Pages

Categories

Search

আজ- মঙ্গলবার ২০ নভেম্বর ২০১৮

বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব শুরু শুক্রবার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন, দলে দলে মুসল্লিদের আগমন

জানুয়ারি, ১২, ২০১৭
আন্তর্জাতিক, টঙ্গী, ধর্ম, শীর্ষ সংবাদ
No Comment

 গাজীপুর ‌দর্পণ রিপোর্ট: টঙ্গীর তুরাগ তীরে মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলমানদের তাবলীগ জামাতের এবারের বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে। এবারের বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে সকল প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। কনকনে শীত ও কুয়াশা উপেক্ষা করে বাস-ট্রাক, কার-পিকআপসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে দলে দলে মুসল্লিরা ইতোমধ্যে টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমাস্থলে আসছেন। দুই দফার এ ইজতেমার প্রথম দফায় অংশ নিতে বুধবার ভোর থেকেই মুসল্লিরা কাঁধে-পিঠে প্রয়োজনীয় মালামাল নিয়ে টঙ্গির বিশ্ব ইজতেমার ময়দানে জেলাওয়ারি যার যার খিত্তায় অবস্থান নিতে শুরু করেছেন। অবশ্য গত কয়েকদিন থেকেই দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে জামাতবদ্ধ মুসল্লিরা এসে ময়দানের খিত্তায় খিত্তায় অবস্থান নিয়েছেন। টঙ্গীর ইজতেমাস্থল এখন মুসল্লিদের আগমনে মুখরিত হয়ে উঠেছে।

আজ প্রথম দিন শুক্রবার বাদ ফজর আনুষ্ঠানিক আমবয়ানের মাধ্যমে তাবলীগের বুজুর্গ মুরুব্বীরা এর সূচনা করার কথা রয়েছে। তবে বৃহস্পতিবারই বিশ্ব ইজতেমার বিশাল ময়দানে লাখো মুসল্লী জমায়েত হওয়ায় বাদ মাগরিব থেকেই মুসল্লীদের মাঝে হেদায়েতী বয়ান শুরু হয়েছে।

স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যায়ের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার হাজার হাজার মানুষ বাস, প্রাইভেট কার, ট্রাক, লেগুনাসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে ইজতেমাস্থলে সমবেত হচ্ছে। আখেরি মোনাজাতের আগ পর্যন্ত এটি অব্যাহত থাকবে।

এবার দ্বিতীয় বারের মতো দেশের মোট ৩২টি জেলা নিয়ে ইজতেমার দুই পর্ব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পরবর্তী বছরে (২০১৮ সালে) বিশ্ব ইজতেমার দু’পর্বে বাকী ৩২ জেলার মুসল্লীরা অংশ নিবে। এবছরের প্রথম পর্বে অংশ নেবে ঢাকার একাংশসহ ১৭টি জেলার তাবলিগ অনুসারীরা। দ্বিতীয় পর্বে অংশ নেবে ১৬টি জেলাসহ ঢাকার বাকী অংশের তাবলিগ অনুসারীরা। তবে বিদেশী মুসল্লীরা প্রতি বছর বিশ্ব ইজতেমায় অংশ নিতে পারবে। মুসল্লীদের স্থান সংকূলান না হওয়ায় এবং নিরাপত্তার কথা ভেবে ২০১১ সাল থেকে দুই পর্বের ইজতেমা শুরুর সিদ্ধান্ত হয়। বিশ্ব ইজতেমার শীর্ষ পর্যায়ের মুরুব্বীরা ইজতেমার এ তারিখ নির্ধারণ করেছেন।

এবারের ২০১৭ সালের বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব দেশের ৩২টি জেলার মুসল্লীদের নিয়ে টঙ্গী তুরাগ তীরে দুই ধাপে শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে এবং আগামী রবিবার (১৫ জানুয়ারি) আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে ইজতেমার প্রথমপর্ব শেষ হবে। এরপর চার দিন বিরতি দিয়ে  ২০ জানুয়ারি শুরু হবে দ্বিতীয় পর্ব। দ্বিতীয় পর্বে অংশ নেবে ঢাকার বাকী অংশসহ ১৬টি জেলার তাবলিগ অনুসারী। ২২ জানুয়ারি দ্বিতীয় পর্বের আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটবে দু’পর্বের এবারের বিশ্ব ইজতেমা।

