Pages

Categories

Search

আজ- শুক্রবার ১৬ নভেম্বর ২০১৮

পলাশে জুয়া খেলায় বাধা দেওয়ায় দিনমজুরের বাড়িঘর ভাঙচুর

ডিসেম্বর ২১, ২০১৬
অপরাধ, আইন- আদালত, নরসিংদী
No Comment

narsingdi-map1214555

নূরে-আলম রনী, নরসিংদী প্রতিনিধিঃ
নরসিংদীর পলাশে জুয়া খেলা বাধা দেওয়ায় সন্ত্রাসী ও জুয়ারীদের অব্যাহত হুমকীর মধ্যে দিন পার করছে দিনমজুর বকুল গাজী ও তার অসহায় পরিবার। সেই সাথে গত এক সপ্তাহ যাবৎ সন্ত্রাসী ও জুয়ারীরা তান্ডব চালায় দিনমজুর বকুল গাজীর বাড়িতে। পিটিয়ে আহতে করে তার বৃদ্ধ মা সুফিয়া বেগমকে। ঘটনাটি ঘটেছে পলাশ উপজেলার গজারীয়া ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড চরকারার্দী গ্রামে। এঘটনায় বকুল গাজী পলাশ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। সরেজমিন ঘটনা স্থানে গিয়ে ও ভূক্তভোগী পরিবারের কাছ থেকে জানা যায়, চরকারার্দী গ্রামের মৃতঃ হারিজ গাজীর ছেলে বকুল গাজী স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দীর্ঘ বছর যাবৎ পৈতিক ভিটায় বসবাস করে আসছে। গত দু মাস পূর্বে পাশের বাড়ির নুর আলম নামে এক জুয়ারী জমজমাট জুয়া ব্যবসা করার জন্য বকুলের বাড়ির আঙিণায় কেরাম খেলা বসায়। প্রতিদিন সকাল বিকাল এমনকি গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকা থেকে জুয়ারীরা এখানে কেরাম খেলতে আসে। এবং প্রতি র্বোড থেকে নুর আলম ৫০ টাকা করে সংগ্রহ করতেন। জানা যায়, নূর-আলমের শশুর তাঁরা মিয়া তাকে জুয়া চালানোর জন্য কেরাম কিনে দেয়। এদিকে দিনমজুর বকুল গাজী তার বাড়ির পাশে জুয়ার আসর বন্ধ করার জন্য অনুরোধ জানালে ওল্টো জুয়ারী নুল-আলম ও তার শশুর তাঁরা মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে অশ্লিন ভাষায় গালাগালি করে। বিষয়টি স্থানীয় মেন্বার ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের নিকট অভিযোগ করে কোন সুফল না পেয়ে এক পার্যায়ে বকুল গাজী পলাশ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। গত বুধবার পলাশ থানা পুলিশ ঘটনাস্থান উপস্থিত হয়ে কেরাম খেলা বন্ধ করলে নুল আলম ও তার শশুর তারা মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে পরের দিন বৃস্পতিবার সকালে তার সন্ত্রাসী বাহীনি দিয়ে বকুল গাজীর বাড়িতে তান্ডব চালায়। বাড়ির ঘর ভাঙচুরে বাধা দিতে গেলে বকুল মিয়ার বৃদ্ধ মা কেও রেহাই দেয়নি সন্ত্রাসীরা। লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুত্বর আহত করে। বর্তমানে বকুলের মা পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ঘটনার পুর পুলিশ ওই এলাকায় হানা দিলে আসামীরা এলাকা থেকে গাঁ ডাকা দিয়ে দেয়। বকুল গাজী অভিযোগ করে বলেন, তাঁরা মিয়া ও তার সন্ত্রাসী ছেলেদের অব্যাহত হুমকীর মধ্যে দিন পার করতে হচ্ছে। তারা আমাকে সহ আমার পরিবারের লোকজনকে ঘরের মধ্যে আগুনে পুড়িয়ে মারার হুমকী দিয়ে আসছে। এ অবস্থায় আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। এদিকে ঘটনার পরিদর্শনকারী পলাশ থানার এ এস আই সোহেল জানান, কেরাম খেলাটা আমি নিজে গিয়ে বন্ধ করেছি। এ ছাড়া হামলার বিষয়ে কয়েকবার অভিযান চালিয়ে আসামীদের পাওয়া যায়নি। পুলিশের উপস্থিত টের পেয়ে তারা এলাকা থেকে গা ডাকা দিয়ে দেয়।