Pages

Categories

Search

আজ- শুক্রবার ১৬ নভেম্বর ২০১৮

বড়পুকুরিয়া কয়লা ভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রতিবাদে ফুলবাড়ীতে মানববন্ধন

plabon__fullbari__dinajpur__pic__01__dt__26-10-16
প্লাবন গুপ্ত শুভ, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : বড়পুকুরিয়া কয়লা ভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিরূপ প্রভাবের প্রতিবাদসহ ৬দফা দাবিতে বুধবার ঘন্টাব্যাপী দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে জীবন বাঁচার সংগ্রাম কমিটি।
৬ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে তারবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ছাই ও দুষিত পানির কারণে ব্যাপকহারে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ফসল ও বিভিন্ন রোগবালাইয়ে আক্রান্ত হচ্ছে গ্রামবাসী। এ কারণে ফুলবাড়ী উপজেলার পূর্ব দুধিপুর গ্রামের প্রতিটি মানুষকে ক্ষতিপূরণ প্রদান, গ্রামের মানুষের জন্য বিশুদ্ধ পানীয়জলের ব্যবস্থা করা, বেকার যুবক-যুবতিদের যোগ্যতার ভিত্তিতে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে চাকরির ব্যবস্থা করা, পূর্ব দুধিপুর গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা, গ্রামে মসজিদ নির্মাণের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পার্শ্ববর্তী স্কুল ও কলেজ নির্মাণ করে এলাকার ছেলে-মেয়েদের শিক্ষা নিশ্চিত করা।
বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পানি নিস্কাশন ক্যানেলে পার্শ্বের গ্রামীণ রাস্তার ওপর সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে গ্রামের সর্বস্তরের নারী ও পুরুষরা অংশ নেন।
মানববন্ধন কর্মসূচি চলাকালে ৬ দফা দাবির সমর্থনে বক্তব্য রাখেন শিবনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ চৌধুরী বিপ্লব, জীবন বাঁচার সংগ্রাম কমিটির আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ারুল ইসলাম, সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম বুলু, হাবিবুর রহমান, আনিছুর রহমান, আব্দুর রাজ্জাক প্রমূখ।
জীবন বাঁচার সংগ্রাম কমিটির আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ারুল ইসলাম ও সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম বলেন, তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের সময় কর্তৃপক্ষ এলাকাবাসীকে অনেক রঙ্গীন স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। কিন্তু কোন স্বপ্নই দেখতে পায়নি এলাকাবাসী। উপরোন্ত বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ছাইয়ের কারণে ফসলি জমিতে ফসল উৎপাদন চরমভাবে কমে গেছে। অব্যাহত পানি নিস্কাষনের কারণে এলাকায় নলকূপে পানি ওঠছে না। পানি শূন্য হয়ে পড়েছে এলাকা। বিশুদ্ধ পানির অভাবে বাধ্য হয়ে এলাকাবাসী দুষিত পানি পান করেই জীবন বাঁচাচ্ছে। এতে করে প্রতিটি মানুষই এখন বিভিন্ন প্রকার চর্মরোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসী দীর্ঘদিন থেকে দাবি দাওয়া নিয়ে নিয়মতান্ত্রিকভাবে আন্দোলন সংগ্রাম করলেও কর্তৃপক্ষ এলাকাবাসীর প্রতি কোন সহানুভূতি দেখাচ্ছেন না। এ কারণে ৬ দফা দাবি পূরণ না হলে আগামীতে বিদ্যুৎ কেন্দ্র অচল করে দেয়ার মতো আন্দোলন সংগ্রাম গড়ে তোলা হবে। ৬ দফা দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি প্রধানমন্ত্রী ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন দপ্তরে প্রদান করা হয়।
এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, এলাকাবাসীর বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আলোচনা করছেন। সেখান থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে স্থানীয়ভাবে সেটাই করা হবে।