তাবলীগ জামাতের উদ্যোগে প্রতিবছর এ বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয় টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে। প্রায় ১৬০ একর এলাকাজুড়ে বিস্তৃত ইজতেমা মাঠে বিশ্বের প্রায় সব মুসলিম দেশ থেকেই তবলীগ জামাতের অনুসারী ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা অংশ নেন। তারা এখানে তবলীগ জামাতের শীর্ষ আলেমদের বয়ান শুনেন এবং ইসলামের দাওয়াতি কাজ বিশ্বব্যাপী পৌঁছে দেয়ার জন্য জামাতবদ্ধ হন। এখান থেকেই দ্বীনের দাওয়াতি কাজে বেরিয়ে যান। ইউরোপ, আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশের তবলীগ অনুসারীরা মিলিত হন এজতেমায়।

প্রতিবছরের ন্যায় এবারও স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ও কলকারখানার শ্রমিক-মালিকসহ বিভিন্ন পেশার মুসলমান ধর্মাবলম্বীরা বিশ্ব ইজতেমার মাঠে প্রস্তুতিমূলক কাজ সম্পন্ন করেছেন। ময়দানে মুসল্লিদের কাতারবদ্ধ হওয়ার জন্যে পুরো মাঠে দাগ কাটা সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া ইজতেমা ময়দানে জেলাওয়ারি মুসল্লিদের স্থানও (খিত্তা) নির্দিষ্ট করা হয়েছে। মুসল্লিদের তুরাগ নদ পারাপারের জন্য সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেডের সদস্যরা তুরাগ নদের ৯টি স্থানে ভাসমান সেতু নির্মাণের কাজ সমাপ্ত করেছে।

বৃহস্পতিবার দেখা গেছে, ইজতেমা মাঠের পশ্চিম পাশের মাঝামাঝি এলাকায় তুরাগ তীরে নামাজ পড়ার মিনার ও বয়ান মঞ্চ এবং পশ্চিম-উত্তর কোণায় দোয়া মঞ্চ, মাঠে তাশকিলের কামড়া, মোকাব্বির মঞ্চ, জুড়নেওয়ালে জামাত কক্ষ নির্মাণসহ বিশেষ ছাতা মাইক স্থাপনের কাজ শেষ হয়ে গেছে। গোসলের হাউজ ও টয়লেট স্থাপন ও সংস্কারের কাজও শেষ হয়ে গেছে।

বিদেশী মুসল্লিদের জন্য মাঠের পশ্চিম-উত্তর কোণে গড়ে তোলা হয়েছে বিদেশী মেহমানদের (মুসল্লি) আবাসন ব্যবস্থা। সেখানে বিদ্যুৎ, টেলিফোন, গ্যাস সংযোগসহ রয়েছে আধুনিক সুবিধাদি। বিদেশী নিবাসের রন্ধনশালায় রয়েছে তাদের আপ্যায়নের নানা আয়োজন। বিদেশী মেহমান খানার জিম্মাদার জানান, ইতোমধ্যেই বহু বিদেশী মেহমান ইজতেমা ময়দানে এসে পৌঁছেছেন। অনেকে পথে রয়েছেন। তবে মঙ্গলবার থেকে বিদেশী মেহমানরা আসতে শুরু করেছেন। আখেরি মোনাজাতের দিন পর্যন্ত তাদের এ আগমন অব্যাহত থাকবে। এখানে ইংলিশ, আরব, অনারবদের জন্য আলাদা আলাদা তাঁবু ও খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিদিন তাদের পছন্দমাফিক খাবারও সরবরাহ করা হচ্ছে। সকালের নাস্তায় স্যুপ, হালুয়া, ডিম, রুটি, মধু, খেজুর, জয়তুনের তেল, ডিমের তৈরি বিশেষ খাবার ‘শুকশুকি’ প্রভৃতি দুপুর ও রাতে পোলাও মাংস, বিরিয়ানি, সাদা ভাত, মাছ, রুটিসহ বিভিন্ন খাবার রান্না ও সরবরাহ করা হয়। সেখানে নানা ধরনের খাবার রান্নার জন্য ২ শতাধিক বাবুর্চি ছাড়াও শুধু তুন্দুর রুটি বানানোর জন্য কাকরাইল মাদ্রাসার দেড়’শর মতো শিক্ষার্থীও যোগ দিয়েছেন। তিনি আরও জানান, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মুসল্লীরা রুটি, মাংস ছাড়াও সাদা ভাত-মাছ খেতে পছন্দ করেন। এছাড়া এবার বিদেশি মুসল্লিদের জন্য ২০ শতাংশ আবাসনসহ অন্যান্য সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা বিশেষ বাণী দিয়েছেন।

