Pages

Categories

Search

আজ- শনিবার ১৭ নভেম্বর ২০১৮

বাল্য বিয়ের কারণেই নারীরা বেশী নির্যাতনের শিকার হয় – মেহের আফরোজ চুমকি

গাজীপুর দর্পণ রিপোর্ট : মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি শিশুদের জন্মনিবন্ধন করার তাগিদ দিয়ে বলেন, জন্মনিবন্ধন খুবই প্রয়োজন। জন্মনিবন্ধন থাকলে মজা করে জন্মদিন পালন করা যায়। জন্মনিবন্ধন থাকলে আরেকটা সুবিধা হল, ১৮ বছরের নিচে বিয়ে দেয়া বন্ধ হয়ে যাবে সারা বাংলাদেশে। অপ্রাপ্ত বয়সে কোনো ভাবেই মেয়েদেরকে বিয়ে দিতে পারবে না।
তিনি ১৮ বছরের আগে বিয়ের সমস্যা তুলে ধরে বলেন, ১৮ বছরের আগে বিয়ে হলে লেখাপড়াটা বন্ধ হয়ে যায়। দ্বিতীয়ত: বাচ্চা লালন-পালন কিভাবে করে সেটা জানার আগেই মা হয়ে যায়। নতুন পরিবারে কাজ-কর্ম কিছুই করতে পারে না। প্রথমে ভালবাসা দেখিয়ে বিয়ে করে নিয়ে যায়। পরে সংসারে সৃষ্টি হয় নানা অশান্তি। মহিলাদের উপর যে নির্যাতনটা হয় সেটা বাল্য বিয়ের কারণেই বেশি হয়।
তিনি বলেন, বাল্য বিয়ে নিরোধ আইনে ১৮ বছরের নিচে কোন মেয়ে বা ছেলে যদি নিজের ইচ্ছায়ও বিয়ে করে তাহলে তাদের জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে। আইন অমান্যকারী প্রত্যেকেরই শাস্তি হতে পারে।
বুধবার দুপুরে গাজীপুর সদর উপজেলার বলদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে শিশু ও নারী উন্নয়নে সচেতনতামূলক যোগাযোগ কার্যক্রম (পঞ্চম পর্যায়ে) শীর্ষক প্রকল্পের অধীনে শিশু মেলা-২০১৮ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চুমকি বলেন, বর্তমান সরকার মা ও শিশু মৃত্যুরোধের জন্য ব্যাপক কাজ করে যাচ্ছেন। এ জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পুরস্কৃত হয়েছেন। আমরা শিশুর পুষ্টির জন্য ব্যবস্থা করে যাচ্ছি। আমরা মায়েদের প্রতিও দৃষ্টি রাখছি। যাতে করে মায়েরা সুস্থ থাকতে পারে এবং সুস্থ শিশু জন্ম দিতে পারে। লেক্টেটিং মায়েদের লেক্টেটিং ভাতা, মাতৃত্ব ভাতা ও ভিজিডি দিচ্ছি। সারা দেশে ১০ লক্ষ নারীকে ভাতা দিচ্ছি। পাশাপাশি ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন করে মায়েদের জন্য বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করেছি।
তিনি বলেন, গাজীপুরের কালীগঞ্জে নারীদের জন্য একটা মার্কেট করতে যাচ্ছি। সেখানে নারীরা বেঁচাকেনা করবে। মায়েরা ভাল থাকলে, শিশুরা ভাল থাকবে। মায়ের মনে যদি দু:খ থাকে, মায়ের হাতে যদি অর্থ না থাকে তাহলে তিনি শিশুর অনেক চাহিদা পূরণ করতে পারেন না। এর জন্য মাকে অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী হতে হবে। শিক্ষা-দিক্ষায় নিজেকে তৈরী করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, একটা সময় ছিল শিশুরা ড্রেস পড়ে স্কুলে যেত না, পায়ে জুতা নেই। জিজ্ঞাসা করলে বলত ড্রেস তৈরির পয়সা পাবে কোথায় ? বাংলাদেশ এখন উন্নত হয়ে গেছে। এখন স্কুল ড্রেস ছাড়া কোন স্কুল আছে বলে মনে হয় না। এখন আমাদের শিশুরা ড্রেস, পায়ে জুতা ও ব্যাগ নিয়ে স্কুলে যায়। এই যে পরিবর্তন বংলাদেশের, এই পরিবর্তনটা ধরে রাখতে হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ন প্রকল্পের আওতায় ১০জন গৃহহীনকে তাদের গৃহের চাবি হস্তান্তর করেন প্রতিমন্ত্রী। এ প্রকল্পের আরো ১৩০ জনকে আগামি এক মাসের মধ্যে তাদের গৃহের চাবি প্রদান করা হবে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়। এছাড়া শারদীয় দূর্গাপূজা উপলক্ষে প্রতিমন্ত্রী তাঁর নিজস্ব তহবিল থেকে বাড়িয়া ইউনিয়নের ৭টি পূজামন্ডপে নগদ ২০ হাজার টাকা করে প্রদান করেন।
দু’দিন ব্যাপী এ শিশু মেলায় সদর উপজেলার বাড়িয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কয়েক’শ শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলো। মেলায় ৫টি স্টল খোলা হয়েছে। স্টল গুলোতে শিশুদের রক্তের গ্রæপ পরীক্ষা, তাদের ওজন ও উচ্চতা মাপা এবং দৃষ্টি শক্তি পরিমাপ করা হয়।
গাজীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেবেকা সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তোফাজ্জল হোসাইন, জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন, জেলা তথ্য অফিসার রাহাত হাসনাত, বাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান আক্তারুজ্জামান শুকুর, জেলা আওয়ামীলীগের তথ্য ও গবেষনা সম্পাদক মো. জহিরুল ইসলাম খান, কৃষকলীগ নেতা মনির হোসেন, ভাওয়াল বাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল্লাহ মোড়ল, বলদা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহানা সুলতানা, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মিম আক্তার, আফরিন আক্তার, সায়মা আক্তার প্রমূখ।