Pages

Categories

Search

আজ- শুক্রবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

পীরগঞ্জে বোরো ধান কর্তন নিয়ে বিপাকে কৃষকেরা

মে ৮, ২০১৮
রংপুর
No Comment


বখতিয়ার রহমান, পীরগঞ্জ (রংপুর) : রংপুরের পীরগঞ্জে প্রতিকুল আবহাওয়া ও শ্রমিক সংকটের কারনে চলতি মরশুমে বোরো ধান কর্তন নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে কৃষকেরা। ফলে নুতন ধান ঘরে আসার সম্ভাবনাতেও হাসি নাই কৃষকের মুখে । তাদের চোখে মুখে সার্বক্ষণিক হতাশার ছাপ।
উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্য মতে পীরগঞ্জে চলতি মরশুমে ২৩ হাজার ৪৬৯ হেক্টর জমিতে বোরো ধান উৎপাদীত হয়েছে । এদিকে পীরগঞ্জ উপজেলার গুর্জিপাড়া, শানেরহাট, মিলকী, পার্রতীপুর, ভুচুবাড়ী, আমবাড়ী , শাহাপুর সহ বেশ ক’টি গ্রামের বেশ কিছু সংখ্যক সাধারন কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখন বোরো ধান কর্তনের পুরো মরশুম চলছে । অথচ প্রতিকুল আবহাওয়ার কারনে অবিরাম বর্ষনে অনেক স্থানের বোরো ধান পানির নীচে তলিয়ে গেছে ও অনেক জমিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে । তার পরেও কৃষকদের মাঝে প্রতিনিয়ত শিলা বৃষ্টির আতংক লেগেই আছে ।
আবহাওয়ার এ পরিস্থিতিতে কৃষকের জরুরী ধান ঘরে উঠানোর চেষ্টা করলেও পারছেন না । কারন এ ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাড়িয়েছে শ্রমিক । গ্রাম গুলোতে যে সীমিত সংখ্যক শ্রমিক রয়েছে তার জোট বদ্ধ হয়ে অনেকটাই সিন্ডিকেট তৈরী করেছে । বাড়িয়ে দিয়েছে ধান কর্তনের মজুরী মুল্য । এর ফলে কৃষকদেরকে প্রতি ৫০ শতক জমির ধান কর্তনের জন্য সাড়ে ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত গুনতে হছে। যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১৫ শ’ থেকে ২ টাকা হাজার বেশি। বাধ্য হয়ে অনেক কৃষক ধান কর্তনে অভ্যস্ত না থাকলেও নিজেরই ধান কর্তন করে ঘরে উঠানোর চেষ্টা করছেন । পার্রতীপুর গ্রামের কৃষক সোহরাব হোসেন জানান, তিনি ৪ একর জমিতে বোরো ধান উৎপাদন করেছেন । তিনি এখন পর্যন্ত অনেক কষ্টে অর্ধেক ধানও ঘরে তুলতে পারলেও পুরো ধান এখনও ঘরে তুলতে পারেননি । তার মতে এ অর্ধেক ধান উৎপাদনে তার খরচ পড়েছে প্রায় ৪২ হাজার টাকা। আর ধান পেয়েছেন কেজির ৯৫ মণ। বর্তমান ৫৫০ টাকা প্রতিমন হিসেবে যার বাজার মূল্যে প্রায় ৫২ হাজার টাকা । যে লভাংশ ওই কৃষকের জন্য হতাশা জনক । এ পরিস্থিতি উপজেলার সকল কৃষকের মাঝে । কৃষকেরা জানেন না তা সময়মত ধান ঘরে উঠাতে পারবেন কি না ।
এ দিকে কৃষি ক্ষেত্রের এ অবস্থার জন্য অনেক কৃষক মনে করেন, বোরো ধান কর্তনের পুরো মরশুমেও পীরগঞ্জে সরকারের কর্মসৃজন কর্মসুচী চালু থাকায় সীমিত শ্রমিকদেরও একটি অংশ সেখানে শ্রম বিনিয়োগ করছে । আর যার প্রভাব পড়ছে কৃষি ক্ষেত্রে । কৃষকদের মতে এ সময় কর্মসৃজন কর্মসুচী স্থগীত ধাকলে ওই শ্রমিকেরা ধান কর্তনে শ্রম দিত । আর এতে কিছুটা হলেও শ্রমিক সংকট হ্রাস পেত ।