Pages

Categories

Search

আজ- মঙ্গলবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

‘প্রতিক্রিয়াশীল’ বলছে অস্তিত্বহীনরা: মুহিত

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

গাজীপুর দর্পণ ডেস্ক:
‘অস্তিত্বহীনরা’ নতুন অর্থবছরের বাজেটকে ‘প্রতিক্রিয়াশীল’ আখ্যায়িত করছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

বাজেট প্রস্তাবের পরদিন শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপিকে ইঙ্গিত করে এ মন্তব্য করেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, “এটা (বাজেটকে প্রতিক্রিয়াশীল বলা) একটা রাজনৈতিক অবস্থান। পার্টিকুলার পার্টি, হু হ্যাভ সেক্রিফাইস দেয়ার অ্যাক্সিসটেন্স, দে ডু নট অ্যাক্সিস্ট। বেগম জিয়া, যেভাবেই হোক, যা কিছু করেন, এই মুহূর্তে এটা কোনও দল নয়। বিরোধী দলতো নয়ই।”

সংসদে বাজেট প্রস্তাবের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় নতুন বছরের বাজেটকে ‘প্রতিক্রিয়াশীল’ আখ্যায়িত করে তা প্রত্যাখ্যান করার ঘোষণা দেয় বিএনপি।

দলের পক্ষে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, “এটি অত্যন্ত প্রতিক্রিয়াশীল বাজেট, যেটি অর্থমন্ত্রী পেশ করেছেন। গণধিকৃত কোনও গোষ্ঠী কখনই জনগণের ইচ্ছার সাথে সর্ম্পকযুক্ত হয়ে বাজেট দিতে পারবে না।”

বিএনপির ওই প্রতিক্রিয়া নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে আবুল মুহিতের উত্তর ছিল, তাদের বক্তব্য ঠিক ‘বোধগম্য’ নয় তার কাছে।

“আমাদের ছাত্র জমানায় দুইটি শব্দ আমরা খুব ভাল ব্যবহার করতাম, প্রগতিশীল এবং প্রতিক্রিয়াশীল। সেখানে মানেটা একরকম ছিল। এখানে মানেটা আমি ঠিকমত বুঝতে পারিনি।

“সেখানে মানে ছিল প্রগতিশীল হলেন তারা, মধ্যের বামে যারা থাকেন তারা হলেন প্রগতিশীল। যারা মধ্যপন্থার ডানে থাকেন তারা প্রতিক্রিয়াশীল। সেই হিসাব যদি ধরেন তাহলে বাংলাদেশ একেবারেই প্রগতিশীল দেশ।”

ডানপন্থা অবলম্বনকারীদের ‘সাম্প্রদায়িক’ আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, “তারা এই জগতের অনুপযুক্ত। তারা ছাড়া বাংলাদেশের আর কেউ প্রতিক্রিয়াশীল লোক নেই।”

নতুন অর্থবছরে ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা ব্যয়ের বাজেট দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী মুহিত। এই খরচ মেটাতে রাজস্ব হিসেবে ২ লাখ ৪২ হাজার ৭৫২ কোটি টাকা আদায়ের পরিকল্পনা তার।

এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে কর হিসেবে আসবে ২ লাখ ৩ হাজার ১৫২ কোটি টাকা। ৯৭ হাজার ৮৫৩ কোটি টাকার ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক ব্যবস্থা ও সঞ্চয়পত্র থেকে ৬১ হাজার ৫৪৮ কোটি টাকা ধার করার লক্ষ্য ধরেছেন মুহিত।

বাজেট বক্তৃতা না শুনেই বিএনপি ওই বক্তব্য দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।

তিনি বলেন, “এই বাজেট গণমুখী বাজেট। তিনি প্রগতিশীল বাজেটেই দিয়েছেন। প্রতিক্রিয়াশীল কথাটা বলেছে বিএনপি।

“মনে হয়, বিএনপির যে নেতা নেত্রী এই কথাটা বলেছেন, তিনি বাজেট বক্তৃতাও শোনেন নাই। দেখেনও নাই। সামাজিক নিরাপত্তার জন্য যে বাজেটে হাজার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখতে পারে, সেই বাজেট কখনও প্রতিক্রিয়াশীল বাজেট হতে পারে না। এটা জনমুখী বাজেট।”

এই বাজেটে দেশীয় শিল্পকে রক্ষা করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “উৎপাদন ‍বৃদ্ধির পদক্ষেপ নিয়েছে। আমরা একটি চমৎকার বাজেট দিয়েছি।”

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “প্রতিক্রিয়াশীল বলছে সেই দল, আমাদের কোনও ভাল কাজ যাদের চোখে পড়ে না। যেসব মেগা প্রকল্প আমরা নিয়েছি, চমৎকার। আমরা একটা লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি; ভিশন ২০২১। অর্থমন্ত্রীও সেটা প্রণয়নে ছিলেন। একটা লক্ষ্য নির্ধারণ করেই আমরা বাজেট এবং কার্যক্রম চালিয়ে নিচ্ছি। অনেকে অনেক কথা বলবে।

“তারপরও যদি একটু এদিক ওদিক হয় সেটা সংশোধনের সময় আমদের রয়েছে। প্রতিবছর সেটা আমরা করে থাকি। প্রতিক্রিয়াশীল শব্দটি তাদের কাছ থেকে এসেছে, যারা গ্রামীণ অর্থনীতিতে সেইভাবে অবদান রাখতে পারেনি।”

কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, “কৃষিতে জমি কমছে মানুষ বাড়ছে। এরপরও আমরা খাদ্যে কেবল স্বয়ংসম্পূর্ণ না, উদ্বৃত্তও। তার প্রমাণ আমরা রেখেছি।

“আমাদের পদক্ষেপ অগ্রমুখী। প্রতিক্রিয়া ইত্যাদি শব্দগুলা শুনছিলাম, একটা হল রিঅ্যাকশন, আরেকটা হল রিঅ্যাকশনারি। রিঅ্যাকশন ইতিবাচকও হয়। যদি রিঅ্যাকশন নেগেটিভ হয়, যে প্রতিক্রিয়া আমাদেরকে পেছনে টানে সেটা প্রতিক্রিয়াশীল।

“তার (অর্থমন্ত্রীর) কাজে প্রতিক্রিয়া হচ্ছে, কিন্তু সেটা অগ্রমুখী প্রতিক্রিয়া।”

সুত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।