বিদেশী মুসল্লিদের জন্য এজতেমার মূল ছয় দিনের প্রতিদিন এখানে প্রায় ৪ টন গরু, ৫ টনের মতো মুরগী ও ১ টনের মতো খাসির মাংস, প্রায় ৫ টন মাছ ও ৪ টন সবজির প্রয়োজন হয়। এ ছাড়া প্রতিদিন তুন্দুর রুটি লাগে ২০ হাজারের মতো। ইজতেমার মাঠের প্রস্তুতির কাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা তবলীগের শীর্ষ মুরুব্বী গিয়াস উদ্দিন জানান, সব কাজ করা হয় মোশায়ারার (পরামর্শ) মাধ্যমে। এ বছর বাইরের প্রায় ৩০-৪০টি দেশ থেকে ৩০ হাজারেরও বেশি মুসল্লি এজতেমায় যোগ দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রথম পর্বে ১৭ জেলার মুসল্লিরা ২৭ খিত্তায় যেভাবে অবস্থান নেবেন:
প্রথম পর্বে (১৩-১৫ জানুয়ারি) ১৭ জেলার মুসল্লিরা ২৭ খিত্তায় অংশ নিচ্ছেন। বুধবার থেকে তারা ইজতেমা ময়দানের জেলাওয়ারি নির্ধারিত স্থানে (খিত্তায়) অবস্থান নিতে শুরু করেছেন।

মুসল্লীরা জেলাওয়ারী যে সকল খিত্তায় অংশ নিবেন সেগুলো হলো – ঢাকা (খিত্তা ১-৫), টাঙ্গাইল (খিত্তা- ৬, ৭ ও ৮), ময়মনসিংহ (খিত্তা-৯, ১০ ও ১১ ), মৌলভীবাজার (খিত্তা-১২), ব্রাহ্মণবাড়িয়া (খিত্তা-১৩), মানিকগঞ্জ (খিত্তা-১৪), জয়পুরহাট (খিত্তা-১৫), চাঁপাইনবাবগঞ্জ (খিত্তা-১৬), রংপুর (খিত্তা-১৭), গাজীপুর (খিত্তা-১৮ ও ১৯),  রাঙ্গামাটি (খিত্তা-২০), খাগড়াছড়ি (খিত্তা-২১), বান্দরবান (খিত্তা-২২), গোপলগঞ্জ (খিত্তা-২৩), শরীয়তপুর (খিত্তা-২৪), সাতক্ষীরা (খিত্তা-২৫) ও যশোর (খিত্তা-২৬ ও ২৭) ।
দ্বিতীয় পর্বে বিভিন্ন জেলার মুসল্লিরা খিত্তা ওয়ারি যেভাবে অবস্থান নেবেন:
দ্বিতীয় পর্বে অংশ নেবে ১৫টি জেলাসহ ঢাকা জেলার বাকী অংশের তাবলিগ অনুসারী মুসল্লীরা। ওইসব জেলা ও খিত্তাগুলো হলো- ঢাকা জেলা (খিত্তা ১-৫), মেহেরপুর (খিত্তা- ৬), ঢাকা (খিত্তা- ৭), বাগেরহাট (খিত্তা- ৮), রাজবাড়ি (খিত্তা- ৯), দিনাজপুর (খিত্তা- ১০), হবিগঞ্জ (খিত্তা- ১১), মুন্সীগঞ্জ (খিত্তা- ১২ ও ১৩), কিশোরগঞ্জ (খিত্তা- ১৪ ও ১৫),  কক্সবাজার (খিত্তা- ১৬), নোয়াখালি  (খিত্তা- ১৭ ও ১৮),  বাগেরহাট কক্সবাজার (খিত্তা- ১৯), চাঁদপুর কক্সবাজার (খিত্তা- ১২০), পাবনা (খিত্তা- ২১ ও ২২), নওগাঁ কক্সবাজার (খিত্তা- ২৩), কুষ্টিয়া (খিত্তা- ২৪), বরগুনা (খিত্তা- ২৫) এবং বরিশাল (খিত্তা- ২৬)।

ইজতেমা ময়দানে দুই মুসল্লির মৃত্যু :
বৃহষ্পতিবার বিকেল পর্যন্ত ইজতেমায় আগত দুই মুসল্লী মারা গেছেন। এদের মধ্যে বৃহষ্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪ টায় সাতক্ষীরা জেলা সদরের মৃত আব্দুস সোবহানের ছেলে আব্দুস সাত্তার (৬০) মারা গেছেন। এর আগে বুধবার দিবাগত রাতে ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল থানার মারুয়া গ্রামের ফজলুল হক (৫৬) মারা যান। বার্ধক্য জনিত কারনে তারা ইজতেমা ময়দানে মারা যান বলে জিম্মাদার জানিয়েছেন।

