Pages

Categories

Search

আজ- বুধবার ১৪ নভেম্বর ২০১৮

বোরকা পরে পালাচ্ছে আইএস; ইসরাইলি জেনারেল আটক

অক্টোবর ২২, ২০১৫
আন্তর্জাতিক
No Comment
সিরাজুল ইসলাম, তেহরান থেকে:64019_1

সিরিয়া থেকে রুশ বিমান হামলার চোটে বিদেশি মদদপুষ্ট উগ্র আইএস সন্ত্রাসীরা দাড়ি শেভ করে এবং বোরকা পরে পালাচ্ছে বলে খবর বের হয়েছে। এ খবর দিয়েছে ব্রিটেনের প্রভাবশালী পত্রিকা ডেইলি মেইল। খবরে বলা হয়েছে- রাশিয়ার বিমান হামলায় দিশেহারা হয়ে ভয়ার্তকথিত ‘জিহাদিরা’ পালাতে শুরু করেছে। এরা সিরিয়া থেকে প্রধানত তুরস্কের দিকে পালিয়ে যাচ্ছে। মজার বিষয় হলো- শুধু দাড়িই শেভ করছে না এসব ‘বীর বাহাদুর’ সেই সঙ্গে বোরকা পরতে বাধ্য হচ্ছে। আর নিকাব দিয়ে মুখ ঢেকে গোপনে পালাচ্ছে অতি বিশ্বস্ত রজব তাইয়্যেব এরদোগানের তুরস্কে। নিকাব পরে পালাতে হচ্ছে এ কারণে যে, “ধরা পড়লে খবর আছে”!
এতদিন ধরে যেসব আইএস সন্ত্রাসী লম্বা লম্বা দাড়ি রেখে ইসলামের ‘বুজর্গ’ সেজেছিলেন তারা এখন দাড়ি কেটে গাদা মেরেছে আর তার ছবি টুইটারে পোস্ট করা হয়েছে। এ ঘটনা থেকে বোঝা যাচ্ছে যে, সিরিয়ায় রাশিয়ার বিমান হামলা খুবই কার্যকরী হয়েছে। রাশিয়া ও সিরিয়ার যৌথ হামলায় সন্ত্রাসীদের দাড়ি কামানো এবং বোরকা পরে মহিলা সেজে পালানোর ঘটনায় বোঝা যায় হামলায় ছিন্ন-ভিন্ন হয়েছে তাদের অবস্থান। এটিও পরিষ্কার হয়- মার্কিন নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা সরকারগুলো এবং তাদের আঞ্চলিক মিত্ররা জোট বাহিনী গঠন করে এতদিন বিমান হামলার নামে এসব সন্ত্রাসীকে কেবল বেড়ে ওঠারই সুযোগ দিয়েছে। তাতে যোগ্য সঙ্গ দিয়েছে ইহুদিবাদী ইসরাইল।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে সিরিয়ায় রুশ বিমান হামলা শুরু হয়েছে। এরপর থেকে সে হামলা কতটা তীব্র ও কার্যকরী তা জানার বিষয়ে মানুষের কৌতুহলের শেষ নেই! রুশ হামলার চিত্র কেমন -সন্ত্রাসীদের পালানোর ঘটনার মধ্যদিয়ে তা অনেকটা পরিষ্কার হচ্ছে। গায়ে তীব্র জ্বালা ধরেছে মিত্রদের। অনেকে বলছেন, রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন সন্ত্রাসীদেরকে এমন কিছু দিয়েছেন যা এরা কখনো ভুলতে পারবে না। সন্ত্রাসীরা ভালো কারেই জানে, পুতিন তাদের সঙ্গে খেলা করছেন না।
গত রোববার সিরিয়ার হামা প্রদেশে শুধু এক হামলায় মারা গেছে ৪০ সন্ত্রাসী। ওই হামলায় সন্ত্রাসীদের ১৬টি সাঁজোয়াযান ধ্বংস হয়েছে। আরবি ওয়েবসাইট আল মাসদারের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ পত্রিকা সানডে টাইমসের সাংবাদিক হালা জাবের এ তথ্য দিয়েছেন। এছাড়া, ব্রিটেনভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা সিরিয়ার অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসও এ খবর নিশ্চিত করেছে।
মিসেস জাবের টুইটারে পোস্ট করা ছবির ক্যাপশনে বলেছেন, “ছবিতে দেখা যাচ্ছে বিদ্রোহীরা দৃশ্যত দাড়ি কেটে সিরিয়া থেকে পালাচ্ছে।”
