Pages

Categories

Search

আজ- সোমবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

বগুড়ায় মরণদশায় কমিউনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রম

জানুয়ারি, ১৭, ২০১৮
জনদুর্ভোগ, নওগাঁ, স্বাস্থ্য
No Comment

এম নজরুল ইসলাম, বগুড়া: দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার ৫টি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ২৪ টি কমিউনিটি ক্লিনিক। এছাড়াও রোগীদের স্বাস্থ্য সেবা প্রদানে ২৪টির মধ্যে ১৭টি কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) থাকলেও ৭টিতে পদশূণ্য। অপরদিকে, উপজেলার ভাটগ্রাম ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কোনো ভবন নেই। ফলে কমিউনিটি ক্লিনিক রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হচ্ছে। ক্লিনিকগুলো সংস্কার না হওয়ায় বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। অধিকাংশ ভবনের ছাদ ও দেয়ালে ফাটল, মাটি ও মেঝে ডেবে গেছে। বর্তমানে এ উপজেলার কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর অবকাঠামোগত অবস্থা খুবই নাজুক। যেকোনো মুহুর্তে ভবন ঢসে প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে বলে শঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে রোগীদের স্বাস্থ্য সেবা দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।
সূত্রমতে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবদান, কমিউনিটি ক্লিনিক বাঁচায় প্রাণ, শ্লোগানকে সামনে রেখে তৃনমুলের জনগণের জন্য কমিউনিটি ক্লিনিক সেবা কার্যক্রমের সূচনা করে। ফলে সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে গেছে। সরকারের ভিশন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিজস্ব প্রকল্প কমিউনিটি ক্লিনিক সাধারণ জনগোষ্ঠীর মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং স্বাস্থ্যসেবার ব্যাপক চাহিদা মেটাতে সক্ষম হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ করছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার ভরতেতুলিয়া কমিউনিটি ক্লিনিক, কোষাশ কমিউনিটি ক্লিনিক, সিংজানী কমিউনিটি ক্লিনিক, ভাটরা কমিউনিটি ক্লিনিক, চৌদিঘী কমিউনিটি ক্লিনিক, টাকুরাই কমিউনিটি ক্লিনিক, গুন্দইল কমিউনিটি ক্লিনিক, আটান-পাঠান কমিউনিটি ক্লিনিক সহ প্রায় প্রতিটি কমিউনিটি ক্লিনিক জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ঔষধ স্বল্পতা, বিদ্যুতের সমস্যাসহ এসব ক্লিনিকের বাথরুম ও টিউবওয়েল দীর্ঘদিন ধরে অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ফলে চিকিৎসক ও ক্লিনিকে আগত রোগীরা পড়েছেন রিতিমত বিপাকে। দরজা-জানালায় মরিচা ধরে দিনদিন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তবুও যেন দেখার কেউ নেই। স্বাস্থ্য বিভাগের উর্ধতন কতৃপক্ষের কাছে বিষয়টি বারবার অবহিত করা হলেও জরাজীর্ণ অবস্থায় থাকা কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো সংস্কারে সুফল মেলেনি। ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে ক্লিনিকগুলো। ক্লিনিকগুলোর বেহাল অবস্থার কারণে স্বাস্থ্যকর্মী ও সেবা নিতে আসা রোগীরা প্রতিনিয়ত অস্বস্তির শিকার হচ্ছেন। অন্যদিকে, নন্দীগ্রাম সদরের উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রাচীর না থাকায় জায়গা বেদখল করারও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভরতেতুলিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকের হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) জান্নাতি খাতুন ও সিংজানী কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি আনোয়ার হোসেন জানান, ক্লিনিকগুলোর অবকাঠামোগত নানান সমস্যার কারণে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সংস্কারের অভাবে ক্লিনিকগুলোর বেহালদশা। একটি ক্লিনিকে প্রতিদিন গড়ে ৬০ থেকে ৭০ জন রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। তবে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য প্রত্যেক ক্লিনিকে বছরে সরকার ১১লাখ টাকার ঔষধ প্রদান করে বলেও তারা জানিয়েছেন।
ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন বলেন, ক্লিনিকগুলোতে সাধারণ জনগোষ্ঠীর মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। তবে বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকা ক্লিনিকগুলো সংস্কার জরুরী হয়ে পড়েছে। যেকোন মুহুর্তে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
মেডিকেল অফিসার ডা. ইকবাল মাহমুদ বলেন, উপজেলার ভাটগ্রাম ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কোনো ভবন নেই। কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) ৭টিতে পদশূণ্য রয়েছে। ক্লিনিকগুলোর অবকাঠামোগত অবস্থা খুবই নাজুক। তারপরেও মৃত্যুঝুঁকি মাথায় নিয়ে রোগীদের স্বাস্থ্য সেবা দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি), স্বাস্থ্য সহকারি (এইচএ) এবং পরিবার পরিকল্পনা সহকারিরা প্রতিনিয়ত রোগীদের সেবা প্রদান করছেন।
এপ্রসঙ্গে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কর্মকর্তা ডা: তোফাজ্জল হোসেন মন্ডল জানান, যেসব কমিউনিটি ক্লিনিকের অবকাঠামোগত সমস্যা রয়েছে, সেসব ক্লিনিকগুলোর দ্রæত সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষের কাছে একাধিকবার প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।