Pages

Categories

Search

আজ- বুধবার ১৪ নভেম্বর ২০১৮

বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রীপুরে শ্রমিক বিক্ষোভ

অগাষ্ট ১৩, ২০১৭
পোষাক অর্থনীতি, শ্রীপুর
No Comment

স্টাফ  রিপোটার :  গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার মুলাইদ এলাকায় বকেয়া বেতনের দাবিতে ইউনিয়ন গার্মেন্টস্ ও ইউনিয়ন নিট ওয়্যার নামের কারখানার শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করে কারখানায় ভাংচুর চালায়। এসময় তারা এমসি বাজার-শিশু পল্লী সড়ক অবরোধ করে রাখে।

রোববার সকাল ৮টায় এ বিক্ষোভের ঘটনা ঘটলে গাজীপুল শিল্প ও শ্রীপুর থানা পুলিশ এসে বিক্ষোভরত শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এসময় পুলিশের ছোঁড়া কাঁদানে গ্যাসে কারখানার পাশের একটি মাদ্রাসার কয়েকজন ছাত্র আহত হয়।

ওয়াজেদ আলী ইসলামিয়া কওমী মাদ্রাসা ও এতিমখানার মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুফতি মনিরুল ইসলাম গাজীপুরী বলেন পুলিশের কাঁদানে গ্যাসে তার মাদ্রাসার ছাত্র সিদরাতুল (১১), হাবিবুর (৬), ইলিয়াস (৮), জায়েদুল (১২), আজিজুল (৬) আহত হয়। আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেয়া হয়।

কারখানার শ্রমিক রনি জানান, কারখানা কর্তৃপক্ষ গত দুই মাসের (জুন ও জুলাই) পাওনা বেতন ভাতাদি পরিশোধ না করে কালক্ষেপন করছে। বিভিন্ন সময়ে বেতন দেয়ার আশ্বাস দিলেও পরে আর পরিশোধ করেননি। এমন অবস্থায় রোববার সকালে সকল শ্রমিকরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে বকেয়া বেতনের দাবিতে সকালে কাজে যোগ না দিয়ে কারখানার সামনের অবস্থান নিলে পুলিশ এসে বাধা দেয়।

কারখানার সুইং অপারেটর লুৎফুন্নাহার বলেন, গত ঈদুল ফিতরের সময়ও বেতন বোনাসের জন্য আন্দোলন করি। আন্দোলনের পর ঈদের দুইদিন আগে অনেকের বেতন দিলেও কারো কারো বেতন ও বোনাস দেয় নি।
অপর সুইং অপারেটর আবু তাহের বলেন, আমরা রোজার ঈদের পর কাজে যোগ দেই। প্রায় দুই মাস হলে গেলেও কর্তৃপক্ষ বেতন ভাতা দিচ্ছে না। এমন অবস্থায় আমাদের বাড়ি ভাড়া ও দোকান বাকী পরিশোধ করতে পারছি না।

কারখানার সহকারী ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) বজলুল রশিদ বলেন, কারখানার আর্থিক সংকটের কারণে বেতন ভাতাদি পরিশোধ করা যাচ্ছে না। এমন অবস্থায় রোববার সকালে বিক্ষোভরত শ্রমিকরা কারখানায় ভাংচুর চালায়। পরে শ্রমিকদের বেতন-ভাতাদি আগামী ১৬আগস্ট পরিশোধ করা হবে জানিয়ে কারখানা বন্ধ ঘোষনার নোটিশ টানানো হয়েছে।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) সেলিম রেজা বলেন, দুই মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করে আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করলে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ছোড়া হয়। পরে কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে অল্প সময়ের মধ্যে বেতন পরিশোধের আশ্বাস দিলে শ্রমিকেরা চলে যায়।