Pages

Categories

Search

আজ- শনিবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

মনোহরদীতে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানীর অভিযোগ

মো. ইসমাইল হোসাইন খান, মনোহরদী (নরসিংদী): নরসিংদীর মনোহরদীতে মিথ্যা মামলা দিয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক দপ্তরী কাম প্রহরী কারা ভোগ করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। ভুক্তভোগী চালাকচর চরপাড়া গ্রামের নূরুল ইসলাম এর ছেলে এবং ৭ নং উত্তর চালাকচর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মো. হারুন অর রশিদ।
অভিযোগে জানা যায়, ২০১৩ সালে উত্তর চালাকচর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরী কাম প্রহরী চাকরী নিয়ে মো. হারুন অর রশিদ এবং অন্য প্রার্থী একই গ্রামের সামসু খলিফার ছেলে মো. শফিকুল ইসলামের সাথে দ্বন্ধ চলে আসছিল। হারুন অর রশিদকে পরীক্ষায় অযোগ্য করতে এবং চাকরী না হওয়ার জন্য এলাকার একটি মহল শফিকুলের পক্ষ নিয়ে বিভিন্ন অপকৌশল অবল¤^ন করেছিল। কিন্তু হারুন অর রশিদ তার মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় এবং চাকরীতে যোগদান করেন। সেই কু-চক্রি মহলটি তাদের ¯^ার্থ হাসিল করতে না পারলেও ষড়যন্ত্র পথ থেকে সড়ে আসেনি। চাকরীতে যোগদান করার পর থেকে তারা বিভিন্ন সময়ে হারুন অর রশিদ ওপর মিথ্যা অপবাদ দিয়ে আসছিল। বিগত প্রায় ৬ মাস পূর্বে কে বা কারা বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের তালা কেটে হারুনের ওপর চুরির অপবাদ দিয়েছিল কিন্তু পরবর্তীতে তদন্তে করে চুরির কোন সত্যতা পায়নি কর্তৃপক্ষ। সেখানে সফল না হওয়ায় গত ২৮ জুলাই হারুনের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানীর অভিযোগ তুলা হয়। এ নিয়ে গত ৩০ জুলাই স্কুল ছাত্রীর বাবা শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে মনোহরদী থানায় হারুনকে আসামী করে একটি ধর্ষণ চেষ্টা মামলা দায়ের করেন। ঐ দিন রাতেই থানা পুলিশ হারুনকে তার বিদ্যালয়ে দায়িত্বরত অবস্থায় আটক করে থানায় নিয়ে আসে এবং পরবর্তীতে জেলা হাজতে প্রেরণ করে। উল্লেখ্য, প্রার্থী শফিকুল ইসলাম এবং ছাত্রীর বাবা মামলার বাদী শফিকুল ইসলাম একে অপরের নিকটত্মীয়।
অভিযোগের ভিত্তিতে এলাকাবাসী ও হারুনের পরিবারের সাথে কথা বলে জানা যায়, এলাকার একটি কুচক্রি মহল হারুনকে চাকরীচ্যুত করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। তারা বিভিন্ন সময় মিথ্যা অপবাদ দিয়ে হারুন এবং তার পরিবারকে হুমকির মুখে ঠেলে দিতে চাচ্ছে।
স্থানীয় চৌকিদার মো. ইবরাহিম বলেন, হারুনকে আমরা ছেলে বেলা থেকেই চিনি। সে এই ঘটনায় জড়িত থাকতে পারেনা। ষড়যন্ত্রকারীরা তাকে ফাঁদে ফেলেছে।
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মোসা: লাকি বেগম বলেন, হারুন এবং স্কুল ছাত্রী দুজনই আমার পরিচিত। হারুনের দ্বারা এই ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে আমরা বিশ্বাস করি না।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান বলেন, মামলায় ২৮ জুলাই ঘটনার কথা উল্লেখ থাকলেও ৩০ জুলাই ছাত্রীর অভিভাবক আমাকে বিষয়টি জানানোর পর আমি ঐ দিন বিকালেই বিদ্যালয়ে ছুটির পর সকল সদস্যদের নিয়ে মিটিং করেছি এবং ঘটনার সত্যতা যাচাই করার চেষ্টা চলছে। প্রধান শিক্ষক আরও জানান, অভিযুক্ত হারুন প্রায় আড়াই বছর ধরে অত্র বিদ্যালয়ে চাকুরী করলেও কোনদিন তার মাঝে অশ্লীল আচরণ চোখে পড়েনি।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. মতিউল ইসলাম বাবু বলেন, হারুন অবশ্যই চক্রান্তের শিকার। তাকে আমি ভালোভাবেই চিনি এবং জানি। তার ওপর আনিত অভিযোগ সম্পূর্ন মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন বলে মনে হয়।
মনোহরদী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম রুমি বলেন, উক্ত ঘটনা শুনার সাথে সাথেই তিনজন উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাদের দিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে বিস্তারিত জানা যাবে।