Pages

Categories

Search

আজ- বুধবার ১৪ নভেম্বর ২০১৮

বিএআরআই’র ‘কেন্দ্রীয় গবেষণা পর্যালোচনা ও কর্মসূচি প্রণয়ন কর্মশালা’র উদ্বোধন

অক্টোবর ১৪, ২০১৭
উন্নয়ন সংবাদ, কৃষি, গাজীপুর
No Comment

গাজীপুর দর্পণ রিপোর্ট : বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে (বিএআরআই)’র ৬ দিন ব্যাপী ‘কেন্দ্রীয় গবেষণা পর্যালোচনা ও কর্মসূচি প্রণয়ন কর্মশালা-২০১৭’র উদ্বোধন করা হয়েছে। সকালে বিএআরআই’র কাজী বদরুদ্দোজা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত উদ্বেধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে কৃষি মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি। মোট জিডিপি’র প্রায় ১১.৬৮ শতাংশ আসে কৃষি ও বনজ খাত থেকে। একবিংশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা, সীমিত ভূমির সর্বোত্তম ব্যবহার, গ্রামীণ কর্মসংস্থান ও আয়বৃদ্ধি, অধিক ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যে নতুন নতুন জাত উদ্ভাবন, লাগসই প্রযুক্তির প্রয়োগ, জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে খাপখাওয়ানো এবং কৃষি বিষয়ক জ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে কৃষির আধুনিকীকরণ, শস্যের নিবিড়তা বৃদ্ধি ও বহুমুখীকরনের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষি মন্ত্রণালয় ও এর অধীনস্থ সংস্থাসমূহ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কৃষির সামগ্রিক উন্নয়নের সাথে জড়িয়ে আছে সমগ্র দেশের উন্নয়ন। তিনি আরও বলেন কৃষি শুধুমাত্র খোরপোষের সাথেই জড়িত না, এটাকে ব্যবসায়িক ভিত্তিতে এগিয়ে নিতে হবে।


মন্ত্রী বিজ্ঞানীদের আবিষ্কারের প্রশংসা করেন এবং কৃষকের মাঠে সমাদৃত হয় এরকমের প্রযুক্তি আবিষ্কার করার কথা বলেন।
এর আগে মন্ত্রী “প্রযুক্তি প্রদর্শনী” পরিদর্শন করেন। তিনি ‘কৃষি প্রযুক্তি হাতবই’ এবং ‘বার্ষিক প্রতিবেদন ২০১৬-১৭’ এর মোড়ক উম্মোচন করেন।
বিএআরআই’র মহাপরিচালক ড. আবুল কালাম আযাদের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ্।
বিএআরআই’র গবেষণা কার্যক্রম ও সাফল্যের উপর সংক্ষিপ্ত উপস্থাপনা করেন বিএআরআই এর পরিচালক (গবেষণা) ড. মো. লুৎফর রহমান। বক্তব্য রাখেন বিএআরআই’র পরিচালক (সেবা ও সরবরাহ) ড. বীরেশ কুমার গোস¦ামী, পরিচালক (প্রশিক্ষণ ও যোগাযোগ) ড. পরিতোষ কুমার মালাকার।
বিএআরআই’র প্রটোকল অফিসার মাহবুবা আফরোজ চৌধুরী জানান, গত অর্থ বছর যে সকল গবেষণা কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছিল সেগুলোর মূল্যায়ন এবং এসব অভিজ্ঞতার আলোকে আগামী বছরের গবেষণা কর্মসূচি প্রণয়নের উদ্দেশ্যে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। ৬ দিন ব্যাপী এই কর্মশালায় সারা দেশ থেকে আগত কৃষি বিশেষজ্ঞ বিজ্ঞানীগণ অংশগ্রহণ করেন। এই গবেষণা পর্যালোচনা তিনটি ধাপে সম্পন্ন হয়ে থাকে। আঞ্চলিক গবেষণা পর্যালোচনা, অভ্যন্তরীণ গবেষণা পর্যালোচনা ও কেন্দ্রীয় গবেষণা পর্যালোচনা। প্রথমে আঞ্চলিক পরে অভ্যন্তরীণ ও সবশেষে কেন্দ্রীয় গবেষণা পর্যালোচনা ও কর্মসূচি প্রণয়ন কর্মশালার মাধ্যমে গত বছরের গবেষণা কার্যাবলীর বিশ্লেষণের মাধ্যমে পরবর্তী বছরের গবেষণা কর্মসূচি প্রণয়ন করা হয়ে থাকে যে কারনে এই কর্মশালার গুরুত্ব অপরিসীম। বিভিন্ন পর্যায়ের এই কর্মশালা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, কৃষক প্রতিনিধি, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে স্থানীয় ও আঞ্চলিক কৃষির সমস্যা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং সেই আলোকে গবেষণা কার্যক্রম প্রণীত হয়। আঞ্চলিক গবেষণা পর্যালোচনা অঞ্চল ভিত্তিক অনুষ্ঠিত হয়। অভ্যন্তরীণ ও কেন্দ্রীয় গবেষণা পর্যালোচনা বারি সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত হয়।
তিনি জানান, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট এ পর্যন্ত ২০৮ টিরও বেশি ফসলের ৫১২ টি উচ্চ ফলনশীল (হাইব্রিডসহ), রোগ প্রতিরোধক্ষম ও বিভিন্ন প্রতিকূল পরিবেশ প্রতিরোধী জাত এবং ৪৮২ টি অন্যান্য প্রযুক্তিসহ এযাবৎ ৯০০ টিরও বেশি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে। এ সকল প্রযুক্তি উদ্ভাবনের ফলে দেশে গম, তেলবীজ, ডালশস্য, আলু, সবজি, মসলা এবং ফলের উৎপাদন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ প্রযুক্তির উপযোগিতা যাচাই বাছাই ও দেশের বর্তমান চাহিদা অনুযায়ী প্রযুক্তি উদ্ভাবনের কর্মসূিচ গ্রহন করাই এ কর্মশালার প্রধান উদ্দেশ্য।

কর্মশালায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএআরআই এর অবসরপ্রাপ্ত মহাপরিচালকবৃন্দ, পরিচালকবৃন্দ, মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ এবং সরকারি, বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠনের প্রতিনিধিসহ প্রায় ৫০০ জন বিশেষজ্ঞ বিজ্ঞানী উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।