Pages

Categories

Search

আজ- বৃহস্পতিবার ১৮ অক্টোবর ২০১৮

ভালুকায় ঈদের বাজারে শেষ মুহূর্তের কেনা-বেচায় ব্যাস্ত দোকানীরা


মোঃ রফিকুল ইসলাম রফিক, বিশেষ প্রতিনিধি  ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রমজানের শেষ পর্যায়ে এসে জমে উঠেছে ঈদ বাজার। উপজেলা সদরসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলের দোকান গুলোতে এখন ঈদকে কেন্দ্র করেই কেনা-বেচা। বিভিন্ন মার্কেট ও শপিংমল থেকে শুরু করে ফুটপাতের দোকান গুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভীড়। সাধ এবং সাধ্যের সমন্বয় ঘটিয়ে প্রিয়জনদের জন্য উপহার কিনতে বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার পাশাপাশি কেনাকাটায় ব্যাস্ত সময় কাটাচ্ছে খেটে খাওয়া দিন মজুর থেকে পোশাক শ্রমিকরাও।

দেশী পোশাকের সাথে পাল্লা দিয়ে পোষাকের দোকান গুলোতে ছেয়ে গেছে ভারতীয় পোষাক। ভালুকা সদরের হক মার্কেট,রায় মার্কেটসহ বিভিন্ন শপিং দোকান গুলোতে দেশী পোশাকের চেয়ে দাপটের রয়েছে ভারতীয় পোশাক। বিশেষ করে ভারতীয় চ্যানল ষ্টার জলসা,জি বাংলা’র বিভিন্ন নাটক বা সিরিয়ালের নামের সাথে মিলানো এ সকল পোশাকের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে উঠতি বয়সের তরুন-তরুনীরা। বিভিন্ন নামে ও ঢঙ্গের এ পোশাক কিনতে মহিলাদের ভীড়ও লক্ষনীয়। সকাল থেকে গভীর রাত অবদি বিভিন্ন মার্কেট,শপিংমল ও বিপনি বিতানগুলোতে চলছে তাদের আনা-গোনা।

ক্রেতা বিক্রেতারা দিনভর কেনা বেচায় ব্যাস্ত সময় পার করছেন। মার্কেট গুলোতে মান সম্মত দেশীয় পোষাক সামগ্রী থাকলেও শিশু ও উঠতি ছেলে মেয়েরা ভারতীয় সিরিয়ালের পোশাকের প্রতি ঝুঁকে আছে বেশী। এবার ঈদ উল ফিতরের মেয়েদের জন্য আকর্ষনীয় পোষাকের মধ্যে রয়েছে। বাহুবলী-২, রাখি-বন্ধন, পটল কুমার, বাজরাঙ্গি, ভাইজান, ফ্লোর টার্চ, লাসা, লংস্কাট, শট স্কার্ট সহ বিভিন্ন নামের থ্রিপিচ ও ফোর পিচ পোষাক। দৃষ্টি আকর্ষন করা দেশীয় পোশাকের মধ্যে টাঙ্গাইল শাড়ী, জামদানী, খদ্দর, মনীপুরী, রাজগুরু, বালুচুরী, জর্জেট শাড়ী ইত্যাদিও রয়েছে। ভালুকা হক সুপার মার্কেটের ব্যাবসায়ী দেলোয়ার হোসেন বলেন এবার শুরুতে কেনা বেচা তেমন ভাল না হলেও শেষ সময়ে এসে জমে উঠেছে ঈদের বাজার।

ক্রেতাদের রুচির সাথে সমন্বয় করেই আমরা বিক্রি করছি বাহারী ডিজাইনের পোশাক। তিনি বলেন এবার ঈদে নিত্য নতুন পোষাকের আমদানী রয়েছে তাই ক্রেতাদের কাছে আকর্ষন হচ্ছে বেশী। ঈদে এবার ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী মান সম্মত পোশাক বিক্রয় করছে তারা। এবার ঈদে গত বছরের তুলনায় কেনা অনেক বেশি হচ্ছে। মেয়েদের পোশাকের পাশাপাশি ছেলেদের পোশাকের চাহিদাও রয়েছে অনেক। ছেলেদের জন্য ফুল সার্ট, হাফ সার্ট, ট্রি সার্ট, জিন্স প্যান্ট, পাঞ্জাবী নানা সমাহার। এছাড়া জুতার দোকানেও ভিড়ের কমতি নেই। রায় মার্কেটের আরাম ’সু’ ষ্টোরের ব্যাবসায়ী মাহমুদুল হাসান ইমরান বলেন, বর্ষা মৌসুম হওয়ায় বৃষ্টির কারনে রমজানের মাঝামাঝি সময়ে কেনা-বেচা কম হওয়ায় শেষ মুহুর্তে এসে ভীড় বেড়েছে।

ভীড় রয়েছে ইলেকট্রনিক ও কসমেটিক্স দোকান গুলোতেও। সদরের আক্তার উদ্দিন কমপ্লেক্সের লিংকন টেলিকমের ব্যাবসায়ী মুখছেদুল ইসলাম জানান,ঈদ উপলক্ষ্যে ইলেট্রনিক্স মালামালের উপরও ক্রেতাদের ভীড় বেড়েছে। বিশেষ করে মোবাইল ফোন সহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক পন্যের প্রতি ঝুঁকছে উঠতি বয়সের তরুনরা। হক মার্কেট সংলগ্ন তোয়া টেলিকমের মালিক আসিফ জানায়,মোবাইল ঈদকে কেন্দ্র মোবাইলে ভিডিও এবং অডিও লোড করতেও ভীড় বেড়ে গেছে। এ দিকে মহিলাদের উপস্থিতি কেবল পোষাকের দোকান নয় বেড়েছে দর্জির দোকান, জুয়েলার্স ও কসমেটিকের দোকান গুলোতেও।

ঈদের আগে পছন্দ মতো গয়না ও পোষাক তৈরীতে তাদের আগ্রহ বেড়ে যায়। এ কারনে জুয়েলার্সের ব্যাবসায়ীরাও দোকানগুলোকে সাজায় নতুন পশরায়। গত বছরের তুলনায় এবার সব জিনিসের দাম বেশি। ফলে সাধ ও সাধ্যের সমন্বয় ঘটাতে বিপাকে পড়েছেন নি¤œ ও নি¤œ মধ্যবিত্তরা। তারা শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে বেছে নিচ্ছেন ফুটপাতের দোকানগুলো। এ ছাড়াও ফেরিওয়ালারাও বসে নেই। তারাও বাসা-বাড়ীতে ডাক হাঁকিয়ে কেনা বেচা করে যাচ্ছে পোষাক ও অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় পন্য। উপজেলা সদরের বিভিন্ন মার্কেট ছাড়াও উপজেলার প্রত্যান্ত অঞ্চল গুলোতে পোষাক ও বিপনী বিতান গুলোতে ক্রেতাদের ভীড় বেড়েছে উল্লেখজনক ভাবে।