Pages

Categories

Search

আজ- সোমবার ১৯ নভেম্বর ২০১৮

বাড়ির আঙ্গিনায় সবজি চাষে সংসারে সচ্ছলতা এনেছে গৃহবধু তাজকেরা

naogaon-tajkera-pic_13-11-16
আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ প্রতিনিধি: বাড়ীর আশে পাশে সবজি চাষ করে সংসারে সচ্ছলতা ফিরিয়ে এনেছেন গৃহবধু তাজকেরা। এক সময় অনাহারে অর্ধাহারে দিনাতিপাত করলেও এখন সবজি চাষ করে সংসারে স্বচ্ছলতা আসায় ৫ সদস্যের ভরপোষণ নিয়ে আর চিন্তা নেই। সারা বছরে বিভিন্ন রকম সবজি চাষ করে তাজকেরা এখন ওই এলাকায় মডেলে পরিণত হয়েছেন।
জেলার সাপাহার উপজেলার গোয়ালা ইউনিয়নের শিয়ালমারী গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারের গৃহবধু তাজকেরা। প্রায় দুই যুগ আগে তাজকেরা ওই গ্রামের দরিদ্র দিনমজুর আমানুর রহমানের সাথে বিয়ে হয়। সংসার জীবনে তাদের ৩ ছেলে ও ১ মেয়ে। বড় ছেলে আনারুল ইতোমধ্যে বিয়ে করে পৃথক সংসার পেতেছেন। দ্বিতীয় ছেলে জুয়েল অভাবের তাড়নায় লেখাপড়া বন্ধ করে এখন রাজমিস্ত্রির কাজে যোগ দিয়েছেন। ছোট ছেলে আবু তাহের (১০) মানসিক প্রতিবন্দী এবং মেয়ে খায়রুন (৭) বেসরকারি সংস্থার প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণীতে।
কয়েক বছর আগে বে-সরকারী সংগঠন বরেন্দ্র ভূমি সমাজ উন্নয়ন সংস্থা বিএসডিও এবং বিডিও’র কর্মীরা এসে গ্রামের হত দরিদ্রদের সাথে কথা বলেন। সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনা এবং অসহায় নারীদের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়ে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ গ্রহনের কথা বলা হয়। গৃহবধু তাজকেরা ওই সংস্থাতে ভর্তি হয়ে হোমটেষ্ট গার্ডেনিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এরপর বাড়ির আঙ্গিনাসহ আশপাশের জায়গায়গুলোতে শাক সবজি চাষ শুরু করেন। সে বছর শাক সবজি ফলন ভাল হওয়ায় বাজারে বিক্রি করে লাভবান হন। পরে বছর ধারদেনা করে দুই বিঘা জমি বন্ধক নিয়ে সবজি চাষ করেন। বর্তমানে ওই গ্রামের অনেকেই প্রশিক্ষন নিয়ে দরিদ্র পরিবারের অভাব থেকে মুক্ত হয়ে স্বচ্ছলতার সাথে জীবন যাপন করছে।
গৃহবধু তাজকেরা বলেন, এক সময় অভাবী সংসারে টিকে থাকার জন্য বহু সংগ্রাম করতে হয়েছে। বেসরকারি সংস্থা থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে এবং স্থানীয়দের সহযোগীতায় বাড়ীর আঙ্গিনা সহ বন্ধকি জমিতে শাক সবজি চাষ শুরু করি। প্রায় সারা বছর লাল শাক, পুই শাক, কলমি শাক, লাউ, কুমোড়া, মিষ্টি লাউ, শিম, ধেঢ়স, শশা, ঝিঙ্গা, বেগুন, মুলা, আলু, পিয়াজ, রসুন সহ বিভিন্ন জাতের সবজির চাষ করা হয়। উৎপাদিত ফসল থেকে বাজারে বিক্রি করে যে আয় হয় তা থেকে সংসারে কাজে খরচ করা হয়। আর বাড়তি উপার্জিত অর্থ জমা করে বড় পরিসরে কিছু করার পরিকল্পনা আছে। তিনি আরো বলেন, সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরে এসেছে। সংসারে অভাব থাকায় ছেলেদের লেখাপড়া করাতে পারিনি। ছোট মেয়ে খায়রুনকে ভাল করে লেখাপড়া শিখিয়ে ডাক্তার করতে চাই। গ্রামের হতদরিদ্র মানুষের চিকিৎসা সেবা প্রদান করবে এটা তাঁর স্বপ্ন।
গৃহবধুর স্বামী আমানুর রহমান বলেন, এক সময় অভাবি সংসারে খাবারের জন্য অন্যের জমিতে দিনমজুরি কাজ করতো হতো। এখন স্ত্রীর সাথে জমিতে শাক সবজি চাষের জন্য সহযোগীতা করি। উৎপাদিত ফসল বাজারে বিক্রি করি। এখন অন্যের জমি বর্গা নিয়ে শাক সবজি চাষ করা হয়।