Pages

Categories

Search

আজ- বুধবার ২১ নভেম্বর ২০১৮

ভারতের পানিতে হিলি স্থলবন্দরে বন্যা তলিয়ে গেছে স্থলবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা

অগাষ্ট ১৩, ২০১৭
জনদুর্ভোগ, দিনাজপুর, প্রকৃতি
No Comment

প্লাবন গুপ্ত শুভ, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : টানা বর্ষনে আরও অবনতি হয়েছে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরের বন্যা পরিস্থিতির। স্থানিয়দের অভিযোগ, ভারত থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। ক্ষতি হয়েছে রোপা আমন সহ বিভিন্ন ফসল ও মাছের।
সরেজমিনে দেখা গেছে, হিলি সীমান্তের ধরন্দার উত্তরপাশ দিয়ে রেলওয়ের ব্রীজ দিয়ে ভারত থেকে পানি আসায় হিলি স্থলবন্দরের বেশ কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ চারমাথা, হাসপাতাল ও কলেজ, বাসষ্ট্যান্ড রাস্তা দুই থেকে তিন ফুট পানির নীচে তলিয়ে গেছে। ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে ঘরের আসবাবপত্র নষ্ট হয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে প্রায় ১০ হাজার মানুষ। স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন।
ধরন্দা গ্রামের বাসিন্দা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. লিয়াকত আলী বলেন, সীমান্তের ধরন্দার উত্তরপাশ দিয়ে রেলওয়ের ব্রীজ দিয়ে ভারত থেকে পানি ঢুকছে। এতে ধরন্দা, চন্ডিপুর, চারমাথা এলাকার রাস্তা তলিয়ে গেছে এবং বাড়ীতে পানি ঢুকে পড়েছে। দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে আমাদের।
বাংলাহিলি পাইলট স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. রকিব উদ্দীন মন্ডল বলেন, প্রতিষ্ঠানটি খোলা আছে, কিন্তু মাঠে কোমর পর্যন্ত পানি উঠায় ছাত্র-ছাত্রীর উপস্থিতি নেই। আমরা শিক্ষকেরা অফিস খুলে বসে আছি।
বন্দরের কাস্টমস সহকারি কমিশনার মো. ফকরুল আমিন চৌধুরী বলেন, বন্দরের রাস্তা পানিতে তলিয়ে গেছে। তবে দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা-বানিজ্যে তেমন ব্যাঘাত হচ্ছে না। বন্দর সচল রাখতে আজ সোমবার সরকারি ছুটি থাকলেও ব্যবসায়িদের স্বার্থে বন্দর খোলা রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।
হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট কার্যালয় সুত্রে জানাগেছে, গত চার-পাঁচদিনের টানা বর্ষণে দুই দেশের মধ্যে পাসপোর্টে যাত্রী পারাপার অনেকাংশে কমে গেছে। বিভিন্ন এলাকায় রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় তিন ভাগের এক ভাগও যাত্রী পারাপার হচ্ছে না।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের অফিস সহকারি মো. খয়রাত হোসেন বলেন, সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে আজ সোমবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে জরুরি সভা আহবান করা হয়েছে। এদিকে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, ক্ষয়-ক্ষতির সঠিক তথ্য নিরুপণের কাজ চলছে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন বলেন, গত শনিবার (১২আগস্ট) রাত পর্যন্ত উপজেলায় ৪৪৫টি পুকুর প্লাবিত হওয়ায় ২৬৭ মেট্রিকটন মাছ বের হয়ে গেছে। এতে ক্ষতি হয়েছে ২ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।
এদিকে গতকাল রবিবার দুপুরে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, গতকাল রবিবার ও গত শনিবার উপজেলা পরিষদ রাস্তায় দু’টি পণ্যবোঝাই ট্রাক উল্টে গেছে। টানা বর্ষণে রাস্তায় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে যানবাহন, পথচারিসহ ভূক্তভোগিরা।