Pages

Categories

Search

আজ- শুক্রবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ফয়সাল হত্যা মামলার বাদীকে হুমকি তদন্তের নির্দেশ আদালতের

অক্টোবর ২৭, ২০১৭
অপরাধ, আইন- আদালত, কালীগঞ্জ, হত্যা
No Comment


গাজীপুর দর্পণ রিপোর্ট : গাজীপুরের কালীগঞ্জের প্রয়াত সংসদ সদস্য মোখলেসুর রহমান জিতুর ছেলে হাবিবুর রহমান ফয়সাল (২৬) হত্যা মামলার বাদি ও নিহতের বড় বোন মাসুমা সুলতানা মুক্তাকে মোবাইল ফোনে হুমকি দেয়ার ঘটনায় নিরাপত্তা চেয়ে থানায় করা সাধারণ ডায়েরী তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আদালত সূত্রে জানাযায়, ১১ অক্টোবর বুধবার গাজীপুরের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট শহিদুল ইসলাম জিডি নং ৭২৪ (১৯-০৯-১৭) তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

এবং একই দিন ফয়সাল হত্যা মামলার তিন নাম্বার আসামি আহসান উদ্দিনের ছেলে মো. হুমায়ুন (৩৫) সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতের হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে হত্যা মামলার প্রধান আসামি তৌহিদুল ইসলাম রিমনের ১৬৪ ধারায় দেয়া জবানবন্দিতে তার নাম উল্লেখ থাকায় এবং তা জামিনের অযোগ্য ধারায় থাকায় তার জামিন না মঞ্জুর করেন সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শহিদুল ইসলাম।

গত ০৭ আগস্ট বৃহস্পতিবার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ আবদুল হাই এর আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছিল মামলার প্রধান আসামি মো. তৌহিদুল ইসলাম রিমন (২৭)।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কালীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মুজিবুর রহমান জানান , ১৫ অক্টোবর রবিবার ফয়সাল হত্যা মামলার তিন নং আসামি মো. হুমায়ুনকে (৩৫) জিজ্ঞাসাবাদে জন্য সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করলে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে ২৫ অক্টোবর বুধবার তাকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে জন্য কালীগঞ্জ থানায় আনা হয়।

এর আগে মামলার প্রধান আসামি মো. তৌহিদুল ইসলাম রিমনকে ৫ আগস্ট মঙ্গলবার দুই দিন এবং অপর আরেক আসামি কালীগঞ্জ পৌর এলাকার ভাদগাতী গ্রামের হানিফার ছেলে নওশাদকে (৩২ এক দিনের রিমান্ডে আনা হয়েছিল।

এদিকে এ হত্যাকান্ডে জড়িতদের বিচারের দাবীতে কালীগঞ্জ সহ গাজীপুরের বিভিন্ন স্থানে এলাকাবাসী পোষ্টের লাগিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৩০ জুলাই রাত ১০টার দিকে কালীগঞ্জ পৌর এলাকার ভাদগাতী গ্রামের একটি মুদি দোকানে ফয়সাল, রিমন, নওশাদসহ কয়েকজন বসে আড্ডা দিচ্ছিল। এক পর্যায়ে সঙ্গে থাকা পিস্তল দিয়ে ফয়সালকে গুলি করে পালিয়ে যায় রিমন । পরে স্থানীয়রা গুলির শব্দ শোনে এগিয়ে দেখে ফয়সালের নিথর দেহ পড়ে রয়েছে। পরে তাকে উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমেপ্লক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষনা করেন। ঘটনার দিন রাতেই মামলার ২নং আসামী ও কালীগঞ্জ পৌর এলাকার ভাদগাতী গ্রামের হানিফার ছেলে নওশাদকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এছাড়া ঘটনার পর মো. তৌহিদুল ইসলাম রিমন প্রথমে নরসিংদীর পলাশ এলাকায় বন্ধুর বাড়িতে এবং পরে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানি এলাকায় আত্মগোপন করে। সর্বশেষ সে কালীগঞ্জের উত্তরগাঁও বাজারে আলমগীরের দোকানে অবস্থান করাকালে সেখান থেকে র‌্যাব-১ মামলার প্রধান আসামী রিমনকে গ্রেফতার করে। তার দেয়া তথ্যমতে একই এলাকার আলমগীরের দোকানে অভিযান চালিয়ে ফয়সাল হত্যায় ব্যবহৃত ১ টি ম্যাগজিনসহ পিস্তল, ২ রাউন্ড তাজা গুলি, ২ টি দেশীয় রামদা ও দুইটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে।