তুরাগ নদীতে ভাসমান সেতু স্থাপন:
মুসল্লিদের তুরাগ নদী পারাপারের ৯টি ভাসমান সেতু স্থাপন করা হয়েছে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার কোরের তত্ত¡াবধানে। ইতোমধ্যে সেতুগুলো মুসল্লিদের চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে। ইজতেমা স্থলে কোন প্রকার অপরাধ সংগঠিত হলে তার জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজ করবে। গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এসএম আলম জানান, বুধবার থেকে ইজতেমা স্থলে ও আশপাশের খাবারের দোকানে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান শুরু করেছে। ইজতেমায় অংশ নেয়া মুসল্লিদের যোগাযোগের সুবিধার জন্য ইজতেমা ময়দান এলাকায় প্রয়োজন সাপেক্ষে প্রায় অর্ধশত টেলিফোন সংযোগ দেয়া হয়েছে। র‌্যাব- কন্ট্রোল রুম, পুলিশ কন্ট্রোল রুম, জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল রুম, ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুম, টঙ্গী পৌরসভার কন্ট্রোল রুম, ইজতেমার আমিরের রুম, বিদেশী মেহমানদের রান্না ঘরে, সেনা সদস্যদের কন্ট্রোল রুমে, স্বাস্থ্য ক্যাম্প, পানির পাম্প সেন্টার, বিদেশী তাঁবু ও গোডাউনে এসব টেলিফোন লাইন সংযোগ দেয়া হয়েছে। মোবাইল নেটওয়ার্ক ঠিক রাখতে অস্থায়ী টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে র‌্যাব ও পুলিশের সতর্ক অবস্থান:
র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমদ বলেছেন, ৪ জুলাই শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার পর দেশে কোনো জঙ্গি হামলা হয়নি। আর কোনো জঙ্গি হামলা যাতে না হতে পারে সে ব্যাপারে আমরা সতর্ক আছি। বৃহস্পতিবার বিকেলে টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমাস্থলের আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা বলেন।
বেনজীর আহমেদ বলেন, শুক্রবার থেকে টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব শুরু হচ্ছে। ১৫ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে প্রথম পর্ব শেষ হবে। এরপর চারদিন বিরতি দিয়ে ২০ জানুয়ারি শুরু হবে দ্বিতীয় পর্ব। ২২ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের বিশ্ব ইজতেমা। ইজতেমা চলাকালে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে ইজতেমা ময়দানকে দুইটি সেক্টরে ভাগ করে জল, স্থল ও আকাশ পথে ত্রিমাত্রিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

র‌্যাব মহাপরিচালক বলেন, ইজতেমাস্থলের ভেতরে ছদ্মবেশে ও পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি, গাড়ি এবং মোটরসাইকেল দ্বারা ইজতেমা এলাকায় টহলের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া তুরাগ নদে সার্বক্ষণিক নৌ টহলের পাশাপাশি একটি চৌকস দল হেলিকপ্টার দিয়ে ইজতেমাস্থলকে ঘিরে আকাশপথে পর্যায়ক্রমে টহলের মাধ্যমে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং স্থল ফোর্সের সঙ্গে সমন্বয় করে যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনারোধ কল্পে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পকেটমার, ছিনতাই, মলমপার্টি এবং বিভিন্ন দুর্ঘটনা এড়াতে ইন্টারমিডিয়েট টহল টিম সার্বক্ষণিকভাবে দায়িত্ব পালন করবে। তিনি আরও বলেন, বিনামূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প, অসুস্থ মুসল্লিদের অ্যাম্বুলেন্স সেবা, সুপেয় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ এবং আখেরি মোনাজাতের দিন ঢাকার মহাখালী থেকে ইজতেমা ময়দান পর্যন্ত যাওয়া-আসার জন্য বিনাভাড়ায় পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে। মহিলা মুসল্লিদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক মহিলা র‌্যাব সদস্যও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

সিসি ক্যামেরার আওতায় পুরো ইজতেমা ময়দান:
বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে। বৃহস্পতিবার থেকে ইজতেমার চারপাশে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এবারই প্রথম বিশ্ব ইজতেমার চারপাশ সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ইজতেমাস্থলের আইন-শৃক্সখলা নিয়ে টঙ্গীর টেলিফোন শিল্প সংস্থা (টেশিস) মাঠে পুলিশের এক ব্রিফিংয়ে গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ এসব কথা জানান।