টুইটারে পোস্ট করা দ্বিতীয় ছবির ক্যাপশনে তিনি বলেছেন, “জিহাদিরা আলেপ্পোয় দাড়ি শেভ করছে কারণ তারা ‘ক্লিন শেভ’ তুরস্কে পালাচ্ছে।”
মিসেস জাবেরের এ ছবি শত শত মানুষ শেয়ার করেছে এবং তা নিয়ে নানা রকম মন্তব্য করেছে। তবে প্রায় সবাই এসব সন্ত্রাসীকে উদ্দেশ করে বলেছে- পবিত্র ধর্ম যুদ্ধ বা জিহাদ নিয়ে এরা ভণ্ডামি করেছে; এরা এখন বিপদের মুখে পালাচ্ছে। একজন বলেছে, “খলিফার সিংহরা এখন ভীতু বিড়াল সেজে পালাচ্ছে।”
এদিকে, ইউএসএ পার্লামেন্টের দ্যা ফরেন অ্যাফেয়ার্স হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ এবং ইউরোপিয়ান ডিপার্টমেন্ট ফর সিউরিটি অ্যান্ড ইনফরমেশন অ্যাম্বাসেডর ড. হাইসাম বু-সাঈদ নিশ্চিত করেছেন যে, ইরাকের সেনারা ইসরাইলের একজন সেনা কর্মকর্তাকে আটক করেছে। আমেরিকা থেকে প্রকাশিত ভেটার্ন ম্যাগাজিন এ খবর দিয়েছে। আটক সেনার নাম ইউসি এলোন শাহাক।
ইসরাইলের এ সেনা ব্রিগেডিয়ার র‍্যাংকের একজন কর্মকর্তা এবং তার ব্যাচ নম্বর হচ্ছে আর.ই-৩৪৩৫৬৫৭৮৭৬৫এজেড২৩১৪৩৪। এর আগে সিরিয়ার কুনেইত্রায় সন্ত্রাসীদের সঙ্গে বৈঠকের সময় সিরিয়ার হামলায় এক ব্রিগেডিয়ার মারা গিয়েছিল। বু-সাঈদ জানান, ইরাকের মসুল শহরের সাইনিয়েহ এলাকায় আইএস’র এলিট ইউনিটের অন্তত ৯৫ জন নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। এরা সবাই স্থানীয় বাহিনীর হাতে ধরা পড়েছিল। এসব সন্ত্রাসীর বেশিরভাগই চেচেন নাগরিক; অল্প কয়েকজন ইরাকি। ইরান, ইরান, সিরিয়া ও রাশিয়ার সমন্বয়ে যে গোয়েন্দা তথ্যকেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে তার তথ্যের ভিত্তিতে এসব সন্ত্রাসীকে আটক করা হয়। এরা সবাই ইলেক্ট্রনিক ও বোমা হামলায় বিশষজ্ঞ ছিল।
এর আগে এই ভেটার্ন ম্যাোজিন গত ২৯ সেপ্টেম্বর খবর দিয়েছে, সিরিয়ায় ইসরাইলি কমান্ডোরা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে মিলে সরকারি সেনাদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। কিছুদিন আগেও ইসরাইলি সেনারা সিরিয়ার গোলান মালভূমিতে সরকারি সেনাদের ওপর রকেট ও গোলা বর্ষণের পর কথিত ফ্রি সিরিয়ান আর্মি ও আল-কায়েদার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত আন-নুসরা ফ্রন্ট সরকারি সেনাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালায়। সেখানকার চারটি এলাকায় সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সন্ত্রাসীরা ব্যাপক হামলা চালায়। পরে রাত নেমে আসায় তারা গোলাগুলি বন্ধ করে। ভেটার্ন ম্যাগাজিন সুস্পষ্ট করে বলেছে, মিত্র ইসরাইলি বাহিনীর কাছ থেকে সহায়তা পাওয়ার পর সন্ত্রাসীরা ওই তীব্র হামলা চালাতে সক্ষম হয়। এটিই গোলান মালভূমিতে সিরিয়ার সেনাবাহিনীর ওপর ইসরাইলি সেনাদের প্রথম হামলা ছিল না। এর আগে আগস্ট মাসের প্রথম দিকে ইসরাইলি বিমান বাহিনী হাদার ও কান আস-সেহি শহরে সিরিয়ার সেনাবাহিনীর ওপর দফায় দফায় হামলা চালায়। সিরিয়া সীমান্ত থেকে ইসরাইলের আপার গ্যালিলিতে রকেট হামলার