Pages

Categories

Search

আজ- শনিবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

পীরগঞ্জের সরঃ প্রাথঃ বিদ্যালয়ে ল্যাট্রিন ব্যবহার ও খেলাধুলার ক্ষেত্রে প্রতিকুলাবস্থা

বখতিয়ার রহমান, পীরগঞ্জ ( রংপুর): শিক্ষা জীবনের মুল ভিত্তি প্রাথমিক শিক্ষা । যেখানেই প্রতিটি শিশুর কেটে যায় প্রাথমিক জীবনের ৯ থেকে ১০ টি বছর । তাই শিশুদের পরবর্তি ক্যারিয়ার গঠন ও শিক্ষা অর্জনের ক্ষেত্রে প্রাথমিক শিক্ষা অতীব গুরত্বপুর্ণ । কিন্তু বর্তমানে দেশের প্রাথমিক এ শিক্ষা নিযে বিভিন্ন মহলে নানা প্রশ্ন । অনেকে এ শিক্ষার মান নিয়ে সন্তোস প্রকাশ করলেও অনেকে দ্বিমত প্রকাশ করেন । অনেকের মতে পাবলিক পরীক্ষা গুলো যে ভাবে চলছে, তাতে পাশের হার বাড়লেও ছাত্রছাত্রীদের মাঝে প্রত্যাশিত মেধার বিকাশ ঘটছে না ।
এমনি জল্পনা কল্পনার মাঝেও কেমন চলছে পীরগঞ্জের সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলো ? পেশাগত দায়িত্বে এর বাস্তবতা জানতে ১৪ নভেম্বর মঙ্গলবার /২০১৭ গিয়েছিলাম রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার বড়দরগাহ ইউনিয়নের “ ছোট মির্জাপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে” । যখন বিদ্যালয়ে পৌঁছি তখন ঘড়িতে সময় বিকাল ১২ টা বেজে মিনিট ৪৫ মিনিট । বিদ্যালয়ে পৌঁছিই লক্ষ্য করলাম একটি কক্ষে ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকগন সমবেত হয়েছেন । পরে জানতে পারলাম ৫ম শ্রেনীরে ছাত্রছাত্রীদের বিদায় অনুষ্ঠান হচ্ছে । সেখানে এক শিক্ষকের সঙ্গে পরিচয় হওয়ার পর তিনি আমাকে অফিসে নিয়ে গেলেন । পরপরেই বিদ্যালয়টির প্রদান শিক্ষিকা সহ আরও এক শিক্ষক অফিসে গেলেন । তাদের পরিচয় দেয়ার পর আমার কিছু আলোচনার আগ্রহে তারা সম্মত হলেন ।অফিস কক্ষে প্রধান শিক্ষিকা আতিকা খানম এর সঙ্গে কথা বলে জানতে পারলাম, বিদ্যালয়টিতে শিক্ষকের পদ সংখ্যা ১১ । এর মধ্যে শিক্ষিকা লায়লা আরজুমান বানুর মৃত্য জনিত কারনে গত ৩ বছর ধরে ১ টি পদ শুন্য রয়েছে । উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও অদ্যবদী শিক্ষক পাওয়া যায়নি । এ ছাড়া আর ১ জন শিক্ষিকা ফারহা পারভীন বিপিএড করছেন । প্রধান শিক্ষিকা সহ অপর ৯ জন শিক্ষক শিক্ষিকা মিন্নাতুন্নাহার বেগম, রেহানা সরকার, মনোয়ারা বেগম, আবু সাইদ মারফুয়ান, সাকিলা আফরোজ, সালমা বেগম, রাকিবুল ইসলাম ও শাহিনা আকতার বিদ্যালয়ে উপস্থিত রয়েছেন । বিদ্যালয়টির ছাত্রছাত্রীর ব্যাপারে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারলাম, বিদ্যালয়টিতে মোট ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ৩৩২ জন । এ দিন কোন ক্লাস হয়নি হেতু উপস্থিতির হারও জানা সম্ভব হয়নি । তবে পুর্ব দিন ১৩ নভেম্বর ২২ জন অনুপস্থিত ছিল । এর মধ্যে শিশু শ্রেণীর ২৭ জনের মধ্যে ৫ জন, ১ম শ্রেণীর ৪৭ জনের মধ্যে ২ জন , ২য় শ্রেণীতে ৬৬ জনের মধ্যে ২ জন, ৩য় শ্রেণীতে ৬১ জনের মধ্যে ৩ জন, ৪র্থ শ্রেণতে ৫৬ জনের মধ্যে ৩ জন এবং ৫ম শ্রেণীর ৭৫ জনের মধ্যে ৭ জন ছাত্রছাত্রী অনুপস্থিত ছিল ।
বিদ্যালয়টিতে ছাত্রছাত্রীদের ইউনিফর্ম প্রত্যক্ষ না করলেও এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক জানান, ৮০ শতাংশ ছাত্রছাত্রীর ইউনিফর্ম ড্রেস আছে । এক প্রশ্রের জবাবে প্রধান শিক্ষক জানান, সর্বশেষ ১৬ অক্টোবর/১৭ উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ স্যার বিদ্যালয়টি পরিদর্শনে এসছিলেন । বিদ্যালয়টিতে পাঠদ্বানের ব্যাপারে কোন সমস্যা আছে কিনা ? এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, বিদ্যালয়টিতে শ্রেণী কক্ষের সমস্যার পাশাপাশী ল্যাট্রিন গুলো অকেজো হয়ে পড়েছে এবং বিদ্যালয় মাঠে ২ টি পুকুর থাকার কারনে খেলাধুলা ও ছাত্রছাত্রীদের সমাবেশ করতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে ।
প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে আলোচনা শেষে ৫ম শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীদের বিদায় অনুষ্ঠানে ক্যারিয়ার গঠন ও পরীক্ষা সংক্রান্ত ব্যাপারে কিছু পরামর্শ দিয়ে শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীদের সালাম ও শুভেচ্ছা জানিয়ে বিকাল ১টা বেজে ২০ মিনিটে বিদ্যালয় ত্যাগ করেছিলাম ।