পুলিশ সুপার আরও জানান, ইজতেমা মাঠের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য র‌্যব-পুলিশসহ এবার ১২ হাজারের মতো নিরাপত্তাকর্মী কাজ করবেন। টঙ্গী ব্রিজ থেকে জয়দেবপুর চৌরাস্তা, মন্নু গেট থেকে কামারপাড়া পর্যন্ত এবং তুরাগ নদসহ পুরো এলাকাকে পাঁচটি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি সেক্টরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কঠোর নজরদারির মাধ্যমে কাজ করবেন।

তিনি বলেন, এবারের বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বে ছয় হাজারের অধিক ফোর্স থাকবে। থাকবে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ইজতেমা মাঠের ভেতরে সাদা পোশাকে পর্যাপ্ত পুলিশ দিয়েছি। খিত্তায় খিত্তায় পুলিশের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। ইজতেমা উপলক্ষ্যে মোড়ে-মোড়ে, গলিতে-গলিতে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। ইজতেমার প্রবেশ পথগুলোতে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। ইজতেমাকে ঘিরে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মুসল্লিরা আসছেন। আমাদের কাজ তাদের সার্বিক নিরাপত্তা বিধান করা। এছাড়া বিদেশি খিত্তায় তিনটি আর্চওয়ে স্থাপন করা হয়েছে। গত বছরের চেয়ে বেশি ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে। সেখান থেকে পুলিশ পর্যবেক্ষণ করছে। এ ছাড়া একটি অত্যাধুনিক কন্টোল রুম ও পাঁচটি সাব কন্টোল রুম করা হয়েছে। পুরো ইজতেমা এলাকাকে পাঁচটি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি সেক্টরে একজন করে অ্যাডিশনাল এসপিকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের উদ্দেশে পুলিশ সুপার বলেন, তারা কোনো সমস্যায় পড়লে যেন পুলিশের শরণাপন্ন হন।

পানি, বিদ্যুৎ, চিকিৎসা সেবা:
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের টঙ্গী অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, ইজতেমা মাঠে স্থাপিত উৎপাদন নলকূপের মাধ্যমে প্রতিদিন তিন কোটি লিটারেরও বেশি বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের সকল পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। ওজু-গোসলের হাউজ ও টয়লেটসহ প্রয়োজনী স্থানে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়াও পাকা দালানে প্রায় ৬ হাজারের মতো টয়লেট ইউনিট রয়েছে। এদের মধ্যে নষ্ট ও ক্ষতিগ্রস্ত অজু-গোসলখানা এবং টয়লেটগুলো ইতোমধ্যে সংস্কার করা হয়েছে।

ডেসকো কর্তৃপক্ষ জানান, ইজতেমা এলাকায় সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহের সব প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। উত্তরা, টঙ্গী সুপার গ্রিড ও টঙ্গী নিউ গ্রিডকে মূল ১৩২ কেভি সোর্স হিসেবে নির্বাচন করা হবে, যাতে যেকোন একটি গ্রিড অকেজো হলেও সামগ্রিক বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত না হয়। ইজতেমা এলাকায় ৪টি স্ট্যান্ডবাই জেনারেটর এবং ৫টি ট্রলি-মাউন্টেড ট্রান্সফরমারও সংরক্ষণ করা হবে। ফায়ার সার্ভিসের টঙ্গীর স্টেশন অফিসের দেয়া তথ্য মতে, ইজতেমাস্থলে তাদের একটি কন্ট্রোল রুমও স্থপন করা হয়েছে। যেখানে সার্বক্ষণিক কর্মকর্তাসহ ফায়ারম্যানরা থাকবেন। ময়দানের প্রতি খিত্তায় ফায়ার এস্টিংগুইসারসহ ফায়ারম্যান, গুদাম ঘর ও বিদেশি মেহমানখানা এলাকায় ৩টি পানিবাহী গাড়ি, ৩ সদস্যের ডুবুরি ইউনিট, ১টি স্ট্যান্ডবাই লাইটিং ইউনিট এবং ৫টি অ্যাম্বুলেন্স থাকবে।  এছাড়া ইজতেমা মাঠের ধুলাবালু নিয়ন্ত্রণে তাদের উদ্যোগে ইজতেমা মাঠের আশেপাশের এলাকায় পানি ছিটানো হবে।

