Pages

Categories

Search

আজ- রবিবার ১৮ নভেম্বর ২০১৮

মন্দায় ঝুঁকিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপার পাওয়ার স্ট্যাটাস

জানুয়ারি, ২০, ২০১২
আন্তর্জাতিক
No Comment

বিশ্ব ডেস্ক, ২০ জানুয়ারি — মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বে সুপার পাওয়ার হিসেবে টিকে থাকতে পারবে কিনা সে নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে খোদ দেশটির ডিপার্টমেন্ট অব কমার্স। আর্থ-সামাজিক দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র পিছিয়ে পড়তে পারে এমন আশঙ্কাও নীতিনির্ধারকদের।

বিগত কয়েক বছর ধরে ভালো যাচ্ছে না মার্কিন অর্থনীতি। অন্যদিকে ফ্রান্স ও অষ্ট্রিয়াসহ সাতটি ইউরোপীয় দেশের ঋণমান নিচে নেমে যাওয়ায় পুঁজিবাদ বিশ্বায়নের বিরূপ প্রতিক্রিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রও রেহাই পাচ্ছে না। অবশ্য যুক্তরাষ্ট্র এর আগেই ঋণমানে শীর্ষ স্থান হারিয়েছে।

সক্ষমতা ও সৃজনশীলতা নিয়ে এক জরিপ রিপোর্টে ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব কমার্স বলছে, বেকারত্বের উচ্চ হার এবং শিক্ষা, মধ্যবিত্তদের আয়, অবকাঠামো ও উৎপাদন খাতে নেতিবাচক পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গত এক দশকে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি বা এজন্যে উদ্যোগের হার ক্রমশ নিম্নমুখী রয়েছে। যুদ্ধের পর কোনো বড় ধরনের মন্দা এলে কর্মসংস্থানে স্বাভাবিক গতি ফিরে আসতে ছয় মাস লাগত। কিন্তু নব্বই দশক বা এ গেল দশকের শুরুতে কর্মসংস্থানের গতি স্বাভাবিক হতে সময় লেগেছে ১৫ থেকে ৩৯ মাস।

২০০১ এর ফেব্রুয়ারি এবং ২০০৮ সালের মধ্যে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির হার ছিল শূন্য দশমিক ৬ ভাগ। কিন্তু এ হার পরবর্তিতে তিন গুন নিচে নেমে আসে। একই সময়ে মধ্যবিত্তদের আয় কমে গেছে। ১৯৯৩ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রতি বছরে চার ভাগ হারে মধ্যবিত্তদের আয় কমেছে।

এছাড়া উৎপাদন বাড়লেও সার্বক্ষণিক কাজ করেন এমন অনেক কর্মীদের হারাতে হয়েছে তাদের কাজ। কর্মসংস্থানে এ ধরনের স্থবিরতা জীবন যাত্রাকে কঠিন করছে এবং আগামী প্রজন্মের সম্ভাবনাকেও ঝুঁকিতে ফেলছে।

যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদন খাতের দিকে নজর দিলে দেখা যায় ২০১০ সালে বাণিজ্য ঘাটিতি ছিল ৫৬৪ বিলিয়ন ডলার যা পরের বছরে আরো বেড়েছে। অথচ ২০০২ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যে উদ্বৃত্ত ছিল। আর তখন অর্থনীতির প্রধান খাত ছিল বায়োটেকনলজি, কম্পিউটার, সেমিকন্ডাকটর ও রোবটিকস।

১৯৯৯ সালের পর থেকে প্রযুক্তি উদ্ভাবনে সাফল্যের গতি কমতে থাকে। উদ্ভাবন সক্ষমতায় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এখন চারে। তাই জরিপে প্রযুক্তিগত সাফল্য কমে আসতে থাকায় বিশেষ উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

এমনকি শিক্ষা খাতে ছাত্রদের সমস্যা নিরসনে পারদর্শিতা কমে আসছে। পনের বছর বয়স এমন ছাত্রদের গণিতে রেটিং ওইসিডি দেশগুলোর মধ্যে ১৭তম স্থানে নেমে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্রে জনসংখ্যা যে হারে বাড়ছে সে তুলনায় উন্নত জীবন যাত্রার সুবিধা বাড়ছে না। জরিপে দেখা গেছে, বিমানবন্দরে ফ্লাইট ডিলে আগের চেয়ে বেড়েছে। যানজটে সময় নষ্ট হচ্ছে। অনেক সেতু মেরামতের প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।

অনেক জাহাজ পুরোনো হয়ে গেলেও নতুন জাহাজ সংগ্রহ করতে না পারায় ব্যবসা খরচ বেড়ে যাচ্ছে আর সাধারণ মানুষের দুর্ভোগও বাড়ছে। এমনকি ডিজিটাল অবকাঠামো এখন বাড়তি মানুষের চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এ জরিপ যারা কিছুদিন আগে ‌‌‘অকুপাই’ আন্দোলন শুরু করেছে তাদের পক্ষে যাবে। কিন্তু উন্নত এই দেশটিতে বৈষম্য, দুর্নীতি ও সম্পদের অসম বন্টন এখন নীতিনির্ধারকদের জন্যও দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।