Pages

Categories

Search

আজ- বৃহস্পতিবার ১৫ নভেম্বর ২০১৮

ভালুকায় সিমেন্ট বোঝাই ট্রাক উল্টে এক পরিবারের পাঁচজনসহ নিহত ১০


মোঃ রফিকুল ইসলাম রফিক, বিশেষ প্রতিনিধি: টানা তিন দিনের ছুটি থাকায় রাতের আঁধারে সিমেন্ট ভর্তি ট্রাকে করে বাড়ি ফেরার পথে রাস্তায় ট্রাক উল্টে গেলে একই পরিবারের পাঁচজন সহ ১০যাত্রী নিহত হয়েছে এবং আহত হয়েছে অপর ৫জন। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে উপজেলার মেহেরাবাড়ী নামক স্থানে।

পুলিশ ও স্থানীয় সুত্র জানায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা জামালপুরগামী সিমেন্ট ভর্তি একটি ট্রাক (নং ঢাকা মেট্রো ট-১১-০৩-২৯) ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ভালুকার মেহেরাবাড়ী নামক স্থানে পৌঁছুলে চালক নিয়ন্ত্রন হারিয়ে ফেলে। এ সময় ট্রাকটি মহাসড়কে উল্টে গেলে ট্রাকে আরোহী যাত্রীরা রাস্তায় ছিটকে সিমেন্টের বস্তার নীচে চাপা পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই একই পরিবারের ৫জন সহ ৯ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে। গুরুতর আহতাবস্থায় ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পর অপর আরো ১জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে নারী-পুরুষ ও শিশু রয়েছে। এ সময় ট্রাক চালক ঘটনাস্থল থেকে দ্রæত পালিয়ে যায়।

ঘটনাস্থলে নিহতরা হলো ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার একই পরিবারের আজিজুল হক (৩৫),রেজিয়া আক্তার (৩৩),মেহেদী হাসান (১১), মিজান (৯), সিজান (৪) ও ময়মনসিংহ সদরের চরশিকতা গ্রামের জোসনা বেগম(৫৫), সিরাজুল ইসলাম (১৮),শেরপুরের নালিতাবাড়ীর শুক্কুর আলী(৬৫), ও অজ্ঞাত ঠিকানাধারী খোরশেদ আলম(২৫) । গুরুতর আহতাবস্থায় ৫ জনকে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে শেরপুর নালিতাবাড়ি উপজেলার শাহজাহান হোসেন (৪০) নামে অপর আরো ১ জনের মৃত্যু ঘটে।

আশংকাজনক অবস্থায় আহত সলিম (৩৩), কদ্দুস আলী (৩৫), জহুর উদ্দিন(২৫),ইমাজ উদ্দিন (৪০) কে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। গভীর রাতে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ভালুকা মডেল থানা পুলিশসহ ভালুকা ও ত্রিশাল ফায়ার সার্ভিসের দু’টি ইউনিট দ্রæত ঘটনাস্থলে পৌঁছে।

পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা সিমেন্টের বস্তার নীচে চাপা পড়ে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ভালুকা মডেল থানায় নিয়ে আসে। স্থানীয়রা জানায়,ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উল্লেখিত এলাকায় ফোরলেন কাজের জন্য রাস্তা খুড়াখুঁড়ি ও গর্ত থাকার কারনে চালক ট্রাকটির নিয়ন্ত্রন হারিয়ে ফেললে এ দুর্ঘটনা ঘটে। টানা তিন দিনের ছুটি থাকায় হতদরিদ্র পরিবারের লোকজন সিমেন্ট ভর্তি ট্রাকের উপর বসে শেরপুর ও জামালপুর এলাকায় নিজ বাড়ী ফিরছিল।

নিহত আজিজুল হকের স্বজন জানায়, আজিজুল হক ঢাকায় রিক্সা চালায় এবং তার স্ত্রী রেজিয়া আক্তার বিভিন্ন বাসা বাড়িতে বুয়ার কাজ করে সংসার চালাতো । তাদের বড় ছেলে নিহত মেহেদী হাসান একটি মাদ্রাসায় লেখাপড়া করছিল। মাত্র ১ মাস আগে তারা ঢাকায় যায়। ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস এবং শুক্র ও শনিবারসহ টানা ৩ দিনের ছুটি থাকায় বাস-ট্রেনে প্রচুর ভীড়। তাই স্বল্প খরচে ট্রাকে করে বাড়ি ফিরছিল তারা। খবর পেয়ে নিহতদের স্বজনরা বিভিন্ন স্থান থেকে ভালুকায় ছুটে আসে। এ সময় স্বজনদের আহাজারীতে বাতাস ভারী হয়ে উঠে।

এ দিকে খবর পেয়ে দুর্ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মোঃ খলিলুর রহমান,জেলা পুলিশ সুপার নুরুল ইসলাম,অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আরিফ আহম্মেদ খান,ভালুকা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ গোলাম মোস্তফা,ভালুকা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোরারজী দেশাই বর্মন,ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু জাফর রিপন,উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভুমি) আব্দুল্লাহ আল জাকির,ভালুকা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মামুন অর রশিদসহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার লোকজন। ভালুকা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের মরদেহ বাড়ীতে নিয়ে যাওয়ার জন্য পরিবহন খরচ বাবদ নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করে।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্টেট আরিফ আহম্মেদ খান ঘটনাস্থলে প্রত্যক্ষদর্শীদের নিকট থেকে ঘটনার বর্ননা শুনেন এবং প্রাথমিক তদন্ত কাজ শুরু করেন। শুক্রবার দুর্ঘটনার খবর চারিদিকে ছড়িয়ে পড়রে ঘটনাটি ভালুকায় ’টক অব দি টাউন’ এ পরিনত হয়। ফেসবুক সহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও অনলাইনে দুর্ঘটনার নিউজ লিংক ও ছবি আপলোড করে দুঃখ প্রকাশ করতে দেখা যায় বিভিন্ন মহল থেকে।