টঙ্গী সরকারি হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার পারভেজ আলম জানান, ইজতেমায় আগত মুসুল্লিদের চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য সেবা দিতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ মেডিকেল অফিসারদের তালিকা ও ডিউটি রোস্টার করা হয়েছে। মুসল্লিদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দিতে মন্নু গেট, এটলাস গেট, বাটা কারাখানার গেট ও টঙ্গী হাসপাতাল মাঠসহ ৬টি অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এখানে হৃদরোগ, অ্যাজমা, ট্রমা, বার্ন, চক্ষু এবং ওআরটি কর্নারসহ বিভিন্ন ইউনিটে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ চিকিৎসা দেবেন। রোগীদের হাসপাতালে নেয়ার জন্য সার্বক্ষণিক ১৪টি অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন থাকবে।

এবারের ইজতেমা উপলক্ষে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন যেসকল কর্মসূচী হাতে নিয়েছেন এগুলোর মধ্যে-৫টি কন্ট্রোল রুম নির্মাণ (সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসন, র‌্যাব, পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি), ইজতেমায় আগত দেশী-বিদেশী মুসল্লীদের স্বাগত জানিয়ে ৮টি তোরণ নির্মাণ, ইজতেমার নিরাপত্তার জন্য র‌্যাবের ৯টি ও পুলিশের ৫টিসহ মোট ১৪টি ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ, ইজতেমায় নিয়োজিত নিরাপত্তা সদস্যদের জন্য ১৫০টি অস্থায়ী টয়লেট নির্মাণ, ২০টি ফগার মেশিনের মাধ্যমে মশক নিধন কার্যক্রম গ্রহণ, ইজতেমা কর্তৃপক্ষের চাহিদা মোতাবেক ৭০ ড্রাম ব্লিচিং পাউডার সরবরাহ করা, ইজতেমা চলাকালীন সময় ২০টি গার্বেজ ট্রাকের মাধ্যমে দিন-রাত বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম নিশ্চিত করণ, কন্ট্রোল রুম সমূহ ও অন্যান্য অস্থায়ী ভাবে খুটি স্থাপনের মাধ্যমে ৪০০টি বৈদ্যুতিক বাতির ব্যবস্থা করণ, তুরাগ নদীতে নিরাপত্তার জন্য টঙ্গী ব্রীজ ও কামারপাড়া ব্রীজের নীচে দুই পার্শ্বে বাঁশ দ্বারা ২টি বেষ্টনী নির্মাণ, ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের চৌরাস্তা পর্যন্ত দুই পার্শ্বে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও রাস্তায় পার্কিং করা গাড়ী সমূহ অপসারণ, ধূলাবালী নিয়ন্ত্রণের জন্য সার্বক্ষণিক পানি ছিটানোর ব্যবস্থা, রাস্তার দুই পাশে দেয়ালের অশ্লীল পোষ্টার অপসারণ ও সিনেমা হল সমূহ সম্পূর্ণ বন্ধের ব্যবস্থা করণ, বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে ৬টি টেলিফোন লাইন ও ২টি হট লাইন স্থাপন, বিনামূল্যে চিকিৎসার জন্য কন্ট্রোল রুমের সামনে ৫৪টি চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র স্থাপন, বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে আগত বিদেশী মেহমানদের রান্নার কাজের জন্য ১২৫টি গ্যাসের চুলা স্থাপন, সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক মনিটর ব্যবস্থা গ্রহণ, ৫২তম বিশ্ব ইজতেমা ২০১৭ ১ম ধাপে ২৭টি খিত্তা এবং ২য় ধাপে ২৯টি খিত্তা স্থাপন করা এবং দেশের ৩২টি জেলার ধর্মপ্রাণ মুসল্লীগণ অংশগ্রহণ করবেন, ১২টি উৎপাদক নলকূপ দ্বারা ১১ কিঃমিঃ পাইপ লাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন ঘন্টায় ৩ কোটি ৫০ লক্ষ গ্যালন সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করণ ইত্যাদি।

স্বাস্থ্যসেবা:
গাজীপুর জেলার সিভিল সার্জন ডা: আলী হায়দার খান বলেন, ইজতেমা উপলক্ষ্যে সকল প্রস্তুতি জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের রয়েছে। টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে আরও ৫০টি শয্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। হাসপাতালে একটি নিজস্ব কন্ট্রোল রুম ছাড়াও কার্ডিয়াক, বার্ণ, অ্যাজমা, ট্রমাসহ বিভিন্ন ইউনিট খোলা হয়েছে। এছাড়াও টঙ্গী সরকারি হাসপাতালের উদ্যোগে মুন্নগেট, বাটা গেট ও হোন্ডা রোডে মুসল্লিদের তাৎক্ষণিক সেবা দেওয়ার জন্য ৪টি মেডিকেল সেন্টার খোলা হয়েছে। মুসলি¬দের সেবা প্রদানের জন্য টঙ্গী সরকারি হাসপাতাল ও মেডিকেল সেন্টারগুলোতে ১২টি এ্যাম্বুলেন্স সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ইজতেমা এলাকায় সরকারি ও বেসরকারিভাবে  প্রায় অর্ধশত ফ্রি মেডিক্যাল সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। হোটেলে খাবারের মান ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ম্যাজিষ্ট্রেটসহ  সেনিটেশন টিম কাজ করছে।

