Pages

Categories

Search

আজ- বুধবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮

নীতিমালা সংশোধন হচ্ছে ৩০ হাজার টাকায় চার মাস হজ্বের অগ্রিম নিবন্ধন

নভেম্বর ২৫, ২০১৫
ধর্ম, বিশেষ প্রতিবেদন
No Comment

Hajj-Regiহজ্বে গমনেচ্ছুরা ৩০ হাজার টাকায় বছরে চার মাস হজ্বের অগ্রিম নিবন্ধন করতে পারবেন। এক্ষেত্রে পূর্ববর্তী বছরের হজ্ব শেষ হওয়ার দুই মাস পর থেকে নিবন্ধন শুরু হবে। চলবে চার মাস। হজ্ব প্যাকেজ ঘোষণার পর নিবন্ধিতরা সরকার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করলে পাবেন পিলগ্রিম আইডি (পিআইডি)। পিলগ্রিম আইডি ছাড়া কেউ হজ্বে যেতে পারবেন না।

‘হজ্ব ও ওমরাহ নীতিমালা, ২০১৪’ সংশোধন করে এ বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। সচিবালয়ে মঙ্গলবার ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন ধর্মমন্ত্রী মতিউর রহমান।

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একটি কমিটি এ বিষয়গুলো যাচাই-বাছাইয়ের পর সংশোধিত নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করে তা অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভা বৈঠকে পাঠাবে।

নিবন্ধিত হজ্বযাত্রীদের মধ্যে যারা সরকার ঘোষিত সময়ের মধ্যে প্যাকেজের সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করতে পারবেন না তাদের নিবন্ধনের মেয়াদ পরবর্তী এক বছর পর্যন্ত থাকবে বলেও সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

ধর্ম সচিব চৌধুরী মো. বাবুল হাসান বলেন, ‘হজ্ব ও ওমরাহ নীতিমালা পরিবর্তন করে হজ্বযাত্রী নিবন্ধন ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। চার মাস ধরে অগ্রিম নিবন্ধন কার্যক্রম চলবে। এ সময়ে হজ্বে যেতে ইচ্ছুক যে কেউ ৩০ হাজার টাকা দিয়ে নিবন্ধন করতে পারবেন। এ সময় তিনি একটি নিবন্ধন নম্বর পাবেন। সংশোধিত নীতিমালায় এ বিষয়টি যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

তিনি প্রস্তাবিত নীতিমালার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, ‘এরপর সরকার হজ্ব প্যাকেজ ঘোষণা করে টাকা পরিশোধের সময় বেঁধে দেবে। এ সময়ে অগ্রিম নিবন্ধনের ৩০ হাজার টাকা সমন্বয় করা হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুরো টাকা পরিশোধ করলে হজ্বযাত্রীরা একটি পিলগ্রিম আইডি পাবেন। এ আইডি পেলেই হজ্বে যাওয়া নিশ্চিত হয়ে গেল।’

অগ্রিম নিবন্ধনের সময়ের বিষয়ে বাবুল হাসান বলেন, ‘পূর্ববর্তী বছরের হজ্ব শেষ হওয়ার দুই মাস পর থেকে নিবন্ধন শুরু হবে। চলবে চার মাস।’

‘অগ্রিম নিবন্ধিত হজ্বযাত্রীর সংখ্যা যদি কোটার চেয়ে বেশী হয়, তবে যিনি আগে নিবন্ধন করেছেন তিনিই আগে যাবেন। এক্ষেত্রে নিবন্ধন নম্বর বিবেচনায় নেওয়া হবে’ বলেন চৌধুরী মো. বাবুল হাসান।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্র (যাদের বয়স ১৮ বছরের বেশী) দিয়ে ইউনিয়ন তথ্য সেবা কেন্দ্র, হজ্ব এজেন্সির অফিস, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অফিস, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও হজ্ব অফিস থেকে অনলাইনে নিবন্ধন করা যাবে। অগ্রিম নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ৫০০ টাকা ফি দিতে হবে। এ ছাড়া জামানত হিসেবে দিতে হবে ৩০ হাজার টাকা।

সৌদি আরবের নির্ধারিত কোটা অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে এক লাখ এক হাজার ৭৫৮ জন হজ্বে যেতে পারেন। প্রতি বছর ৮ জিলহজ্ব পবিত্র হজ্ব অনুষ্ঠিত হয়। সে অনুযায়ী এ বছর হজ্ব শুরুর দিন ইংরেজি তারিখ ছিল ২২ সেপ্টেম্বর। আরবী মাস চাঁদের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় প্রতি বছর ইংরেজি তারিখ ১১ দিনের মতো পেছায়।

এবার হজ্ব মৌসুমের শুরুতেই বিপত্তিতে পড়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়। এ বছর হজ্বে যেতে কোটার চেয়ে ১০ হাজার হজ্বযাত্রী বেশী রেজিস্ট্রেশন করে। এরা ব্যাংকে টাকাও জমা দিয়েছিল। এ ছাড়া বেসরকারি এজেন্সিগুলোর কাছে হজ্বে যেতে আরও ২০ হাজার আবেদন ছিল। কোটার অতিরিক্ত হজ্বে গমনেচ্ছু ও এজেন্সিগুলো আন্দোলন-বিক্ষোভও করে। যদিও পরে হজ্বযাত্রীর কোটা আরও ৫ হাজার বৃদ্ধি করে সৌদি সরকার।

গত ১৩ আগস্ট হজ্ব কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, হজ্বযাত্রীদের নিবন্ধন নিয়ে জটিলতা এড়াতে সারা বছর রেজিস্ট্রেশন চালু করা হবে।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সভায় উপস্থিতি একজন কর্মকর্তা বলেছেন, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবনায় সারা বছরই হজ্ব নিবন্ধন কার্যক্রম চালু করার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু সভায় উপস্থিত কয়েকজন জানান, সারা বছর নিবন্ধন কার্যক্রম চালালে জটিলতা আরও বাড়বে। এটা ব্যবস্থাপনা করা সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই অগ্রিম নিবন্ধনের সময় চার মাস করার বিষয়ে সবাই একমত হন।

হজ্ব এজেন্সীস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)-এর সভাপতি ইব্রাহিম বাহার এ বিষয়ে বলেন, ‘অবশ্যই এটা ভাল হবে। আপনি একটা কাগজ সামনে এনে বললেন সই করে দেন, এটা তো ভাল না। বিষয়গুলো এখনো চূড়ান্ত নয়। এটি চূড়ান্ত হলে বিস্তারিত বলতে পারব।’

মন্ত্রিসভা বৈঠকে পাঠানোর জন্য সভায় নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো যাচাই-বাছাই করে ‘হজ্ব ও ওমরাহ নীতিমালা, ২০১৫’ চূড়ান্ত করতে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. শহীদুজ্জামানকে প্রধান করে একটি পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কাজ শেষ করতে কমিটিকে সময় দেওয়া হয়েছে সাত দিন।

হজ্বে যেতে খরচ বিবেচনায় গত কয়েক বছর ধরে দু’টি প্যাকেজ ঘোষণা করছে সরকার। চলতি বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্যাকেজ-১ এর মাধ্যমে হজ্ব পালনে খরচ ধরা হয় ৩ লাখ ৫৪ হাজার ৭৪৫ টাকা। অপরদিকে সাশ্রয়ী প্যাকেজ-২ এর মাধ্যমে ২ লাখ ৯৬ হাজার ২০৬ টাকা খরচ হয়। এ দু’টি প্যাকেজ বেসরকারি হজ্বযাত্রীদের জন্যও প্রযোজ্য।