Pages

Categories

Search

আজ- সোমবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

বদলগাছীতে এবার প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমিতে পাট চাষ

জুলাই ৫, ২০১৭
উন্নয়ন সংবাদ, কৃষি, নওগাঁ
No Comment


আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে চলতি মৌসুমে এবার প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। এতে করে ২৫ কোটি ১৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের পাট উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলন ও ভাল হবে বলে আশা প্রকাশ উপজেলার পাট চাষিরা।
বদলগাছী কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় দেশি পাট ৮৫ হেক্টর এবং তোষা ১৮৭৯ মোট ১৯৬০ হেক্টর জমিতে সোনালী আঁশ পাটের চাষাবাদ করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ৩০ হেক্টর জমিতে বেশি পাট চাষ হয়েছে। এলাকা ঘুরে দেখা যায় কোলা ইউনিয়নের পুখুরিয়া গ্রামের কৃষক সাইন, মজিবর রহমান, বালুভরা ইউপির কোমারপুর গ্রামের আশাফ আলী, মোজাফ্ফর হোসেন সহ উপজেলার অন্যান্য কৃষকেরা জানান বৈশাখ মাসে পাট বীজ বপন করা থেকে শুরু করে নিড়ানি, কাটা ধোয়া পর্যন্ত ৪ মাস সময় লাগে পাট উৎপাদ করতে।
প্রতি বিঘায় খরচ পড়ে ৫-৬ হাজার টাকা। তারা আরও বলেন বিঘা প্রতি ১০-১২ মন পাট উৎপাদন করা সম্ভব হয়। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকুল এবং বিছা পোকার আক্রমন থেকে পাটগাছ নিরাপদ থাকায় এবার পাটের আঁশ ও গাছ ৭-৮ ফিট উচ্চতা সম্পন্ন হওয়ায় বিঘা প্রতি গড়ে ১২-১৩ মন করে পাটের ফলন হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। অর্থাৎ সবদিক থেকে পাট উৎপাদন লাভজনক হওয়ায় কৃষকরা সোনালী আশঁ যুগের ন্যায় পাট উৎপাদনে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।
উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ হাসান আলী বলেন চলতি মৌসুমে ১৯৮০ হেক্টর জমিতে পাট চাষাবাদ করা হয়েছে। এতে করে বিঘা প্রতি ১০ মন করে সর্বমোট ১লাখ ৪৬ হাজার ২শ ৫০মন পাট উৎপাদন হবে। সরকার নির্ধারিত ১৭শ ২০টাকা মন হিসাবে উক্ত পরিমাণ পাটের মূল্য পাওয়া যাবে ২৫ কোটি ১৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তিনি আরও বলেন পাট থেকে বহুমুখী পণ্যদ্রব্য তৈরী হওয়ায় তা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ভাবে চাহিদা বৃদ্ধি করেছে। ফলে সোনালী আঁশ পাটের হারানো গৌরব ফিরিয়ে এসে পাট বাংলাদেশে সোনালী আশেঁর যুগে প্রবেশ করেছে।
আর এতে করে কৃষকেরা পাট উৎপাদনে আবারও মনযোগী হয়ে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে। অপরদিকে জাতীয় অর্থনীতিতে পাট নব উদ্যোমে তার হারানো অতিতের ন্যায় ভূমিকা রাখছে এবং রাখবে। এজন্য সরকারকে পাট ও পাটজাত পণ্যদ্রব্যের বহুমূখী ব্যবহার করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজার করতে হবে স¤প্রসারিত।
আর কৃষককুলকে পাট উৎপাদনে দিতে হবে সার্বিক সহযোগীতা ও পাটের নায্য মূল্য প্রাপ্তির নিশ্চয়তা। অনেক কৃষক জানায় তারা সরকারী ভাবে আর কিছু সহযোগিতা ও কৃষি অফিস থেকে পরার্মশ পেলে শুধু পাট নয় যে কোন ফসল ভাল ভাবে ফুলানো সম্ভব হবে এবং আগ্রহ বাড়বে।