বিশেষ বাস ও ট্রেন সার্ভিস:
এবার টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমার মুসল্লি পরিবহনে বিভিন্ন সড়কে বিআরটিসির ২২৮টি বাস চলাচল করবে। এর মধ্যে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম দফায় হবে ১৩ জানুয়ারি থেকে ১৫ জানুয়ারি এবং দ্বিতীয় দফা হবে ২০ জানুয়ারি থেকে ২২ জানুয়ারি। ১১ জানুয়ারি থেকে ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত বিআরটিসির ইজতেমা সার্ভিসে ওই সব বাস চলাচল করবে। এয়ারপোর্ট থেকে ইজতেমাস্থল পর্যন্ত (বিদেশি মুসল্লি পরিবহনে) ৩টি, আব্দুল্লাহপুর-মতিঝিল ভায়া ইজতেমাস্থল ২৯টি, শিববাড়ি-মতিঝিল ভায়া ইজতেমাস্থল ১৩টি, টঙ্গী-মতিঝিল ভায়া ইজতেমাস্থল ১৭টি, গাজীপুর চৌরাস্তা-মতিঝিল ভায়া ইজতেমাস্থল-৬টি, গাবতলী-গাজীপুর ভায়া ইজতেমাস্থল ৫টি, গাবতলী-মহাখালী ভায়া ইজতেমাস্থল-৩৫টি, গাজীপুর-মতিঝিল ভায়া ইজতেমাস্থল-২৫টি, মতিঝিল-বাইপাইল ভায়া ইজতেমাস্থল-২০টি, ঢাকা-নারায়নগঞ্জ রুটে-২০টি, চট্টগ্রাম-সাভার রুটে-২০টি, ঢাকা-নরসিংদী রুটে-২০টি, ঢাকা-কুমিল্লা রুটে-১৫টি বাস চলাচল করবে।

ইজতেমা উপলক্ষ্যে বিআরটিসির ইজতেমা সার্ভিস সুষ্ঠুভাবে চলাচল নিশ্চিত করতে কর্পোরেশনের প্রধান কার্যালয়ে এবং জোয়ার সাহারা বাস ডিপোতে দুইটি কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। এসব কন্ট্রোল রুমে দুইটি টেলিফান নম্বর যথাক্রমে-৯৫৬৪৩৬১ এবং ৮৯০০৬৫৫ খোলা থাকবে।

অপরদিকে বিশ্ব ইজতেমায় আগত মুসল্লীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে বাংলাদেশ রেলওয়ে ২৮টি বিশেষ ট্রেন পরিচালনা করবে। এ ছাড়া সকল আন্তনগর, মেইল এক্সপ্রেস ও লোকাল ট্রেনে অতিরিক্ত ২০টি কোচ সংযোজন করা হয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, দুই ধাপের ইজতেমার প্রথম ধাপের শুক্রবার ঢাকা-টঙ্গী-ঢাকা দুটি ‘জুম্মা স্পেশাল, আখেরি মোনাজাতের আগের দু’দিন জামালপুর ও আখাউড়া থেকে দুটি করে চারটি অতিরিক্ত ট্রেন পরিচালনা করা হবে। আখেরি মোনাজাতের আগের দিন লাকসাম-টঙ্গী একটি, আখেরি মোনাজাতের দিন ঢাকা-টঙ্গী-ঢাকা সাতটি, টঙ্গী-ঢাকা সাতটি, টঙ্গী-লাকসাম একটি, টঙ্গী-আখাউড়া দুটি, টঙ্গী-ময়মনসিংহ চারটিসহ মোট ২১টি আখেরি মোনাজাত স্পেশাল ট্রেন চালু থাকবে। মুসল্লীদের সুবিধার্থে ১৩ থেকে ১৫ জানুয়ারী ৭২৯/৭২২ মহানগর প্রভাতী/গোধুলী, ১২-১৮ জানুয়ারী ৭০৭/৭০৮ তিস্তা এক্সপ্রেস এবং শুক্রবার ৭০১/৭০২ সুর্বন এক্সপ্রেস ট্রেনগুলো সাপ্তাহিক বন্ধের দিনগুলোতেও চলাচল করবে। বিশেষ ট্রেন চলাচলের সুবিধার্থে সুর্বন এক্সপ্রেস, তিস্তা এক্সপ্রেস, কালনী এক্সপ্রেস, মহুয়া এক্সপ্রেস, তুরাগ এক্সপ্রেস, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ কমিউটার, ঢাকা-টঙ্গী কমিউটার, ঢাকা-জয়দেবপুর কমিউটার, ঢাকা-কুমিল্লা কমিউটার আখেরী মোনাজাতের দিন বন্ধ থাকবে।

