Pages

Categories

Search

আজ- শুক্রবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

প্রকল্পের মেয়াদ শেষে বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্কের কর্মচারীরা উদ্বিগ্ন

ডিসেম্বর ২৫, ২০১৭
আজকের প্রধান খবর, গাজীপুর, জাতীয়
No Comment

গাজীপুর দর্পণ রিপোর্ট : গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক প্রকল্পের মেয়াদ এবছরের ৩১ডিসেম্বর শেষ হচ্ছে। ইতোমধ্যে সংশ্ল্ষ্টি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এ সংক্রান্ত চিঠি দেয়া হয়েছে। চিঠি পাওয়ার পর তাদের ভবিষ্যত নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, সম্প্রতি তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক প্রকল্প পরিচালক মো. সামসুল আজমের (৩০নভেম্বর) স্বাক্ষতির এক চিঠি পেয়েছেন। চিঠিতে উল্লেখ করা হয় আগামি ৩১ ডিসেম্বর থেকে এ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এ সময়ে প্রকল্পের আওতায় নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা/কর্মচারীদের চাকুরির অবসান ঘটবে। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যদি এ প্রকল্পে তারা নিয়োজিত থাকেন তবে তারা নিজ দায়িত্বে থাকবেন, এজন্য কোন অবস্থাতেই কর্তৃপক্ষের নিকট বেতন-ভাতাদি দাবি করতে পারবেন না। তবে শর্ত থাকে যে এই প্রকল্প দ্বারা সৃষ্ট স্থাপনা বন্যপ্রাণীর সুষ্ঠু রক্ষনাবেক্ষন ও জনবল পোষনের নিমিত্ত রাজস্বখাতে স্থানান্তরের জন্য সরকারের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বেতন না পেলে কিভাবে তাদের সংসার খরচ, ছেলে-মেয়েদের লেখা-পড়ার খরচ, বাড়িভাড়া ইত্যাদি খরচ যোগাবেন তা নিয়ে তারা দু:শ্চিন্তার মধ্যে পড়েছেন। অনেকের সরকারি কোন চাকুরিতে ঢুকার বয়সও শেষ হয়ে গেছে। এ প্রকল্পের মেয়াদ যদি আর না বাড়ে কিংবা এটি যদি রাজস্বখাতে না নেয়া হয় তবে তাদের পথে বসতে হবে।

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের প্রতিষ্ঠাকালীন প্রকল্প পরিচালক তপন কুমার সরকার জানান, ২০১৩সালে প্রায় অর্ধশত জনবল নিয়ে এটি চালু হয়েছিল। তখন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর উদ্বোধন করেছিলেন। এতো অল্প জনবল দিয়ে এ পার্কটি পরিচালনা কঠিন ব্যাপার ছিল। তারপরও তিনি তার সাধ্যের মধ্যে সবকিছু ঠিকঠাক রেখে চালানোর চেষ্টা করে গেছেন। প্রকল্পটি রাজস্ব খাতে নেয়া প্রয়োজন। কারণ এটি একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রমানিত হয়েছে। এরজন্য পদ সৃষ্টি করে আরো দক্ষজনবল নিয়োগ করলে সরকার লাভবান হবেন।

পার্ক প্রকল্প পরিচালকের কার্যালয়ের উর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, প্রকল্পটি রাজস্বখাতে নেয়ার জন্য আমরা মন্ত্রণালয়ে কাগজপত্র পেশ করেছি। গেল নভেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে পরিবেশ ও বনমন্ত্রণালয়ে এ সংক্রান্ত সভা হয়েছে। পার্কে ৩৭ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আউটসোর্সিং কর্মীসহ প্রায় অর্ধশত জনবল রয়েছে, যা খুবই অপ্রতুল। পার্কটি সুষ্ঠভাবে মেইন্টেনেন্স করতে প্রায় ৩০০জন দক্ষ জনবল প্রয়োজন রয়েছে। তারপরও সবকিছু বিবেচনা করে মন্ত্রণালয়ে ২০০জনবলের চাহিদা দিয়ে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এটাকে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করতে বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করা হবে। পরে তাদের মতামত ও প্রতিবেদন নেয়ার পর তা বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে যাবে। সেখানে যাচাইবাছাই করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন অনুমোদনের পর একনেকে যাবে। সেখানে প্রধামন্ত্রীর মাধ্যমে তা পাস হবে। এসব শেষ হতে নূন্যতম ৬মাস লাগবে। এর আগে বিভিন্ন দপ্তর থেকে কিংবা আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে পার্কের কাজ চালানো হবে।

ইতোমধ্যে রাজস্বখাতে ৫০জনের পদ সৃষ্টি হয়েছে। পরে সেখানে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে লোক নিয়োগ করা হবে। সেখানে আগের কিছু লোক আত্তীকরন হতে পারে কিংবা নতুন লোকবল নিয়োগ দেয়া হতে পারে।