অজুহাত তুলে ওই হামলা চালায় ইসরাইলি বিমান বাহিনী। গত বছরও একই ধরনের অজুহাত তুলে ইসরাইলের বিমান বাহিনী জাতিসংঘ নির্ধারিত সীমানার ভেতরে হামলা চালিয়েছিল। সে সময় ইসরাইল অভিযোগ করেছিল- কুনেইত্রা এলাকা থেকে রকেট হামলা করেছে সিরিয়া। ইসরাইলের ওই হামলার পর আন-নুসরা ফ্রন্টের জন্য বর্ডার-ক্রসিং এলাকার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পথ পরিষ্কার করে দিয়েছিল ইসরাইলি সেনারা।
ভেটার্ন ম্যাগাজিন বলছে, বর্তমানে সিরিয়ার ভেতরে আইএস এবং আন-নুসরা ফ্রন্টের হয়ে লড়াই করছে ইসরাইলের ৮০০ সেনা।
এসব তথ্য থেকে পরিষ্কার হয়- সিরিয়া ও ইরাকে বর্তমানে যারা কথিত ইসলামি খেলাফত কায়েম করেছে তারা প্রকৃতপক্ষে ইসলামের কেউ নয়। এরা নিতান্তই সন্ত্রাসী এবং ইসলামকে কলংকিত করার জন্য যত রকমের নিষ্ঠুরতা ও বর্বরতা আছে তার সবই প্রদর্শন করছে। এদের পেছনে রয়েছে ইসরাইল ও আমেরিকা। যেসব কথিত মুসলমানের পক্ষে আমেরিকা ও ইসরাইলমদদ দেয় তখন বুঝতে কষ্ট হয় না যে, এরা আর যাই হোক ইসলামের কেউ নয়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ফিলিস্তিনিদের ভূখণ্ড জোর করে কেড়ে নিয়ে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এরপর থেকে ইসরাইলের স্বার্থ বাদে মুসলমানদের স্বার্থে আমেরিকা ভালো কোনো কাজ করেছে তার নজির দেখানো যাবে না। বরং ফিলিস্তিনের নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের ওপর ইসরাইলের বর্বরতার প্রতি সবসময় অকুণ্ঠ সমর্থন দিয়ে আসছে আমেরিকা। ইসরাইলকে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক দিক দিয়ে সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য আমেরিকা সব ধরনের সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। ইসরাইলের হাতে তারা পরমাণু অস্ত্র তুলে দিতেও কণ্ঠাবোধ করে নি। আর সেই আমেরিকা ও ইসরাইল যখন একজোট হয়ে একটি গোষ্ঠীকে মদদ দিয়ে ইরাক ও সিরিয়ার সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে মাঠে নামায় এবং অজস্র সাধারণ মানুষ এদের হাতে করুণভাবে মৃত্যুবরণ করে তখন কী আর কোনো সন্দেহ থাকে যে, এরা ইসলামের কেউ নয়? কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য-অনেকেই প্রকৃত সত্য বুঝতে পারছে না অথবা বুঝতে চাইছে না। অবশ্য, সত্য যাতে সহজে উপলব্ধি না করা যায় সেজন্য সন্ত্রাসীদের গায়ে ইসলামের আবরণ দেয়া হয়েছে। তাতে পরিস্থিতি বুঝতে একটু কঠিন হয়েছে বৈকি। সে আবরণ দিয়েছে মুসলিম বিশ্বেরই কয়েকটি প্রভাবশালী রাষ্ট্র। যাদের আজকালকের ভূমিকা ইসলাম ও মুসলমানদের জন্য বৃহত্তর অর্থে মোটেই কল্যাণকর নয়। ফিলিস্তিন ইস্যু যদি মুসলিম বিশ্বের প্রধান সমস্যা হয় তাহলে সে সমস্যা সমাধানে এসব মুসলিশ দেশ একেবারেই বেহুঁশ বরং মাজহাবগত বিভেদ সৃষ্টিতে এরা বেশি ব্যস্ত, মুসলিম উম্মাহ তাদের কাছে বড় কিছু নয়।
লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক, রেডিও তেহরান।