K.Rana_Estama_Photo-02[1]
বিশ্ব ইজতেমায় মুসল্লীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে যানবাহন পার্কিংসংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। বৃহস্পতিবার ডিএমপি থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রেইনবো ক্রসিং থেকে আব্দুল্লাহপুর হয়ে ধউর ব্রিজ পর্যন্ত এবং রামপুরা ব্রিজ থেকে প্রগতি স্মরণি পর্যন্ত রাস্তা ও রাস্তার পাশে কোনো যানবাহন পার্কিং করা যাবে না। বিদেশগামী বা বিদেশ ফেরৎ যাত্রীদের বিমানবন্দরে আনা-নেওয়ার জন্য ট্রাফিক উত্তর বিভাগের ব্যবস্থাপনায় চারটি বড় আকারের মাইক্রোবাস নিকুঞ্জ-১ আবাসিক এলাকার গেইটে ভোর ৪টা থেকে থাকবে।

এছাড়াও সাহায্যের জন্য- ১০০, ৭১২৪০০০, তথ্যের জন্য- ডিএমপি মিডিয়া সেল- ৯৩৩৭৩৭৯, ০১৭১৩৩৯৮৭৫৬-৭, ০২-৯৩৩৭৩৬২ ন¤^রে ডায়াল করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

ট্রাফিক সম্পর্কিত যে কোনো তথ্যের জন্য উত্তরা ট্রাফিক জোনের সিনিয়র এসি মো. জিন্নাত আলী মোল্লা ,   (০১৭১৩৩৯৮৪৯৮) এবং টিআই মো. মাহফুজার রহমান (০১৭১১৩৬৬৫৬১) এর সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

বিশ্ব তাবলীগ জামাতের মুরুব্বীরা জানান, সারা বিশ্বে তাবলীগের দাওয়াত পৌঁছে যাওয়ায় পর্যায়ক্রমে ইজতেমায় শরীক হওয়া মুসল্লীদের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠানের সময় টঙ্গী তুরাগ তীরের এ বিশাল ময়দানেও স্থান সংকুলান হচ্ছে না। আগত মুসল্লীদের যাতায়াতেও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তাই বিশ্ব ইজতেমায় অংশগ্রহণকারীদের অসুবিধা ও দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে ২০১১ সাল থেকে দেশের ৬৪ জেলার মুসল্লিদের জন্য দুই দফায় বিশ্ব ইজতেমা শুরু হয়। ইতোপূর্বে ৬৪ জেলার জন্য তিনদিনের এক দফায় ইজতেমা অনুষ্ঠিত হতো। কিন্তু টঙ্গির ইজতেমা ময়দানে স্থান সংকুলান না হওয়ায় ২০১৫ সাল থেকে দেশের ৩২টি জেলার জন্য দুই দফায় ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এতে এক বছর পর পর ৩২ জেলার মুসল্লিরা ইজতেমায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। অর্থাৎ গত বছর যে সকল জেলার মুসল্লিরা দুই পর্বের বিশ্ব ইজতেমায় অংশ নিয়েছিলেন, ওইসব জেলার মুসল্লিরা এবছর ইজতেমায় অংশ নিতে পারবেন না। তারা এবার যার যার জেলায় আঞ্চলিক ইজতেমায় অংশ নেবেন। ২০১৫ সাল থেকে এ আঞ্চলিক ইজতেমা শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রথম পর্বের আখেরী মোনাজাত শেষে মুসল্লীরা ময়দান ছেড়ে দেওয়ার পর দ্বিতীয় পর্বে জেলা ওয়ারি (খেত্তা বিশেষ) মুসল্লীরা ময়দানে এসে অবস্থান নিবেন, বয়ান শুনবেন এবং দ্বিতীয় পর্বের আখেরী মোনাজাতে অংশ নিবেন। দ্বিতীয় পর্ব শেষে নিজ নিজ ঠিকানা ও গন্তব্যে ফিরে যাবেন।

এর মাধ্যমে শেষ হবে এবারের ৫২তম বিশ্ব ইজতেমা