Pages

Categories

Search

আজ- বুধবার ২১ নভেম্বর ২০১৮

বয়লার বিস্ফোরণ : নিহতের স্বজনদের মাঝে চেক বিতরণ

মঞ্জুর হোসেন মিলন : গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের কাশিমপুরের নয়াপাড়া এলাকায় মাল্টিফ্যাবস লিমিটেড পোশাক কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণে নিহত ১৩ জনের স্বজনদের মাঝে আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ করেছে মালিকপক্ষ।

মঙ্গলবার বিকেলে গাজীপুরের জেলা প্রশাসকের ভাওয়াল সম্মেলন কক্ষে ওই আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়। এ সময় প্রত্যেক নিহতের স্বজনকে ৫ লক্ষ ৬০হাজার টাকার চেক হস্তান্তর করা হয়। নিহত প্রতিজনের পরিবারের স্বজনদের হাতে চেক তুলে দেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির ও মাল্টিফ্যাবস লিমিটেডের চেয়ারম্যান মহিউদ্দীন ফারুকী।

চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে অন্যান্যর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো: রাহেনুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মাহমুদ হাসান, মাল্টিফ্যাবস লিমিটেডের পরিচালক ডা. মেসবা ফারুকী ও আব্দুল কুদ্দুস প্রমুখ ।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, মাল্টিফ্যাবস লিমিটেড কর্তৃপক্ষ নিহত প্রত্যেকের স্বজনকে ৫লক্ষ টাকা করে দিচ্ছে। এর মধ্যে এক লক্ষ টাকা শ্রম আদালতে এবং বাকি ৪ লক্ষ টাকা পে-অর্ডারের মাধ্যমে দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া এ কোম্পানির ডেনমার্কের ক্রেতা জবী ঐড়ষস (ওউ) কর্তৃক অনুদান বাবদ প্রত্যেক পরিবারকে এক লক্ষ ৬০ হাজার টাকা করে দেয়া হয়েছে।

মাল্টিফ্যাবস কর্তৃপক্ষ জনায়, এ কোম্পানী নিহত ১৩ জনের সন্তানদের লেখাপড়ার ব্যয়ভার বহন করবে। যদি চাকুরি যোগ্য পোষ্য থাকে তাহলে তাকে চাকুরি দেয়া হবে। মাল্টিফ্যাবস ফাউন্ডেশন নামে একটি প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি করা হয়েছে যার মাধ্যমে আগামীতে নিহত পরিবার সচ্ছল না হওয়া পর্যন্ত তাদের প্রদেয় বেতনের সমপরিমান টাকা দেয়া হবে। বাৎসরিক দুই ঈদে বোনাস দেয়া হবে।

এছাড়া রপ্তানি বিল হতে শ্রমিক কল্যাণ তহবিলে জমাকৃত টাকা থেকে প্রত্যেক ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার তিন লক্ষ করে টাকা পাবেন। আহত শ্রমিকরা সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত চিকিৎসার খরচ এবং মাসিক বেতন পাবেন। এর আগে নিহতদের লাশ পরিবহন ও দাফন কাফনের জন্য কোম্পানির পক্ষ থেকে ৫০ হাজার করে টাকা দেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৩ জুলাই সোমবার সন্ধ্যা ৭ টা ৫ দিকে নয়াপাড়া এলাকায় মাল্টি ফ্যাবস লিমিটেড পোশাক কারখানায় বয়লার বিস্ফোরনের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহত হয় ১৩ জন এবং আহত অর্ধশতাধিক। তাদের গাজীপুরের বিভিন্ন হাসপাতালে ও ক্লিনিকে ভর্তি ও চিকিৎসা দেয়া হয়। তাৎক্ষনিকভাবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে লাশ পরিবহন ও দাফন কাফনের জন্য বিশ হাজার টাকা করে দেয়া হয়েছিল।