Pages

Categories

Search

আজ- মঙ্গলবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ভালুকায় ঈদকে সামনে রেখে বাড়ছে কামার শিল্পীর ব্যাস্ততা

অগাষ্ট ২৬, ২০১৭
বিশেষ প্রতিবেদন, ময়মনসিংহ
No Comment


মোঃ রফিকুল ইসলাম রফিক, বিশেষ প্রতিনিধি : প্রয়োজনীয় উপকরনের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে কয়েক গুন সে তুলনায় বাড়েনি পন্য মুল্য ফলে উৎসাহ কমে যাচ্ছে কামার শিল্পের সাথে জড়িতদের। তারপরও বংস পরমপরায় যারা এ পেশায় আগে থেকেই জড়িত ছিলেন তারা অনেকেই পেশার টানে কষ্ট করে টিকে আছেন কামার শিল্পটিকে আঁকড়ে ধরে।

সংশ্লিষ্ঠদের মতে, সারা বছর যে পন্য বিক্রি হয় সে তুলনায় কোরবানী ঈদেই তার চেয়ে বেশী পন্য বিক্রয় হয়। তাই শিল্পটি এখন অনেকটাই মৌসুম ভিত্তিক হয়ে পড়েছে। কোরবানীর ঈদকে ঘিরে এখন বেশ ব্যাস্ততায় কাটছে তাদের দিবা-রাত্র। সারাক্ষন টুং টাং শব্দে সময় পার করছে কামার শিল্পের সাথে জড়িতরা। আগামী ২ সেপ্টেম্বর পালিত হচ্ছে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আযহা।

সময় যতই ঘনিয়ে আসছে তাদের ব্যাস্ততাও ততো বেশী। ভালুকার কামার শিল্পীদের মতে কোরবানীর আনুসাঙ্গিক হাতিয়ার দা, বটি, ছুরি, চাপাতিসহ ধারালো জিনিস বানাতে এখন এতোটাই ব্যাস্ত যে দম ফেলার ফুরসত নেই কামার শিল্পীদের। দিবা-রাত্র সমান তালে চলছে টুং টাং শব্দ। ফলে কাজের চাপ থাকায় অগ্রিম ঈদের আমেজ এখন কামার শিল্পের লোকজনের মধ্যে। বছরের সারা বছর হাত গুটিয়ে বসে থাকলেও কোরবানী ঈদের আগ মূহুর্তটায় কামার শিল্পীদের কাজের চাপ বেড়ে যায়। বাড়ে আয়ের উৎস।

উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে কামার শিল্পীদের তৈরি হাতিয়ারের ভাল কদর। ঈদের কয়েকদিন বাকি থাকলেও উপজেলার হাট-বাজারগুলোতে ইতিমধ্যে দা, বটি, ছুরি, চাকুসহ বিভিন্ন সামগ্রী উঠতে শুরু করেছে। এখনো তাদের এসব পণ্য কেনার হিড়িক লাগেনি। সময় যতই ঘনিয়ে আসবে এসব হাতিয়ারের বেচা-কেনা তত বেড়ে যাবে বলে ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা।

বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে দেখা গেছে কোরবানীর একটি ছুরি ৩শত ৫০টাকা থেকে ৪শত টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও বিভিন্ন সাইজের চাকু ৩০ টাকা থেকে ১শত টাকা, বটি ১শত ৫০ টাকা থেকে ৩শত টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। তাদের অভিমত সারাবছর যত পন্য বিক্রি হয় এক ঈদেই বিক্রি হয় তার চেয়ে বেশি। সংশ্লিষ্ঠদের পশু জবাই করার জন্য ধারালো দা-ছুড়ির প্রয়োজন।

অনেকেই পুরাতন গুলো ঘরে রাখেনা।সে জন্য প্রতি বছর নতুন করে কেনার প্রয়োজন হয়। কামার শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ঠ লোকজন জানান এ শিল্পের অতি প্রয়োজনীয় উপকরন যেমন জ্বালানী কয়লার দাম দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, বেড়েছে লোহার দাম। তার সামঞ্জস্য রেখে বাড়েনি কামার শিল্পীর উৎপাদিত পন্যের দাম। ফলে কামার শিল্পীরা আর্থিক অসচ্ছলতার কারনে বাধ্য হচ্ছে পৈত্রিক পেশাটিকে পরিবর্তন করতে।