Pages

Categories

Search

আজ- বৃহস্পতিবার ১৫ নভেম্বর ২০১৮

বালুখালী ক্যাম্পে ত্রান বিতরন কালে ভালুকা ক্লাব সদস্যদের উপর হামলা

সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৭
অপরাধ, আইন- আদালত, কক্সবাজার, ময়মনসিংহ
No Comment


মোঃ রফিকুল ইসলাম রফিক, বিশেষ প্রতিনিধি : মানবতার হাতছানিতে রোহিঙ্গাদের জন্য ত্রান নিয়ে যায় সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ভালুকা ক্লাব। ত্রানের গাড়ি নিয়ে জেলা প্রশাসনকে অবহিত করার পর তাদেরকে নির্দেশনা দেয়া হয় উখিয়া বালুখালি ক্যাম্পে ত্রান বিতরনের। সে মাফিক ত্রানের গাড়ি নিয়ে বালুখালি ক্যাম্পে গিয়ে ত্রান বিতরন শুরু করে ভালুকা ক্লাবের সদস্যরা।

স্থানীয় প্রশান ও স্কাউট সদস্যদের সহায়তা নিয়ে কাপড়-চোপর,শুকনো খাবার ও অন্যান্য ত্রান সামগ্রী বিতরন শুরু করে তারা। ক্যাম্পে ত্রান বিতরনকালে অসহায় শিশুদের হাতে নগদ টাকা দিতে গিয়েই ঘটে বিপত্তি। আকষ্মিক ভাবে তাদের উপর হামলা চালায় স্থানীয় কতিপয় দুর্বত্তরা। তারা লাঠি-সোটা নিয়ে ভালুকা ক্লাব সদস্যদের উপর হামলা চালায় ও মারধোর শুরু করে। এ সময় দুর্বত্তরা ভালুকা ক্লাবের সদস্যদের কাছ থেকে নগদ অর্থ ও মোবাইল সেট সহ অন্যান্য সামগ্রী ছিনিয়ে নিতে থাকে। বালুখালি ২নং ক্যাম্পে রোববার বিকেলে ঘটে এ ঘটনা।

এ সময় ত্রান সামগ্রীর গাড়ি ফেলে এদিক ও দিক ছুটে যায় ভালুকা ক্লাবের সদস্যরা। এ সময় স্থানীয় স্কাউট সদস্যরা এগিয়ে এলে তাদেরকেও মারধোর করে সন্ত্রাসীরা। নিউজ কাভার করতে থাকা একটি স্যাটেলাইট চ্যানেলের ক্যামেরা পার্সনও দুর্বৃত্তদের আঘাত থেকে রক্ষা পায়নি। ভালুকা ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারন সম্পাদক সুমন খান ভালুকা ফিরে এসে জানায়, দুর্বৃত্তদের তান্ডবের সময় পাহাড়ে একটি বাড়ীতে গিয়ে আশ্রয় নেই আমরা কয়েকজন।

ভালুকা ক্লাব সদস্যদের গায়ে ক্লাবের গেঞ্জি পড়া থাকায় থাকায় দেখে দেখে হামলা চালানো হয়। তাদের ধারনা আমরা অনেক টাকা নিয়ে গেছি। এগুলো ছিনিয়ে নেয়াই তাদের উদ্যেশ্য ছিল। হামলা ও মারধোরে ক্লাবের অন্তত ১০/১২জন সদস্য আহত হয়েছে। খবর পেয়ে বিজিবি ও পুলিশ আসলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে।

পরে বিজিবি ও পুলিশের সহায়তায় ভালুকা ক্লাবের সদস্যদের কক্সবাজার পর্যন্ত পৌঁছে দেয়া হয়। সুমন খান জেলা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জানায় প্রশাসন আমাদের সার্বিক সহায়তা দিয়েছে। দুর্বৃত্তদের হামলায় আহতরা হলো,আরিফ,ইমন,সাদ্দাম,শাকিল,সেলিম,সুমন,হেলাল,রানাসহ স্কাউটের বেশ কয়েকজন সদস্য। সমুহ আক্রমনের আশংকায় কয়েক ভাগে তারা এলাকা ত্যাগ করে বলে জানায় সুমন খান। সুমন খান ত্রান বিতরনের অভিজ্ঞতা বর্নণা করতে গিয়ে জানায়, মায়ানমার থেকে ছুটে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে নারী-শিশু ও বৃদ্ধ লোকজনই বেশী।

ত্রানের গাড়ী ক্যাম্পের কাছে যেতেই যুবক শ্রেনীর লোকজন ছুটে আসে। তারা রোহিঙ্গাদের জন্য নেয়া ত্রানসামগ্রী নিয়ে ধস্তাধস্তি ও কাড়াকাড়ি শুরু করে। ফলে প্রকৃত অসহায়রা ত্রানের ধারে কাছেই আসতে পারেনা। যুবকরা স্থানীয় তবে কেউ কেউ পুরোনো রোহিঙ্গাও রয়েছে। তারা ত্রান কার্যক্রমে বিশৃংখলা সৃষ্টি করায় কেউই সঠিক ভাবে ত্রান কার্যক্রম চালাতে পারেনা। ত্রান বিতরনকালে ভালুকা ক্লাবের সদস্যদেও উপর সন্ত্রাসী হামলা ও মারধোরের ঘটনার খবরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ ও নিন্দা জানানো হচ্ছে বিভিন্ন মহল থেকে।