Pages

Categories

Search

আজ- শুক্রবার ১৬ নভেম্বর ২০১৮

নিবন্ধিত ৮৩ শতাংশ কোম্পানিই কর দেয় না

নভেম্বর ১৫, ২০১৫
অনিয়ম, বিশেষ প্রতিবেদন
No Comment

company-TAX-1রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ এ্যান্ড ফার্মস (আরজেএসসি)-এ নিবন্ধিত কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৮৩ শতাংশই আয়কর দেয় না।

আরজেএসির তথ্য মতে, সংস্থাটির অনুকূলে নিবন্ধিত কোম্পানির সংখ্যা ১ লাখ ২৮ হাজার। এর মধ্যে ১২ হাজার কোম্পানি আরজেএসসিতে রি-রেজিস্ট্রেশনের সময় আর্থিক বিবরণী জমা দেয়।

অপরদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য মতে, দেশব্যাপী কোম্পানি পর্যায়ে করদাতা রয়েছে ৪৭ হাজার ৪৩৪টি। এর মধ্যে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েছে ২১ হাজার ৬৫০টি কোম্পানি।

অর্থাৎ আরজেএসসিতে নিবন্ধন নেওয়া কোম্পানির মধ্যে ৮৩ শতাংশই রিটার্ন জমা দেয় না।

প্রাপ্ত তথ্য মতে, ৪৫ হাজার কোম্পানি ই-টিআইএন রি-রেজিস্ট্রেশন নিয়েছে। অর্থাৎ এনবিআরের টিআইএনভুক্ত ৪৫ হাজার কোম্পানি রয়েছে। যারা ব্যবসায়িক প্রয়োজনে বিভিন্ন সময়ে এই ই-টিআইএন নিয়েছে। আর ২০১৪-১৫ অর্থবছরে আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েছে ২১ হাজার ৬৫০টি কোম্পানি।

সে হিসাবে, ব্যবসা পরিচালনা করলেও ৫২ শতাংশ কোম্পানি রিটার্ন জমা দেয় না। ব্যবসায়িক প্রয়োজনে কোম্পানিগুলো ই-টিআইএন নিয়েছে।

আয়কর অধ্যাদেশ অনুযায়ী, করযোগ্য আয় না থাকলেও ব্যক্তি বা কোম্পানি করদাতাদের রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক। ১৬সিসিসি ধারা অনুযায়ী, লাভ-ক্ষতি নির্বিশেষে কোম্পানি পর্যায়ের করদাতাদের দশমিক ৩০ শতাংশ কর দেওয়া বাধ্যতামূলক।

কোম্পানি সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও পেশাজীবীরা বলছেন, আইনগত বাধ্যবাধকতার কারণে অপেক্ষাকৃত ছোট কোম্পানিগুলো আয়কর রিটার্ন জমা দিতে আগ্রহী হয় না। শুধুমাত্র ব্যাংক ঋণসহ অন্যান্য সুবিধা পেতে তারা টিআইএন নেয়। আবার অনেক কোম্পানি আরজেএসসি থেকে নিবন্ধন নিলেও পরবর্তী সময়ে আর ব্যবসা পরিচালনা করে না। এ ধরনের কোম্পানির সঠিক হিসাব না থাকায় ব্যবসা পরিচালনা করা প্রতিষ্ঠান ও বন্ধ থাকা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পার্থক্য বাড়ছে। এ ছাড়া দেশের অন্যান্য অঞ্চলে অবস্থিত কোম্পানিগুলো টিআইএন ছাড়া ব্যবসা পরিচালনা করায় সেগুলো হিসাবের বাইরে থাকছে।

সম্প্রতি এনবিআরে বাজেট বাস্তবায়ন কর্মসূচি (বিআইপি) সভায় কোম্পানি করদাতাদের প্রকৃত করদায় নিরূপণে আলোচনা হয়। এতে সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), বাংলাদেশ ব্যাংক, এনবিআর ও আরজেএসসির মধ্যে যৌথসভা আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান বলেন, ‘কর জালের বাইরে থাকা কোম্পানিগুলোকে জরিপ, পরিদর্শনের মাধ্যমে করের আওতায় নিয়ে আসতে কর অঞ্চলগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কোম্পানি সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

আইসিএবির ভাইস প্রেসিডেন্ট কামরুল আবেদিন এফসিএ বলেন, ‘রিটার্ন দাখিল করা কোম্পানির সংখ্যা তুলনামূলক কম। তবে আরজেএসসি থেকে নিবন্ধন নিলেও বহু কোম্পানি কার্যক্রম পরিচালনা করছে না। কোম্পানিগুলোকে সুযোগ দিলে অনেকেই হয়ত নিবন্ধন প্রত্যাহার করে নিত।’