Pages

Categories

Search

আজ- মঙ্গলবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ভ্রাম্যমান আদালত গাজীপুর পাসপোর্ট অফিসের ৩ কর্মচারীকে জরিমানা করেছে ৩০ হাজার টাকা

রুবেল সরকার :
গাজীপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ মিলছে। উন্মোচিত হচ্ছে সহকারী পরিচালক মেহেদী হাসানের ঘুষের খেলা। বিভিন্ন মহলে ছড়িয়ে পড়েছে তার বেপরোয়া বাণিজ্যের দালাল কাহিনি।
সরকার গাজীপুর ও এর আশপাশের এলাকার জনসাধারণকে সেবা দেওয়ার উদ্দেশে গত বছর গাজীপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের কার্যক্রম শুরু করে। তখন মানুষ হয়রানি থেকে মুক্তির আশা করেছিল। কিন্তু সহকারী পরিচালক মেহেদী হাসানের ব্যাপক দুর্নীতি আশা দূরাশায় পরিণত করে।
বিষয়টির ওপর গত ১৫ জুন দৈনিক অন্যদিগন্ত’তে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। কর্তৃপক্ষ নীরব থাকায় দুর্নীতিবাজদের দৌরাত্ম্য অব্যাহত থাকে। পরে গত সোমবার আরেকটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এ নিয়ে চলে তোলপাড়। তৎপর হয় জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সত্যজিৎ রায় দাশ ও ¯িœগ্ধা তালুকদার পাসপোর্ট অফিসে হানা দেন। ঘুষ গ্রহণকালে অভিযুক্ত কর্মচারী মিজান, তরিকুল ও বাহারকে গ্রেফতার করা হয়। অতঃপর তাদেরকে ১০ হাজার টাকা করে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া দন্ডিতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এই খবরে ভুক্তভোগী মহলে কিছুটা হলেও ¯^স্তি দেখা দেয়।
তাদের দাবি, পাসপোর্ট অফিসে দালাল লালন ও দুর্নীতির মূল হোতা সহকারী পরিচালক মেহেদী হাসান। তার বিষদাঁত না ভাঙলে দুর্নীতি থামবে না। জনসাধারণের হয়রানি লাঘবে কর্তৃপক্ষের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
অভিযোগ সমাচার : গাজীপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস ঘিরে দালাল চক্র গড়ে উঠেছে। অন্তত ২০-৩০ জন দালাল ভেতরে-বাইরে কর্মচারীর মত কাজ করে। তাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করেন সহকারী পরিচালক মেহেদী হাসান। তিনি দাপট দেখিয়ে দুর্নীতির রাজত্ব কায়েম করেছেন।
প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন পাসপোর্টের কাজে এখানে আসেন। অফিসের নিচতলায় কাউন্টার। সেবাপ্রার্থীরা যথানিয়মে সেখানে আবেদন জমা দিতে যান। তখন কাগজপত্র ঠিক থাকলেও নানা খুঁত ধরে আবেদন ফেরত দেওয়া হয়। পরে আবেদনকারীরা ভেতরে-বাইরে অবস্থানরত দালালের কাছে যান। তাদের দাবিকৃত টাকা দিলেই আবেদন গৃহীত হয়।
সাধারণ বা জরুরিÑসব ধরনের পাসপোর্টে দালালরা অফিস খরচের জন্য টাকা নেয়। অফিস খরচ বাবদ ৯০০ টাকা দিতে হয় বলে অফিস ও এর আশপাশের ইট-পাথরও জানে। দালালরা আবেদন ফরম পূরণ ও ব্যাংকে টাকা জমা দিয়ে পারিশ্রমিক হিসেবে ৫০০-৬০০ টাকা নেয়। কেউ কেউ বেশিও নেয়। আবেদন কখনো দালালরা নিজে জমা দেয়, কখনো বা টোকেন দিয়ে অফিসের কর্মচারীদের কাছে পাঠিয়ে দেয়।
দালালরা অফিসের কর্মচারী মিজান, তরিকুল ও বাহারের কাছে ৯০০ টাকা করে জমা দেয়। কর্মচারীরা ১০০ টাকা রেখে ৮০০ টাকা করে জমা দেন অ্যাকাউন্টেন্ট মামুনের কাছে। পরে তা সহকারী পরিচালক মেহেদী হাসানের হাতে যায়। মেহেদী হাসান বড় অংশ রেখে বাকিটা অন্যদের মধ্যে বণ্টন করেন। বড় অংশ নেওয়ার কারণ হিসেবে তিনি পাসপোর্ট অধিদপ্তরের ডিজি অফিস ও গাজীপুর ডিসি অফিসে দিতে হয় বলে ভাউচার করেন।
গাজীপুর পাসপোর্ট অফিসে দৈনিক অন্তত ১০০ আবেদন জমা পড়ে। আবেদনগুলো থেকে দৈনিক আদায় হয় ৯০ হাজার টাকা। যা মাসে দাঁড়ায় প্রায় ২০ লাখ টাকা। বাণিজ্যের আরও খাত আছে। এভাবে সহকারী পরিচালক মেহেদী হাসান আঙুল ফুলে কলাগাছ বনে যাচ্ছেন।