Pages

Categories

Search

আজ- রবিবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

পরিচয়হীন সুমিকে নিয়ে বিপাকে নওগাঁ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ

ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০১৬
নওগাঁ, সন্ধ্যান
No Comment

Naogaon_Sumi_Pic[1]
নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁ সদর হাসপাতালে অজ্ঞাত এক কিশোরীকে নিয়ে বিপাকে পড়েছে নওগাঁ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। নওগাঁ ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা অচেতন অবস্থায় গত ৫ জানুয়ারি তাকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রেখে যায়। এর পর থেকে ওই কিশোরীটি হাসপাতালের মহিলা অর্থো ওয়ার্ডের ৮৯ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, ১৬ বছরের কিশোরীটি তার নাম সুমি বললেও বাবা-মার নাম ঠিক করে বলতে পারছে না। এছাড়া অন্য কোনো ঠিকানা বা আত্মীয়-স্বজনদের কারও মোবাইল নম্বর বলতে পারছে না। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুলিশের মাধ্যমে যোগাযোগ করেও সুমির সঠিক পরিচয় এখনও সংগ্রহ করতে পারেনি। মাথায় প্রচণ্ড আঘাত নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পাঁচ দিন পর্যন্ত কিশোরীটি অচেতন অবস্থায় ছিল। কর্তব্যরত চিকিৎসক ও সেবিকাদের সেবার ফলে সে ভর্তি হওয়ার ২০ দিনের মধ্যেই সুস্থ হয়ে ওঠে। কিন্তু ঠিকানা না জানায় তাকে ছাড়ার অনুমতি দিতে পারছেন না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ভর্তি হওয়ার পর ৫৩ দিন হয়ে গেলেও তার পরিচয় না মেলায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চরমে বিপাকে পড়েছে।

মহিলা অর্থো ওয়ার্ডের ইনচার্জ সেবিকা নেহেরা বানু জানান, কিশোরীটি মাথায় গুরুত্বর আঘাত পেয়েছিল। তার মাথায় ১০-১২টি সেলাই দিতে হয়েছে। এছাড়া তার ডান কানের কিছু অংশ কেটে গিয়েছিল সেখানেও সেলাই দিতে হয়েছে। এখন তার শারীরিক কোনো সমস্যা নেই, তবে মানসিক সমস্যা রয়েছে।

তিনি বলেন, জ্ঞান ফেরার পর তার নাম জানতে চাইলে সে জানায় তার নাম সুমি। কিন্তু বাবা-মার নাম একেক সময় একেক রকম বলছে। বাড়ির ঠিকানা বলছে কুষ্টিয়া। তবে পুলিশের মাধ্যমে কুষ্টিয়ায় সুমি নামের কোন মেয়ের সন্ধান করতে পারেননি। এছাড়া সে আর কিছু বলতে পারছে না। হাসপাতালে ভর্তি করার সময় তার গায়ে নীল জামা-পায়জামা ও কালো রংয়ের একটি জ্যাকেট ছিল।

ওই ওয়ার্ডের আরেক সেবিকা জাহানারা বেগম বলেন, সুমিকে নিয়ে আমরা চরম বিপাকে পড়েছি। ওয়ার্ডের মধ্যে সব সময় ছোটাছুটি করে। অন্য রোগীদের নানা ভাবে বিরক্ত করে। প্রায়ই প্রতিদিনই মায়ের কাছে যাবে বলে কান্নাকাটি করে।
সুমির চিকিৎসক ডা: আরশাদ হোসেন জানান, সুমি আগে থেকেই মানসিক ভারসাম্যহীন অথবা মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পাওয়ার ফলে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখন শারীরিকভাবে সে সম্পূর্ণ সুস্থ। তার এখন মানসিক চিকিৎসা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা: আনজুমান আরা বলেন, ‘মেয়েটিকে নিয়ে আমরা চরম বিপদে আছি। আমরা পুলিশসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। কিন্তু তার কোনো সঠিক ঠিকানা পাওয়া যাচ্ছে না। সে এখন সম্পূর্ণ সুস্থ। তার মানসিক চিকিৎসা প্রয়োজন। ওয়ার্ডের মধ্যে দৌঁড়াদড়ি করে। সব সময় তাকে নজরে রাখতে হয়। হারিয়ে গেলে তার দায়ভার আমাদেরকেই নিতে হবে। আর কিছু দিন দেখব এর মধ্যে তাকে নিতে কেউ না আসলে আমরা পাবনা হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করব।’