Pages

Categories

Search

আজ- বুধবার ২১ নভেম্বর ২০১৮

বাঁধ সংস্কারে উদ্যোগ না নেওয়ার অভিযোগ স্থানীয়দের

অগাষ্ট ১৭, ২০১৭
নওগাঁ, প্রকৃতি
No Comment

আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁয় ১৫টি স্থানে আত্রাই ও ছোট যমুনা নদীর তীর রক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে জেলার ছয়টি উপজেলার বিস্তৃর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া নওগাঁ শহর রক্ষা বাঁধের আউটলেট (নদীর বের করে দেওয়ার নালা) দিয়ে পানি প্রবেশ করে পৌরসভার পাঁচটি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সব মিলিয়ে নওগাঁর চারটি উপজেলার প্রায় দেড় লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবনযাবপন করছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা যায়, উজান থেকে নেমে আসার পানির ঢলে ধামইরহাট উপজেলার তালতলী, ভগবানপুর, চকহরিহরপুর, পত্মীতলা উপজেলার ডাঙ্গাপাড়া, আলাদীপাড়া, গোডাউনপাড়া, কাশিমপুর, ছালীগ্রাম মান্দার জোকাহাট, মদনচক, নুরুল্যাবাদ, কয়লাবাড়ী ও খুদিয়াডাঙ্গা এলাকায় আত্রাই নদীর তীর রক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে তিন উপজেলার ২০টি ইউনিয়নের প্রায় ১ লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। রাণীনগর উপজেলায় ঘোষগ্রাম ও নান্দাইবাড়ী এলাকায় ছোট যমুনা নদীর বাঁধ ভেঙ্গে রাণীনগর ও আত্রাই উপজেলার আটটি ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।
এছাড়া ছোট যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নওগাঁ শহর রক্ষা বাঁধের আউটলেট দিয়ে পানি প্রবেশ করে শহরের প্রধান বাজার এলাকাসহ পৌরসভার পাঁচটি ওয়ার্ড প্লাবিত হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন পৌরসভার প্রায় ৩০ হাজার মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পাউবোর গাফিলতির কারণেই নদী তীরবর্তী মানুষদের এমন দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে থাকলেও পাউবো বাঁধের ঝুকিপূর্ণ স্থানগুলো সংস্কারের উদ্যোগ নেয়নি। নওগাঁ শহর রক্ষা বাঁধে নদীর পানি প্রবেশ ও বের করে দেওয়ার জন্য তৈরি ইনলেট-আউটলেটগুলো অপরিকল্পিতভাবে তৈরি করায় আউটলেটগুলো অকার্যকর হয়ে পড়েছে।
মান্দা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ অভিযোগ করেন, তাঁর এলাকায় গত ৫ বছরের মধ্যে আত্রাই নদীর তীর রক্ষা বাঁধে কোনো সংস্কার কাজ করা হয় না।
নওগাঁ পৌরসভার সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী গুরুদাস দত্ত বলেন, ‘আউটলেটগুলো স্লুইচগেট আকারে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এগুলো সেভাবে করা হইনি। এ কারণে আউটলেটগুলো দিয়ে পানি ঢুকে পড়ছে। নদীতে পানির যে তোড় এবং আউটলেট দিয়ে যেভাবে পানি প্রবেশ করছে তাতে করে যে কোনো মূহূর্তে শহর রক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘প্রতি বছর বাঁধ সংস্কারের জন বরাদ্দ এলেও পাউবো কোনো সংস্কার কাজই করে না। এজন্য বাঁধের অবস্থা আরও নাজুক হয়ে পড়েছে।’
এ ব্যাপারে নওগাঁ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে প্রথম আলোকে বলেন, প্রতিবছরই বাঁধের কোথাও না কোথাও সংস্কার করা হয়। তবে বরাদ্দ যথেষ্ট না হওয়ায় সব ঝুঁিকপূর্ণ এলাকা সংস্কার করা সম্ভব হয় না।
তিনি আরও বলেন, নওগাঁ শহর রক্ষা বাঁধ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও প্রকৃত নকশা অনুসরণ করেই তৈরি করা হয়েছে। বাঁধের ইনলেট-আউটলেটের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পৌরসভার নালা তৈরি না করায় নদীর পানি শহরে ঢুকে পড়ছে বলে তিনি দাবি করেন।