Pages

Categories

Search

আজ- বুধবার ১৪ নভেম্বর ২০১৮

বিএনপি নেতা হান্নান শাহ’র মৃত্যুতে কাপাসিয়া বিএনপি’র তিন দিনের শোক, জানাযা শুক্রবার

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১৬
কাপাসিয়া, রাজনীতি, শীর্ষ সংবাদ
No Comment

fb_img_14749620986741

মোঃআঃকাইয়ুম: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) আ স ম হান্নান শাহ’র মৃত্যুতে কাপাসিয়ায় তিন দিনের শোক ঘোষণা করেছে স্থানীয় বিএনপি। এছাড়া আগামী শুক্রবার গাজীপুরের কাপাসিয়ায় জানাযা নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে বলে দলীয় সূত্রে জানাগেছে।

কাপাসিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা খন্দকার আজিজুর রহমান পেরা জানান, আ স ম হান্নান শাহ’র মৃত্যুতে গাজীপুর জেলা বিএনপি বুধবার থেকে গাজীপুরে তিন দিনের শোক ঘোষণা করেছে। এসময় দলের জেলা কার্যালয়সহ প্রতিটি উপজেলা, থানা, ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড কার্যালয়ে দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। টানানো হবে কালো পতাকা। এছাড়া ওই তিনদিন সকল নেতাকর্মীদের কালো ব্যাচ ধারণ করার জন্য বলা হয়েছে। তার মৃত্যুতে গাজীপুর মহানগর জিয়া পরিষদের উদ্যোগে জেলা বিএনপি কার্যালয়ে সকাল থেকে কোরআন তেলোয়াত করা হয়। মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে আগামি তিনদিন এ কোরআন তেলোয়াত করা হবে।

তিনি আরো জানান, বুধবার রাতে হান্নান শাহ-এর লাশ দেশে এসে পৌছাবে। আগামী শুক্রবার সকাল ৯টায় (সম্ভাব্য সময়) গাজীপুর জেলা শহরের ঐতিহাসিক ভাওয়াল রাজবাড়ি মাঠে বিএনপি নেতা হান্নান শাহ’র জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর সকাল সাড়ে ১০টায় কাপাসিয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ও বাদ জুম্মা গ্রামের বাড়ি কাপাসিয়ার ঘাগটিয়ার চালা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জানাযা নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
এর আগে বৃহস্পতিবার ঢাকায় তিনটি জানাযা অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ১০টায় মহাখালী নিউ ডিওএইচএস-এ, সাড়ে ১১টায় সংসদ ভবনের সামনে এবং বাদ জোহর নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হবে।
উল্লেখ্য, ১৯৪১ সালরে ১১ অক্টোবর গাজীপুররে কাপাসিয়া ঘাগটয়িা গ্রামে জন্ম নেন হান্নান শাহ। তার বাবা ফকরি আবদুল মান্নান ১৯৬৫ থকেে ১৯৬৮ সাল র্পযন্ত পাকিস্তান সরকারের মন্ত্রী ছিলেন। হান্নানরে ছোট ভাই শাহ আবু নাঈম মোমিনুর রহমান ছিলেন সুপ্রিম
কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি।
বিএনপি নেতাদের তথ‌্য অনুযায়ী, ১৯৬২ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কমিশন পাওয়া হান্নান শাহ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে অন‌্য বাঙালি সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি ছিলেন। ১৯৭৩ সালের সেপ্টেম্বরে দেশে ফিরে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন।
১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে একদল সেনা সদস্যের হাতে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে রাঙ্গুনিয়া থেকে তার মরদেহ ঢাকায় নিয়ে আসেন তখনকার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আসম হান্নান শাহ। এইচ এম এরশাদ সরকারের সময় তিনি সেনাবাহিনী থেকে অবসরে যান।
অবসরের পর এরশাদের সময়ে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পেয়েছিলেন হান্নান শাহ। ১৯৮৩ সালে ওই পদ ছেড়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন।
শুরুতে মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক, ১৯৮৬ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত দলের সাংগঠনিক সম্পাদক (ঢাকা বিভাগ) ও ১৯৯৩ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস‌্য হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন।
হান্নান শাহ ১৯৯১ সালের নির্বাচনে গাজীপুর-৪ আসন (কাপাসিয়া) থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে তাকে পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেন তখনকার প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। ২০০১ সালের নির্বাচনে জিতে বিএনপি আবারও ক্ষমতায় গেলেও সেবার হেরে যান হান্নান।
২০০৭ সালের শুরুতে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই বছরের জরুরি অবস্থার মধ‌্যে খালেদা জিয়া যখন কারাগারে, সে সময় বিএনপিকে সংগঠিত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন হান্নান শাহ। দলের সংস্কারপন্থি অংশের বিরুদ্ধে সে সময় গণমাধ্যমেও সোচ্চার ছিলেন তিনি।
এরপর ২০০৯ সালে বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে দলের সবোর্চ্চ ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য করা হয় হান্নান শাহকে, এ বছর অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ কাউন্সিলেও তা বহাল থাকে।
নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় কয়েকবার কারাগারে যেতে হয়েছিল আসম হান্নান শাহকে। বর্তমান সরকারের সময়েও তাকে কারাগারে যেতে হয়েছে, নাশকতাসহ বিভিন্ন অভিযোগে ৩০টির বেশি মামলা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।
উল্লেখ্য, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) আ স ম হান্নান শাহ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সিঙ্গাপুরের র‌্যাফেলস হার্ট সেন্টার হাসপাতালে স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ৩৭ মিনিটে ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি —– রাজিউন)।