Pages

Categories

Search

আজ- শুক্রবার ১৬ নভেম্বর ২০১৮

পুলিশে গুলিতে শ্রমিক হত্যার গুজব ঃ গাজীপুরে স্ট্যান্ডার্ড গার্মেন্টসে শ্রমিকদে অগ্নি সংযোগ দুটি ভবন সম্পূর্ণ ভস্মিভূত

GAZIPUR--STANDARD_GROUP--5[2]
স্টাফ রিপোর্টার ঃ পুলিশের গুলিতে শ্রমিক নিহত হয়েছে মসজিদের মাইকে এমন গুজব ছড়িয়ে শ্রমিকদের উত্তেজিত করার পর শ্রমিকরা বৃহস্পতিবার রাতে গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে স্ট্যান্ডার্ড গ্রæপের একটি তৈরী পোশাক কারখানায় শ্রমিকরা অগ্নি সংযোগ করলে কারখানার মালামাল ও যন্ত্রপাতিসহ একটি ৮ তলা, একটি ১০ তলা ভবন, কারখানার ভিতরে রাখা ১৫টি গাড়ী সম্পূর্ণ ভস্মিভূত হয়। সম্পূর্ণ কারখানাটি একটি ধ্বংসস্তুপে পরিনত হয়। তবে এতে কেউ নিহত হবার খবর পাওয়া যায়নি।
কারখানার ম্যানেজার মুশফিকুর রহমান জানান, এ কারখানায় দুটি ভবনে প্রায় ২৭ হাজার শ্রমিক কাজ করে। বৃহস্পতিবার রাত ১০ টার দিকে কারখানা ছুটি হলে সবাই চলে যায়। এসময় কারখানার ভিতরে কারখানার নিরাপত্তার কর্মীদের সাথে ৩৫ জন পুলিশ নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিল। রাত  সাড়ে ১১টার দিকে কারখানার বাইরে কিছু শ্রমিক জটলা করলে পুলিশ তাদের সরে যাবার নির্দেশ দিলে তারা পুলিশের সাথে তর্কে লিপ্ত হয়। এক পর্যায়ে পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল ছুড়ে তাদের ছত্র ভংগ করে দেয়। এসময় শ্রমিকরা কারখানার উত্তর পাশের একটি মসজিদ থেকে মাইকে পুলিশ একজন শ্রমিকের পেটে গুলি করে হত্যা করেছে, সবাই বেরিয়ে আসুন বলে প্রচার করে। মাইকে শ্রমিক হত্যার গুজব শুনে রাত সাড়ে ১১টার দিকে আশপাশের শত শত শ্রমিক উক্ত কারখানর সামনে জড়ো হয় এবং ২ না¤^ার গেট ভেংগে ভিতরে প্রবেশ করে কারখানার ভিতরে রাখা ১৫টি কাভার্ড ভ্যান ও দুটি ভবনে দাহ্য পদার্থ দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। মুহুর্তেই আগুন ভয়াবহ দাবানলের রুপ লাভ করে। আগুনের লেলিহান শিখা ৫/৬ কিলোমিটার দুর থেকে দেখা যায়। এসময় শ্রমিকরা উক্ত কারখানায় যাবার রাস্তায় বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে ও ঝুট কাপড়ে আগুন ধরিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। ফলে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দল দ্রুত ঘটনাস্থলের কাছে গেলেও আগুন নিভানোর কাজে যোগ দিতে পারছিল না। পরে পুলিশ ফাকা গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের সরিয়ে দিয়ে রাস্তার প্রতিবন্ধকতা অপসারণ করলে সাড়ে ১২টার দিকে দমকল বাহিনী আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে।
গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ সহকারী পরিচালক আক্তারুজ্জামান লিটন জানান, আগুনে কারখানার মালামাল ও যন্ত্রপাতিসহ একটি ৮ তলা, একটি ১০ তলা ভবন, কারখানার ভিতরে রাখা ১৫টি গাড়ী সম্পূর্ণ ভস্মিভূত হয়। দমকল বাহিনীর ২২টি ইউনিট চেষ্টা করে রাত ৩টার দিকে ৮ তলা ভবনের আগুন নিয়ন্ত্রনে আনতে সক্ষম হয়। কিন্তু পানি ¯^ল্পতার কারণে ১০তলা ভবনের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সময় বেশী লাগছে। সকাল ৯টা পর্যন্ত ১০ তলা ভবনের মালামাল ও যন্ত্রপাতি পুড়ে আগুন নি¯Íেজ হয়ে পড়েছে।
আগুনে কারখানাটির প্রায় ৫শ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। আগুনের তাপে ভবনের ভিতর থেকে মাঝে মাঝে বিকট শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। এলাকায় বিপুল পরিমাণ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ইসলাম গ্রæপের জিএম রফিকুল ইসলাম জানান, ইসলাম ফ্রেব্রিক্সের স্ট্যান্ডার্ড কারখানার পাশে ইসলাম গ্রæপের একটি কারখানায় একই সময়ে শ্রমিকরা ঢুকে একটি কাভার্ড ভ্যান ও নিরাপত্তাকর্মীদের কক্ষে আগুন ধরিয়ে দেয়। এসময় পুলিশ ও কারখানার শ্রমিকদেও তাড়া খেয়ে আগুন দিতে আসা শ্রমিকরা পালিয়ে যায়। পরে কারখানার নিজ¯^ অগ্নিনির্বাপক কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। এসময় কারখানাটিতে উৎপাদন কাজ চলছিল। আগুন নিয়ন্ত্রনে না আনতে পারলে আগুন ছড়িয়ে পড়লে এখানে অনেক প্রাণহানি ঘটার সম্ভাবনা ছিল।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, স্ট্যান্ডার্ড গ্রæপের মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে শ্রমিকদের কোন অভিযোগ ছিল না। এ কারখানার শ্রমিকরা অধিকাংশা সময় বিক্ষোভ থেকে বিরত থাকত। এখানে কর্মরত শ্রমিকরা অধিকাংশই সিরাজগঞ্জ এলাকার অধিবাসী। ইতিপূর্বে সিরাজগঞ্জ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে কারখানার শ্রমিকদের সাথে মালিকপক্ষ আলোচনা করে বেতন বৃদ্ধিও সরকারী সিদ্ধান্ত কার্যকরের ঘোষণা দেয়া হয়। ফলে এ কারখানর শ্রমিকরা আন্দোলনে যেত না। এসব কারণে আশপাশের কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা এ কারখানার উপর ক্ষুব্ধ ছিল।
গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিম সুপার (দক্ষিণ) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, রাতে পুলিশের গুলিতে শ্রমিক নিহতের বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও গুজব। মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে শ্রমিক পরিচয়ধারী কিছু দুস্কৃতিকারী পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। আগুন দেয়ার খবর পেয়ে রাতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ¤্রমিকদের প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে দমকল কর্মীদের সাথে আগন নিয়ন্ত্রণের কাজে সহায়তা করা হচ্ছে।