Pages

Categories

Search

আজ- শনিবার ১৭ নভেম্বর ২০১৮

পাশাপাশি বাবা-মেয়ে চিরনিদ্রায় শায়িত

মার্চ ২০, ২০১৮
শ্রীপুর
No Comment

গাজীপুর দর্পণ রিপোর্ট : ৩ বছরের ছোট্ট সোনামনি প্রিয়ন্ময়ী তামাররার খুব শখ ছিলো বিমানে উড়ার, তার দাদুকে বলেছিলো ‘‘দাদু আমি আকাশে উড়বো’’। আর সেই উড়ায় যে পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নিয়ে উড়াল দেয়া হবে তা কার ই বা জানা ছিলো। বিধির বিধান না যায় খন্ডন,এক সাথেই বাবা মেয়ের মৃত্যু লেখা ছিলো। আর তাই একমাত্র কন্যাকে বাঁচাতে গিয়ে বাবাও না ফেরার দেশে চলে যান।
গত ১২ মার্চ নেপালের ত্রিভূবন আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে ইউ এস বাংলার বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় অন্যান্যের সাথে নিহত হোন পরিবার নিয়ে বেড়াতে যাওয়া এফএইচ প্রিয়ক ও তার শিশু কন্যা। ভ্রমণ সাথী ছিলেন স্ত্রী আলমুন নাহার এ্যানি, একমাত্র শিশু কন্যা তামাররা, ফুফাতো ভাই মেহেদী হসান ও তার স্ত্রী কামরুন্নাহার স্বর্ণা। স্ত্রী, ফুফাতো ভাই ও ভাইয়ের স্ত্রী দেশে ফিরলেও বাবা ও মেয়ে ফিরেন লাশবাহি কফিনবন্দি হয়ে।
গতকাল আর্মি স্টেডিয়ামে রাষ্ট্রিয়ভাবে জানাযা শেষে গাজীপুর জেলার শ্রীপুরের নগর হাওলা গ্রামে এফএইচ প্রিয়কের নিজগৃহে দাফনকার্য সম্পন্ন করতে দু’টি কফিনে করে তাদের লাশ আনা হয়।
আজ সকাল ৯ টায় আব্দুল আওয়াল কলেজ মাঠে উপজেলা প্রশাসন সহ লাখ লাখ মানুষ সমবেত হয়ে তৃতীয় জানাযার নামাজ ও ১১ টায় স্থানীয় একটি বৃহৎ খোলা মাঠে বাবা মেয়েকে শেষ বিদায় জানাতে ৪র্থ জানাযার নামাজে শরীক হয়। প্রথমে বাবার জানাযা পরে মেয়ের জানাযা। এমন হৃদয় বিদারক পরিস্থিতিতে চারিদিকে কান্নার আওয়াজে আকাশ-বাতাশ ভারী হয়ে উঠে।
জানাযা নামাজ শেষে মৃতের নিজ বাড়ির ভিতরে প্রধান ফটক দিয়ে ঢুকতেই ডান পাশের্^ বাবা-মেয়েকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। বৃদ্ধ বিধবা মা, স্ত্রী, অসংখ্য গুনগ্রাহী, বন্ধু, আত্মীয় স্বজন,এলাকা ও দেশবাসী সবাইকে দু:খের অপার সাগরে ভাসিয়ে দিয়ে বাবা তার কলিজার টুকরা সোনামানিক একমাত্র মেয়েকে বুকে নিয়ে দু:খ-কষ্ট,মান-অভিমান,জয়-পরাজয় ও অর্জন সব পৃথিবীর মানুষকে এভাবেই দিয়ে নিশ্চিন্তে অচিন্তপুরে চিরনিদ্রায় ঘুমালেন।