার করে চালু করাসহ উন্নয়নের জন্য সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ব্যপারে নবাগত উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মোবারক হোসেন এর সাথে কথা হলে তিনি জানান, পার্কটির অবস্থা আমিও দেখেছি। অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় পরে আছে। তবে আমি জানিনা কি কারনে পার্কটির এই অবস্থা। তবে যে কারনেই পার্কটির এ অবস্থা হক না কেন শিশুদের বিনোদনের দিক বিবেচনা করে পূনরায় সংস্কার করে চালু করা হবে।