Pages

Categories

Search

আজ- সোমবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

গাজীপুরে প্রতারক লুৎফুল হায়দার তুহিন গ্রেফতার

নভেম্বর ১৮, ২০১৫
অপরাধ, আইন- আদালত, গাজীপুর
No Comment
প্রতারক লুৎফুল হায়দার তুহিন (আটক করার পর তোলা)

প্রতারক লুৎফুল হায়দার তুহিন (আটক করার পর তোলা)

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

গাজীপুর শহরের মাধববাড়ি এলাকা থেকে ১৮ নভেম্বর বুধবার ভোররাত ৪.২০মিনিটে তাকে আটক করা হয়।

মাধববাড়ি মোড়ের একটি (বাসা নং-১২৫/সি)  বাসায় পাওনাদারদের ভয়ে সে নিজেকে আত্নগোপন করে রাখে।  সে তার স্ত্রী শাহিদা বেগমকে নিয়ে আনুমানিক ৫মাস যাবৎ বাসাটিতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছে।

জয়দেপুর থানা পুলিশের এস.আই আকবর হোসেনের নের্তৃত্বে তাকে আটক করা হয়।

তার গ্রামের বাড়ি গাজীপুর জেলার শ্রীপুর থানার কাওরাইদ গ্রামে, তার পিতাঃ মৃত: সিরাজুল ইসলাম, মাতাঃ জাহানারা ইসলাম।

মামলা সূত্রে জানা যায়, তার বিরুদ্ধে চেক প্রতারণার চারটি মামলা রয়েছে।  উক্ত চারটি মামলাই গাজীপুরে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট এর ২নং  আদালতে করা হয়। আদালত হস্তান্তর যোগ্য দলিল আইন ১৮৮১ (এন আইন এ্যাক্ট) এর ১৩৮ ধারা দেখিয়ে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।

তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা গুলো হল- সি.আর-৯২০/১৫, ৯১৯/১৫, ৯২১/১৫, ৯২২/১৫।

আদালতে মামলা দায়েরের পর বার বার তার কাছে উকিল নোটিশ পাঠিয়ে কোন সাড়া মেলেনি।

একাদিক সূত্রে জানা গেছে, প্রতারক তুহিন আদম (বিদেশে লোক পাঠানোর) ব্যবসার সাথে জড়িত। এবং ব্যবসার নাম করে গাজীপুর জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে সে প্রায় ১ কোটি টাকা আত্নসাৎ করে গাজীপুর থেকে অন্য স্থানে পালিয়ে যায়।

তার মাধ্যমে বিদেশ যাবে বলে অসংখ্য লোক প্রতারণার শিকার হয়েছে এবং জায়গা-জমি, গাড়ি, গরু, বসত বিটা, স্বর্ণ গয়না সহ অসংখ্য মূল্যবান জিনিস বিক্রি করে টাকা দিয়ে আজ সর্বহারা।

বিশ্বস্থ সূত্রে জানা গেছে তার দুইটি স্ত্রী রয়েছে। এবং বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিতে তার দুই স্ত্রীকে ব্যবহার করতো।

তাছাড়া তার বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমানের বন্ধু পবিচয় দিয়ে অনেকের সাথে প্রতারণা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সে গাজীপুর শহরের দক্ষিণ ছায়াবিথী এলাকায় বহুল আলোচিত খোয়াফ ভবনে থাকাকালীন বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যাক্তিদের নাম পরিচয় দিয়ে প্রচুর অর্থ আত্মসাৎ করে নেয়।

আসামী তুহিন পেশায় একজন আদম ব্যবসায়ী হলেও ব্যবসার নামে প্রতারণা বিশ্বাস ভঙ্গ ও বেআইনী কর্মকান্ডে জড়িত ও আইন অমান্যকারী ব্যক্তি।

 

Tuhin 2

প্রতারক তুহিন বিদেশ পাঠানোর নাম করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে যে পরিমান টাকা আত্নসাৎ করেছে

ফজুল মিয়া (পাড়াগাঁও) ১০ লক্ষ, মাহফুজ শিকদার (গাজীপুর) ৪ লক্ষ ৫০ হাজার, শফিকুল (প্রলাতপুর) ৪ লক্ষ, জসিম উদ্দিন (প্রলাতপুর) ৪ লক্ষ, শাজাহান (প্রলাতপুর) ৩ লক্ষ, মাইন উদ্দিন (প্রলাতপুর) ৩ লক্ষ, আশরাফুল (দলান বাজার) ৪ লক্ষ, ইসমাইল হোসেন (ফুলদি) ৩ লক্ষ, জামাল উদ্দিন (কালিগঞ্জ) ১ লক্ষ ৫০ হাজার, আজমির হোসেন  (বেরুয়া) ১ লক্ষ ৫০ হাজার, রহিম মিয়া (ফুলদি) ২ লক্ষ, আফসার (ফুলদি) ২ লক্ষ, হাশেম ৪ লক্ষ, চান মিয়া (কাপাইশ) ৪ লক্ষ, আমির হোসেন (জাঙ্গালীয়া) ২ লক্ষ, চান মিয়া (আজমতপুর) ৩ লক্ষ, আব্দুল জাব্বার (কালিগঞ্জ) ২০ হাজার, আলামিন চৌধুরী (জিন্দা) ৫০ হাজার, খোরশেদ আলম (কালিগঞ্জ) ২৫ হাজার, ওসমান কাজী (কালিগঞ্জ) ২০ হাজার, সুমন কাজী (কালিগঞ্জ) ২০ হাজার, রিপন কাজী (কালিগঞ্জ) ৫০ হাজার, নাদিম সরকার (ফুলদি) ২ লক্ষ, শামীম (আজমতপুর) ২ লক্ষ, রাসেল মিয়া (বেরুয়া) ২০ হাজার, কাপাসিয়ার মাইন উদ্দিন গায়েন ২৫ লক্ষ টাকা।

মামলার বাদী ফজুল হক ও তার ছোট ভাই আনিসুর রহমানের সাথে গাজীপুর দর্পণের কথা হলে তারা জানান, প্রতারক তুহিনকে টাকা দিয়ে আজ আমাদের অবস্থা ভয়াবহ।  আমরা তার কাছে পাওনা টাকা দাবি করলে সে বিভিন্ন ভাবে আমাদেরকে প্রাণ নাশের হুমকি প্রদান করে। তারা আরও বলেন আমাদের পাওনা টাকা কোন ভাবেই না পেয়ে আইনের আশ্রয় নেই, এবং আদালতে মামলা দায়ের করি। আজ ১৮ নভেম্বর বুধবার রাত ৪.২০মিনিটে আমাদের সহযোগীতায় তাকে পুলিশ আটক করে জয়দেপুর থানায় নিয়ে যায়।

মামলার প্রথম সাক্ষী মাহফুজ শিকদারের সাথে গাজীপুর দর্পণের কথা হলে তিনি জানান, আমার পাওনা টাকা প্রতারক তুহিনের কাছে দাবি করলে সে নানা তালবাহানা করে, এবং আমাকে সে একাদিকবার প্রাণ নাশের হুমকি প্রদান করে।