Pages

Categories

Search

আজ- শুক্রবার ১৬ নভেম্বর ২০১৮

বজ্রসহ ঝড়ো বৃষ্টির মধ্যে দিনভর নদীতে ডিম সংগ্রহকারীদের অপেক্ষা, ডিম ছাড়ার সম্ভাবনায়

index32[1]
মোঃ আলমগীর হোসেন, চট্টগ্রাম ব্যুবো: দক্ষিন এশিয়ার এক মাত্র মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে মা-দিবসে মা-মাছ ডিম ছাড়বে এমন সম্ভবনা হাতছাড়া হলো। রবিবার ভোর থেকে দিনভর প্রবল বজ্র বৃষ্টি, ঝড়ো বাতাস, মা-মাছের ডিম ছাড়ার উপযুক্ত পরিবেশ-তবুও ডিম ছাড়েনি হালদা নদীর মা-মাছ। এই বুঝি ডিম দেবে মা মাছ-এমন আশায় নৌকা, জাল ও ডিম সংগ্রহের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে দিনভর নদী পাড় ও আশে পাশের শত শত মৎস্যজীবি অপেক্ষায় ছিল নদীতে। দীর্ঘ অপেক্ষার পরও মা-মাছ ডিম না ছাড়ায় হতাশ হয়েছে মৎস্যজীবিরা। তবে যেকোন সময় হালদার রুই, কাতলা, মৃগেল, কালিবাইশ প্রজাতির মা-মাছ ডিম ছাড়তে পারে-সে আশায় নদীতে নৌকা নিয়ে অপেক্ষার প্রহর গুণছেন সাধারন ডিম সংগ্রহকারীরা।
হালদা পাড়ে ডিমের অপেক্ষায় থাকা সাধারন মৎস্যজীবিরা জানান, এতদিন ঝড়ো বাতাসসহ বজ্র বৃষ্টিপাতের অপেক্ষোয় ছিলেন তারা। রবিবার ভোর থেকে সে কাক্সিখত বৃষ্টিপাত শুরু হলে জেলেরা ভোর থেকে নৌকা, ডিম সংগ্রহের বিশেষ নেট (জাল)সহ বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে নদীতে নেমে পড়ে। দিনভর একইভাবে বজ্র বৃষ্টিপাত হলেও ডিম ছাড়েনি মা-মাছ। তবে নদীর উপরের দিক থেকে ঢল সৃষ্টি হলে যেকোন সময় ডিম ছাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে-সে আশায় তারা সবকিছু নিয়ে গভীর রাত পষন্ত অপেক্ষায় থাকবে নদীতে।
খবর নিয়ে জানা যায়, নদীর রাউজান পয়েন্টের কাগতিয়া, ডোমখালী, সর্ত্তারঘাট, আজিমের ঘাট, খলিফার ঘোনা, পশ্চিম গহিরা, বিনাজুরি, দক্ষিণ গহিরা, মগদাই, মদুনাঘাট, উরকিরচর, এবং হাটহাজারির গড়দুয়ারা, নাপিতের ঘাট, সিপাহীর ঘাট, আমতুয়া, মাদার্শাসহ বিভিন্ন পয়েন্টে শতশত মৎস্যজীবি ডিম সংগ্রহ করতে নদীতে অপেক্ষায় রয়েছে। নদীতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জেলেরা ডিম সংগ্রহের নানা সরঞ্জাম নিয়ে প্রবল বৃষ্টির মাঝে নৌকা নিয়ে নদীতে অপেক্ষা করছে। অপেক্ষারত কালি দাশ নামের এক মৎস্যজীবি বলেন ‘অনেক আশা নিয়ে নদীতে মা-মাছের ডিম সংগ্রহ করতে এসেছি। কিন্তু দিনভর অপেক্ষা করেও মা-মাছ ডিম ছাড়েনি। একারনে কিছুটা হতাশ লাগছে। তবে আশা করছি রাতের মধ্যে ঢল সৃষ্টি হলে মা-মাছ ডিম দিতে পারে।’
এব্যাপারে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা সহকারি অধ্যাপক মনজুরুল কিবরিয়া কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন ‘দিনভর বৃষ্টিপাতের কারণে মনে করেছিলাম হালদায় মা-মাছ ডিম ছাড়বে। মৎস্যজীবিরা সে আশায় নদীতে অপেক্ষায়ও ছিল। কিস্তু বিকেল পর্যন্ত মা-মাছ ডিম দেয়নি। আমার মনে হয় রাউজানে ব্যাপক বৃষ্টি হলেও নদীর উপরভাগ অর্থ্যাৎ নাজিরহাটের দিকে বেশি বৃষ্টি হয়নি, অথবা নদীর উপরিভাগে ঢল সৃষ্টি না হওয়ায় ডিম ছাড়েনি মা-মাছ। তবে রাতে আরো বৃষ্টি হলে ডিম দিতে মা-মাছ ডিম ছাড়তে পারে।’ উপজেলা মৎস্য অফিসার নাজিম উদ্দিন বলেন ‘প্রচুর বৃষ্টি হয়েছে ঠিকই, লোকজন ডিম সংগ্রহ করতে অপেক্ষাও করছে, তবে নদীর পানির তাপমাত্রা তুলনামূলক বাড়তি থাকায় এবং পানির ঢল না হওয়ায় মা-মাছ ডিম দেয়নি। তবে পানির তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে। এই অবস্থায় রাতে আরো ঝড়ো বৃষ্টি হলে মা-মাছ ডিম ছাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’
উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত বছর হালদা নদী থেকে ৪শ ৩৯ কেজি ডিম সংগ্রহ করেছিল ২শ ৫৮শ মৎস্যজীবি। তা থেকে পোনা হয় ৮১ কেজি। এবছর আরো বেশি ডিম সংগ্রহের আশা করছেন বলে জানিয়েছে মৎস্যজীবিরা। উল্লেখ্য যে, প্রতিবছর বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে প্রবল বজ্রসহ ঝড়ো বৃষ্টি হলে এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে রুই, কাতলা, মৃগেল, কালি বাইশ প্রজাতির মা-মাছ ডিম ছাড়ে।