Pages

Categories

Search

আজ- শনিবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

পূর্বপশ্চিমের সাংবাদিককে হুমকি, থানায় জিডি

নিজস্ব প্রতিবেদক: গাজীপুর সিটি প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ ও অনলাইন নিউজ পোর্টাল পূর্বপশ্চিমবিডি.নিউজ-এর গাজীপুর প্রতিনিধি মাহমুদুল হাসানকে সংবাদ প্রকাশের জেরে হুমকি দিয়েছে এক প্রতারক। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে জয়দেবপুর থানায় জিডি করেন ওই সাংবাদিক।

তবে জয়দেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আমিনুল ইসলামের কাছে জেলায় কর্মরত অন্য সাংবাদিকরা জিডির বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি জানেন না বলে সাংবাদিকদের জানায়। এ বিষয়ে সাংবাদিক মাহমুদুল হাসান বলেন, জিডির কপি ও সংবাদের প্রিন্ট কপি নিজে ওসির কাছে দিয়েছি। তবুও তিনি বলেছেন জানেন না, বিষয়টি সত্যিই দুঃখজনক।

জিডিতে মাহমুদুল হাসান উল্লেখ করেন, গত ৭ জুলাই ‘সংসদ উপনেতার জামাতা ও দুদক কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা’ শিরোনামে পূর্বপশ্চিমবিডি. নিউজে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই সংবাদ প্রকাশের জেরে অভিযুক্ত আবু বক্কর সিদ্দিক কামাল বিভিন্ন সময় মুঠোফোনে ও ক্ষুদে বার্তায় আমাকে ভয়-ভীতি ও প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে আসছে। এছাড়া আমার পরিচিত জনদের কাছেও মুঠোফোনে বিভিন্ন হুমকি দিচ্ছে। এঘটনার পর থেকে আমি জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এমতাবস্থায় ১০ আগস্ট রাতে জয়দেবপুর থানায় ঘটনাটি নিয়ে সাধারণ ডায়রী করা হয়। পরে কর্তৃপক্ষ সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মাহবুব আলমকে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন।

গাজীপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোন সাংবাদিককে হুমকি দেয়া হবে এটা প্রশাসন অব্যশই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখবে।

গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গোলাম সবুর বলেন, জিডির কপি নিয়ে ওসির সাথে কথা বলেন। প্রয়োজনে সদর সার্কেলের এডিশনাল এসপির সাথে কথা বলেন তারা যদি ব্যবস্থা না নেয় তাহলে আমাদের কাছে আসেন বিষয়টি দেখছি।

হুমকির বিষয়ে গাজীপুর সিটি প্রেসক্লাবের সভাপতি মঞ্জুর হোসেন মিলন, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিলন ও সকল সদস্যসহ জেলায় কর্মরত সাংবাদিকরা নিন্দা জানিয়ে সুষ্ঠ তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, গত ৭ জুলাই ‘সংসদ উপনেতার জামাতা ও দুদক কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা’ শিরোনামে পূর্বপশ্চিমবিডি.নিউজে আবু বক্কর সিদ্দিক কামাল নামে এক প্রতারক ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে একটি সচিত্র অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতারক নিজেকে দুদক কর্মকর্তা, সচিব, সংসদ উপনেতার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, ম্যাজিস্ট্রেট আবার কখনও কখনও শিল্পপতি বা বড় ব্যবসায়ী দাবি করে। এমনকি প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতির খুব আস্থাভাজন ব্যক্তি পরিচয় দিয়ে থাকে সাধারণ মানুষের কাছে। আবার র‌্যাব দিয়ে মানুষকে ক্রসফায়ারে মেরে ফেলার ক্ষমতা রাখেন বলে মানুষকে ভয়-ভীতি দেখায়। এছাড়া এই প্রতারক তার স্ত্রীকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ও জাতীয় সংসদের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর মেয়ে বলে পরিচয় দিয়ে থাকে। তার স্ত্রীও নিজেকে সাজেদা চৌধুরীর মেয়ে দাবি করেন।