পরে র‌্যাব-১ এর ওয়ারেন্ট আফিসার এস আই আবু বকর মিয়া বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় মো. তৌহিদুল ইসলাম রিমন এবং কালীগঞ্জ উপজেলার কুমারটেক এলাকার রুহুলের ছেলে আলমগীকে (২৭) আসামী করে ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনে একটি মামলা (০৮) ০৬-০৮-১৭ দায়ের করেন ।

ওই সময় গ্রেফতার আসামী রিমন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেছে। রিমন এবং একই এলাকার মো. হুমায়ুন দীর্ঘদিন ধরে অত্র এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যকলাপে জড়িত ছিল বলে জানিয়েছিল র‌্যাব।

মামলার পলাতক অন্য আসামীরা হলো- আহসান উদ্দিনের ছেলে মুঞ্জুর হোসেন (৩৫), খঞ্জনা গ্রামের আব্দুর রহমান শেখের ছেলে আব্দুস সাত্তার শেখ (২৫) ও প্রধান আসামী রিমনের বাবা সাইদুল ইসলাম উরফে মোসলে উদ্দিন মাস্টার (৬২)।

হুমায়ুনের ভাতিজির সাথে নিহত হাবিবুর রহমান ফয়সালের সখ্যতাকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে সংবাদ সম্মেলেনের মাধ্যমে জানিয়েছিল র‌্যাব।

ঘটনার পর মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি এবং বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক সাংসদ একেএম ফজলুল হক মিলনসহ স্থানীয়রা ফয়সাল হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানান।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত ফয়সার নম্রভদ্র এবং এলাকায় ভালো ছেলে হিসেবে পরিচিত ছিল। আর অন্যদিকে রিমন এলাকার একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী এবং সন্ত্রাসী ছিল। তার যন্ত্রনায় এলাকার সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়তই আতঙ্কে থাকে। তার বিরুদ্ধে থানায় মারামারি, ছিনতাই, ডাকাতি, মাদক, হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। কয়েকটি মামলায় সাজা ভোগ করে জামিনে এসে পূনরায় আগের রূপে ফিরে গেছে রিমন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানায়, রিমনের অত্যাচারে ভাদগাতী, চৌড়া, বড়নগর, চান্দাইয়া, মোসানীসহ কয়েক গ্রামের মানুষ অতিষ্ঠ থাকতো। এলাকায় সে কয়েকজন প্রভাবশালী আওয়ামী লীগের নেতার ছত্রছায়ায় ক্যাডার হিসেবে পরিচিত ছিল।

এ ছাড়াও তারা আরো জানায়, ঘটনা প্রত্যক্ষ করলেও কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না প্রভাবশালীদের ভয়ে।

উল্লেখ্য, প্রয়াত মোখলেছুর রহমান জিতু মিয়া ১৯৭৩ সালে কালীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হন। পরে তার বিপুল জনপ্রিয়তায় ১৯৭৯ সালে গাজীপুর ৫ সংসদীয় কালীগঞ্জ আসনে (সাবেক ৩ আসন) বিএনপি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরের বার ১৯৮৮ সালে বিএনপি থেকে মনোনয়ন না পেয়ে সতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করেন এবং সেবারও তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।