Pages

Categories

Search

আজ- বৃহস্পতিবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ভালুকায় বোমা বিষ্ফোরনের ঘটনায় নির্ঘুম রাত কেটেছে কাশর বাসীর

অগাষ্ট ২৮, ২০১৭
ময়মনসিংহ
No Comment


মোঃ রফিকুল ইসলাম রফিক, বিশেষ প্রতিনিধি : ভালুকায় হবিরবাড়ী ইউনিয়নের কাশর গ্রামের একটি বাসায় রোববার বিকেলে বোমা বিষ্ফোরনে নিহতের ঘটনায় আতংকে নির্ঘুম রাত কাটিয়েছে এলাকাবাসী।সন্ধার পর থেকে এলাকায় অতিরিক্তি পুলিশ মোতায়েন সহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আগমন ঘটে কাশর গ্রামে।

এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। চারিদিকে পুলিশের নজরদারী বেড়ে যাওয়ায় অজানা আতংক শুরু হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে। বাড়ি ছেড়ে অনেকেই অন্যত্র আশ্রয় নেয়। বেশীর ভাগ বাসা-বাড়ী তালাবদ্ব করে রাখা হয়। নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেয়া হয় পুরো এলাকা। বাড়ীর মালিক সহ ৭জনকে আটক করা হয়। সব কিছু বুঝে উঠতে সময় লাগে স্থানীয়দের।

ফলে রাতভর আতংকে থাকতে হয় নারী-পুরুষসহ আবাল বৃদ্ধবনিতার। পুলিশ,র‌্যাবসহ বিভিন্ন আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের আনাগোনায় পুরো এলাকা তটস্ত হয়ে পড়ে। টানা ২২ঘন্টা অভিযান চালায় পুলিশ র‌্যাবসহ যৌথ বাহিনী। শ^াষরুদ্ধকর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে সোমবার বেলা পৌনে তিনটার দিকে অভিযানের সমাপ্তি ঘটে। উল্লেখ্য,রোববার বিকেলে কাশর গ্রামের আজিম উদ্দিনের বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস রত আলম প্রামানিক ওরফে আব্দুল্লাহ ড্রাইভার ওরফে আরিফ (৪০) বোমা বিষ্ফোরনে মারা যায়। সে পুলিশের তালিকা ভুক্ত পলাতক আসামী। পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম তাঁকে আটকের জন্য বেশ কয়েকবার অভিযান চালায়। সর্বশেষ কুষ্টিয়ায় তাঁকে আটকের জন্য অভিযান চালালে কৌশলে পালিয়ে ভালুকায় এসে আশ্রয় নেয়।

২২ঘন্টা অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে ১টি শক্তিশালী হাত গ্রেনেড,৬টি বোমা ও বোমা তৈরীর বিপুল পরিমান সরঞ্জাম। এ ঘটনায় আটক করা হয়েছে নিহতের স্ত্রী ও বাড়ীর মালিকসহ ৭জনকে। পুলিশ ধারনা করছে বোমা তৈরীর সময় সেটি বিস্ফোরিত হয়েছে।এ ঘটনার পর থেকে পুলিশ বাড়িটির চারপাশ ঘিরে রাখে। সোমবার সকালে ঢাকা থেকে আসা বোমা নিস্ক্রিয় টিমের প্রধান মোঃ রহমত উল্যাহ চৌধুরীর নেতৃত্বে অভিযান শুরু করে কাউন্টার টেররিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের সদস্যরা।

এ সময় র‌্যাব,পুলিশ,পিবিআই,সিআইডি,ভালুকা ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা অভিযানে অংশ নেয়। অভিযানকালে ঘর থেকে একটি হাত গ্রেনেড,৬টি শক্তিশালী বোমা উদ্ধারসহ আত্মঘাতী আক্রমনের পোষাক,কয়েক হাজার ফিল্টার,পেট্রল,হাজার হাজার লোহার টুকরা, বিপুল পরিমাণ তার, টিএপি পাউডারসহ বোমা তৈরীর বিভিন্ন উপকরণ উদ্ধার করা হয়। বিশেষজ্ঞ টিম গ্রেনেড ও বোমাগুলো নিস্কীয় করার পর অভিযান সমাপ্ত ঘোষনা করে ময়মনসিংহ পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম। ফলে আতংকের মধ্য দিয়ে কাশর এলাকার লোকজনের নির্ঘুম রাতের অবসান ঘটে।