Pages

Categories

Search

আজ- শুক্রবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

পীরগঞ্জে ক্ষুরারোগের প্রকোপে এক গ্রামেই ২২টি গরুর মৃত্যু

এপ্রিল ৩০, ২০১৭
প্রকৃতি, বিবিধ, রংপুর
No Comment


বখতিয়ার রহমান,পীরগঞ্জ (রংপুর) : পীরগঞ্জের বিভিন্ন গ্রামে ব্যাপক হারে গরুর ক্ষুরা রোগের প্রকোপ বেড়ে গেছে। আর এ রোগে গত ১ সপ্তাহের ব্যবধানে উপজেলার চৈত্রকোল ইউনিয়নের শুধু শাল্টি গ্রামেই ২০টি গরু মারা গেছে । আক্রান্ত হয়েছে আরও ২ শতাধিক। ফলে গবাদী পশু পালনকারী ব্যবসায়ী ও কৃষকরা চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। কেউ কেউ তাদের মুল্যবান গরু হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, ভাইরাসজনিত ছোয়াছে এ রোগে শাবুল্লাপাড়া শাল্টি গ্রামের কৃষক মুকুল মিয়ার প্রায় দেড় লক্ষ টাকা মূল্যের বিদেশী গাভী ও বাছুর, সিরাজুল ইসলামের ১টি বলদ গরু, শিবারপাড়া শাল্টি গ্রামের মিজানুর রহমানের প্রায় ৫০ হাজার টাকা মূল্যের গাভী ও বাছুর, শাহ্ আলম মিয়ার ২টি, বকুল মিয়ার ২টি, নুর হুদার ১টি, আয়নাল হকের ৭০ হাজার টাকা মূল্যের বিদেশী গাভী , সেলিম মিয়ার ১টি, আরিফুল হকের ২টি, মনোয়ার ও জলিল মিয়ার ১টি করে গরু মারা গেছে।
এছাড়া পাকুড়িয়া গ্রামের রবিউল ইসলামে ১টি গাভী, খট্টু মেকারের ১টি বাছুর, মহেষপুর গ্রামের দেলদার হোসেনের ১টি বাছুর, হাজিপুর গ্রামের শাহজাহান মিয়ার ১টি বলদ গরু মারা গেছে।
এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য মোফাজ্জল হোসেন জানান, আমার ওয়ার্ডের শাল্টিসহ বিভিন্ন গ্রামে ক্ষুরারোগ ব্যাপকহারে ছড়িয়ে পড়লেও সরকারীভাবে কোন সেবা দেয়া হচ্ছে না। স্থানীয় পশু চিকিৎসক ফজলুল হক জানান, গরুর স্কীন ডিজেস (চামড়া পঁচা) ও ক্ষুরারোগ বিভিন্ন গ্রামে মহামারি আকার ধারণ করেছে। চামড়া পঁচারোগে ছোট ছোট গরুগুলো আক্রান্ত হলেও মরার সংবাদ নেই, তবে ক্ষুরারোগে আক্রান্ত গরু মরার সংবাদ অহরহ।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মাসুদার রহমানের সাথে কথা হলে তিনি জানান,এতো গরু মারা যাওয়ার খবর তার জানা নেই। তবে ক্ষুরারোগের ভ্যাকসিন সরবরাহও নেই বললেই চলে। তিনি প্রাণী সম্পদ বিভাগে লোকবল স্বল্পতার কথা উল্লেখ করে গরু মালিকদেও পরামর্শ দিয়ে বলেন, ক্ষুরা ভাইরাসজনিত ১টি ছোয়াছে রোগ। এ রোগ যে কোন শ্রেণী ও বয়সের পশুর হতে পারে। ক্ষুরারোগের লক্ষণ হচ্ছে- আক্রান্ত পশুর গায়ের তাপমাত্রা খুব বৃদ্ধি পায়। জিহŸা, দাঁতের মাড়ি, মুখ গহবর, পায়ের ক্ষুরের মধ্যভাগে ঘা অথবা ক্ষতের সৃষ্টি হয়। মুখ দিলে লালা ও ফেনা বের হয়। কোন কিছু খেতে চায় না। এ অবস্থায় আক্রান্ত পশুটি খোঁড়াতে থাকে। এক পর্যায়ে পশু দুর্বল হয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই মারা যায়। এ অবস্থায় আক্রান্ত পশুকে অন্য পশু থেকে পৃথক করে রাখা ও সালফানিলামাইড পাউডার ব্যবহার করা প্রয়োজন।