Pages

Categories

Search

আজ- শনিবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ভারি বর্ষণে গাজীপুর মহানগরের বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতা

IMG_20150611_124355[1]
মঞ্জুর হোসেন মিলন: ভারি বর্ষণে গাজীপুর মহানগরের বিভিন্ন সড়কে  জলযট আর যানজটে সাধারণ মানুষের  ভোগান্তির শেষ থাকেনা। আবরি ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় কোনো কোনো সড়কে হালকা বৃষ্টিতেই পানি জমে থাকে। এতে নাগরিকদের ভোগান্তি পোহাতে হয় প্রতিনিয়ত।
বৃহস্পতিবার সকালে প্রবল বর্ষনে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের  ভোগড়া বাইপাস, সাইবোর্ড ও আশেপাশের এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে প্রায় হাটু পানি জমে যায়। এতে ওই মহাসড়কে সকাল থেকেই যানবাহন  চলাচল বিঘিœত হওয়ায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ফলে যাত্রীরা পড়েন ভোগান্তিতে। মজানগরের শিমুলতলী সমরাস্ত্র কারখানা ও টাকশাল গেইট থেকে চতর বাজার পর্যন্ত সড়কে পানি জমে থাকায় এলাকাবাসী ভোগান্তিতে পরে। শহরের প্রাণকেন্দ্র রাজবাড়ি সড়কের গাজীপুর প্রধান ডাকঘরের সামনে বৃষ্টি হলেই হাঁটুপানি জমে। মহানগরের টঙ্গীর বিভিন্ন সড়কে এবং কোনাবাড়ি ও  কাশিমপুরের সড়কগুলো চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পরে।

নাওজোর মহাসড়ক পুলিশ ফাড়ির উপ-পরিদর্শক মো. মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, বৃহস্পতিবার সকালে ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ায় গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভোগড়া বাইপাস ও এর আশেপাশের এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উপর প্রায় হাটু পানি জমে যায়। এতে ওই মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বিঘিœত হয় এবং যানবাহন চলাচল করে ধীর গতিতে। ফলে গাড়ির চাপ বেড়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ও ঢাকা-বাইপাস সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। যানজট নিরসনে গাজীপুরের পুলিশ, ট্রাফিক পুলিশ ও মহাসড়ক পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে পানি কমতে থাকলেও গাড়ির দুপুর সাড়ে টার দিকেও মহাসড়কে যানজট ছিল।

স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফয়সল আহমেদ সরকার জানান, ভোগড়া, বাসন, আধেপাশা, আউটপাড়া এলাকার কল-কারখানা ও আবাসিক এলাকার গৃহস্থালী পানি ও বর্জ্য অপসারনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিবছরই বর্ষা মৌসুমে ওই এলাকায় মহাসড়কে পানি জমে যায়। ফলে এ এলাকায় অনেক বসত বাড়িতেও পানি ওঠে। সম্প্রতি পানি সরানোর জন্য ড্রেনেজ ব্যবস্থা করা হলেও তা পর্যাপ্ত নয়।

এ ব্যাপারে গাজীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রকৌশলী  মো. সবুজ উদ্দিন খান জানান, প্রতিবছরই বর্ষায় এ সমস্যা হচ্ছে। ফলে মহাসড়ক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। বৃষ্টি হলে মহাসড়কের পানি রাস্তায় জমে না। কিন্তু মহাসড়কের আশে-পাশের এলাকার পানি বের হওয়ার ব্যবস্থা কম থাকায়  তা মহাসড়কে ওঠে যায়। এজন্য পাশের স্থানীয় মোগরখালটি খনন ও প্রশস্ত করা দরকার। এ নিয়ে গাজীপুর সিটির ভারপ্রাপ্ত মেয়র মো. আসাদুর রহমান কিরনের সাথে কথা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে তার সাথে বৈছক করার কথা রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা  মো. আমিনুল ইসলাম জানান, বাসন সড়ক  থেকে তিনি জয়দেবপুর যাওয়ার উদ্দেশে বাসা  থেকে রওনা হন। মহাসড়কের ওই এলাকায় সকল যানবাহন অনেকটাই থেমে আছে। কিছুদুর পায়ে হেটে গিয়ে একটি রিকশা ভ্যানে চড়েও লাভ হয়নি তার। পরে মহাসড়ক  ছেড়ে বিকল্প পথে রিকশা নিয়ে গন্তব্যে পৌঁছেন তিনি। পাচ মিনিটের রাস্তা পার হতে অতিক্রমে প্রায় ২ঘন্টা লাগছে। তিনি আরো বলেন, সবচেয়ে সমস্যা হচ্ছে স্থানীয় শিক্ষার্থী ও কল-কালকারখানার নারী শ্রমিকদের। পানিতে তাদের পরনের কাপড়-চোপড় ভিজে যাচ্ছে। অনেকে হাটতে গিয়ে পিছলে পড়ে গিয়ে কর্মস্থলে যাওয়া হচ্ছে না।  বৃষ্টি আরো হলে এ ভোগান্তি আরো চরমে পৌঁছাবে।
চতর এলাকার বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা অলিউল্লাহ হাওলাদার জানান, অল্প বৃষ্টিতেই রাস্তায় পানি জমে থাকে। কয়েক মাস আগে রাস্তাটি সংস্কার করা হলেও  এখন বেহাল অবস্থা। আর ভারি বৃষ্টি হলে এই রাস্তাদিয়ে মানুষ চলাচল করতে পারেনা। ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার করা  প্রয়োজন।

গাজীপুর সিটির ভারপ্রাপ্ত মেয়র মো. আসাদুর রহমান কিরন সাংবাদিকদের জানান, জলাবদ্ধতা নিরসনে সিটির কর্মীরা কাজ করে যাচ্ছে।  পরবর্তীতে স্থায়ী সমাধানের ব্যবস্থা নেয়া হবে।