Pages

Categories

Search

আজ- মঙ্গলবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

বদলগাছীতে নালুকাবাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খোলা আকাশের নিচে চলছে পাঠদান


আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ প্রতিনিধিঃ নওগাঁর বদলগাছীতে নালুকাবাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জরাজীর্ন টিন-বাঁশের খলপার বেড়া ও টিনের ছাউনি জরাজীর্ন অবস্থায় খোলা আকাশের নিচে কমলমতি শিশু ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদান দেওয়া হচ্ছে। বিদ্যালয় টির নেই টুল ব্রেঞ্চ, চেয়ার-টেবিলসহ অন্যান্য আসবাবপত্র না থাকায় ঘরের মেঝেতে বসা অবস্থায় শিশু ছাত্র-ছাত্রীদের লেখা পড়া করানো হচ্ছে। অপরদিকে জরাজীর্ন টিনের ছাউনি জনিত কারণে আকাশে একটু মেঘ জমলে স্কুল ছুটি দিতে হয় না হলে বৃষ্টিতেই বিদ্যালয়ের ঘরে পানি জমে উঠে। ফলে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার পরিবেশ না থাকায় ছাত্র-ছাত্রীদের লেখা পড়া ব্যাহত হচ্ছে।
উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নে নালুকাবাড়ী গ্রামের কতিপয় শিক্ষা অনুরাগীদের প্রচেষ্টায় ৩৩ শতক জমির উপর ২০০৪ সালে বাঁশের খুটি, টিনের বেড়া ও ছাউনি দিয়ে এই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়। ঘরের ভিতরে বাঁশের খলপার বেড়া দিয়ে ৪ টি শ্রেনী কক্ষ তৈরী করা হয়। ২০১১ সালে শিক্ষা অধিদপ্তরের ২৭তম সভায় বিদ্যালয়টিতে পাঠদানের অনুমতি দেওয়া হয়। ২০১৩ সালে ১ জুলাই বিদ্যালয়টি সরকারী করণ করা হয়। বর্তমানে ৫ জন শিক্ষক ও ১২২ জন ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে।
প্রধান শিক্ষক মোঃ রশিদুল ইসলাম বলেন বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা এবং সরকারী করণ হওয়ার পর থেকে পাকা ভবন নির্মাণ করার জন্য স্থানীয় এমপি সহ উধর্তন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট বারবার আবেদন করার পরও ভবন নির্মানের কোন সরকারী সিদ্ধান্ত ও বরাদ্দ হয়নি, তাছারা স্কুল শুরু থেকে টয়লেট ব্যাতরুম আমার নিজ তহবিল থেকে করা হয়েছে।
সহকারী শিক্ষিকা সারমিন সুলতানা অতি কষ্টে তিনি বলেন আমি ও আমার স্বামী তোহাব হোসেন গ্রাম বাসীর সহযোগিতায় ২০০৪ সালে স্কুল তৈরিকরে ২০০৮ পর্যন্ত সরকারী করন না হওয়ায় ২০০৮ সালে অব্যহতি দেন। ২০১৩ সালে বিদ্যালয়টি সরকারী করন হয়।
শিক্ষিকা জহিরন নেছা বলেন বিদ্যালয়টিকে বহুবিধ সমস্যা থাকার মধ্যদিয়েও ২০১৫ সালে ১ জন ২০১৬ ২জন ছাত্র ট্যানেলপুলে বৃত্তি পেয়েছে এবং বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতিও আশাব্যঞ্জ। ভবন নির্মাণ সহ সমস্যাগুলো দূরিভূত করার মধ্যদিয়ে শিক্ষা পরিবেশ বজায় রাখাতে পারলে এই বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষার গুনগতমান বৃদ্ধি করা সম্ভব বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
শিক্ষিকা জেসমিন আরা বলেন শ্রেনী কক্ষ শংকট ও মেঝেতে বসে ক্লাস নিতে হয়। এছারা আকাশে একটু মেঘ দেখলেই স্কুল ছুটি দিতে হয়। বর্তমানে অতিরোক্ত রোদ তাপ দাহ কারনে ক্লাস রুমে থাকা কষ্টকর হয়ে যায় খোলা আকাশের নিচে গাছ তলায় ক্লাস করতে হয়।
দাতা সদস্য মোঃ তোয়াব আলী জানান কাদিমপুর, নালুকাবাড়ী ও মথুরাপুর এই তিন গ্রামের মাঝখানে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় অত্র এলাকার শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা লাভের একমাত্র ভরসা এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি। জন্যই দ্ররুত ভবন নির্মান সহ সমস্যাগুলি সমাধানের জন্য তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।
সরেজমিনে তথ্য সংগ্র কালে উপস্তিত ছাত্র ছাত্রীদের অভিভাবক নালুকাবাড়ীর আক্তার বানু,শাফলা আক্তার, নাজমা বেগম,রুবিনা পারভীন,মুক্তি বেগম বলেন এ স্কুলে পড়া লেখা ভাল হয় কিন্ত বর্ষার সময় বাচ্চাদের স্কুলে পাটাতেই ভয় হয় আর বর্তমানে বাচ্চারা স্কুল থেকে বাড়ী ফিরে কান্ত হয়ে পরে বিদ্যালয় টি ভবন তৈরি করার প্রয়োজন।
এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ ছানাউল হাবীব এর সংগে মোবাইল ফোনে কথা বললে সমস্যা গুলি শিকার করে তিনি জানান উপজেলা শিক্ষা কমিটির বৈঠকে উক্ত বিদ্যালয়ের ভবন নির্মান সহ অন্যান্য সমস্যাগুলো সমাধানের লক্ষে সিদ্ধান্ত গ্রহন করে তা শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রেরণ করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ হুসাইন শওকত বলেন বিষয়টি আমার জানা আছে বিদ্যালয়টির সমস্যা সমাধান করা জরুরী।