Pages

Categories

Search

আজ- শনিবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

বাংলাদেশে আলুর গড় ফলন কম: লেট ব্রাইট প্রধান কারণ

রাজীব সরকার ঃ
জৈব প্রযুক্তির মাধ্যমে আলুর জাত উদ্ভাবনের উপর মাঠ দিবস বুধবার সকালে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।
পরিচালক (গবেষণা) ড. মোঃ খালেদ সুলতানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনেষ্টিউটের (বি.এ.আর.আই) মহাপরিচালক ড. মোঃ রফিকুল ইসলাম মন্ডল প্রধান অতিথির বক্ত্যবে তিনি বলেন, আলু বাংলাদেশের একটি অন্যতম ফসল। ধান ও গমের পরেই এর স্থান। গত ২০১২-১৩ইং সালে প্রায় ৪.৫ লাখ হেক্টর জমিতে আলুর চাষ হয়েছিল এবং উৎপাদন ছিল প্রায় ৮৬ লাখ মেট্রিক টন। অর্থাৎ হেক্টর প্রতি ফলন ১৯ টন। উন্নত বিশ্বে আলুর হেক্টর প্রতি উৎপাদন আমাদের চেয়েও বেশী। নানাবিধ কারণে ”বাংলাদেশে আলুর গড় ফলন কম”। তার অন্যতম প্রধান কারণ হলো আলুর লেট ব¬াইট বা নাবী ধ্বসা। চযুঃড়ঢ়যঃযড়ৎধ রহভবংঃধহং নামক এক ধরণের ছত্রাকের আক্রমণে এ রোগ হয়ে থাকে। সারা বিশ্বে আলু উৎপাদনের প্রধান অন্তলট ব¬াইট রোগ। এ রোগের ফলে প্রতি বছর শতকরা ৩০ ভাগেরও বেশি ফলন কমে যায়। বর্তমানে বাংলাদেশে এ রোগ দমনের জন্য সম্পূর্ণভাবে ছত্রাকবারকের উপর নির্ভর করতে হয়। যার ফলে এ রোগ দমনে কৃষকদের অনেক টাকা যোগাতে হয়, পাশাপাশি ছত্রাকবারকের বিরূপ প্রতিক্রিয়া পরিবেশের উপর পড়ে। এ জন্য এ রোগ দমনের জন্য টঝঅওউ  এর অর্থায়নে অইঝচ ওও এবং ঈড়ৎহবষষ টহরাবৎংরঃু  এর মাধ্যমে এদেশে বহুল প্রচলিত ২টি আলুর জাতে (ডায়মন্ট ও কার্ডিনাল) আলুর বন্য এক প্রজাতি (ঝড়ষধহঁস নঁষনড়পধংঃধহঁস) হতে খইজ (খধঃব ইষরমযঃ জবংরংঃধহঃ) এবহব জৈব প্রযুক্তির মাধ্যমে ওহংবৎঃ  করা হয়। সুদীর্ঘ ৬ বছরের গবেষণার ধারাবাহিকতায় এ বছর দেশের ৬টি স্থানে ঈড়হভরহবফ ঋরবষফ ঞৎরধষ (ঈঋঞ) স্থাপন করা হয়েছে। স্থানগুলো হলো- রংপুর, বগুড়া, যশোর, গাজীপুর, কুমিল¬া ও চট্টগ্রাম। এ বছরের আবহাওয়া এ রোগের জন্য খুবই উপযোগী হওয়া বিধায় ৫টি স্থানের গবেষণা পরীক্ষার মাঠে ৬টি ঞৎধহংমবহরপ ঐুনৎরফ ঈষড়হব এ খইজ এবহব  এর উপস্থিতি অতি সুন্দরভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। সাধারণত নিম্ন তাপমাত্রা (১০-২২০ সেঃ) এবং উচ্চ আর্দ্রতা (শতকরা ৮০ ভাগের বেশী) এ রোগের সূচনা এবং দ্রুত বিস্তারের জন্য খুবই উপযোগী। এ বছর সারা দেশে খধঃব ইষরমযঃ রোগে ফসল মারাতœক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে কিন্তু খইজ  যুক্ত ৬টি ঐুনৎরফ ঈষড়হব এ রোগের মাত্রা নাই বললেই চলে।
এসময় তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ভবিষ্যতে এগুলো বাংলাদেশে আলুর জাত হিসাবে অবমুক্ত হলে কৃষকদের ছত্রাকবারকের উপর নির্ভরশীলতা দূর হবে, পরিবেশ সুন্দর থাকবে এবং আলু চাষীরা আর্থিক দিক দিয়ে লাভবান হবে। সর্বোপরি দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিচালক (প্রশিক্ষণ ও যোগাযোগ) ড. মোঃ মুখলেছুর রহমান, এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পরিচালক (ডাল গবেষণা), ড. তপন কুমার দে, জীব প্রযুক্তি বিভাগের মুখ্য বৈজ্ঞ্যনিক কর্মকর্তা ড. মোঃ আল আমিন, কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক জনাব মোঃ হাসানুল হক পান্না ও অন্যান্য জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী এবং বিভিন্ন জেলা থেকে আগত অংশগ্রহণকারী প্রায় ৪০ জন কৃষক।